ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বরকত লাভের ৫ উপায়

· Prothom Alo

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দৈনন্দিন জীবনকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে যে আমাদের আধ্যাত্মিক উৎপাদনশীলতা (স্পিরিচুয়াল প্রোডাক্টিভিটি) ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দিনের শুরুটা হচ্ছে লক্ষ্যহীন অভ্যাসের মধ্য দিয়ে। ডিজিটাল আসক্তি থেকে বাঁচতে অনেকে স্মার্টফোন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন।

তবে অন্য একটি দল মনে করেন, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা আমাদের জীবনে বরকত বয়ে আনবে এবং এর নেতিবাচক ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করবে। সেক্ষেত্রে ৫টি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ দারুণ কার্যকর হতে পারে:

Visit h-doctor.club for more information.

আপনি নিজে যা ভালো কিছু শিখছেন, তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যা আপনার জন্য ‘সদকায়ে জারিয়া’ হিসেবে গণ্য হবে।

১. মুঠোফোনকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যম বানান

একটা সময় ছিল যখন বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করা ছিল কঠিন; মানুষকে এক একটি হাদিস বা মাসআলা জানার জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হতো, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হতো। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন তা হাতের মুঠোয়।

এই সুযোগকে আমাদের কাজে লাগানো উচিত। উদ্দেশ্যহীনভাবে সময় নষ্ট না করে ফোনটিকে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

ফোনে হাদিস, কোরআন বা বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ইসলামিক অডিও অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়। ইউটিউবকে চাইলে আখেরাত গোছানোর হাতিয়ার বানানো সম্ভব। ১০ মিনিটের একটি রূপচর্চা বা রান্নার ভিডিওর আত্মার খোরাক জোগাতে ১০ মিনিটের তথ্যবহুল ধর্মীয় আলোচনা কেন শুনতে পারব না?

প্রতিদিনের কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময়টুকুতে চমৎকার কোনো পডকাস্ট বা কোরআন তেলাওয়াত শুনে আমরা আমাদের ইমানকে শাণিত করতে পারি।

ইসলামে ধ্যান করার কার্যকর ৫ পদ্ধতি

২. ভার্চুয়াল পরিমণ্ডল পরিশোধন করুন

নিউজফিডে প্রতিদিন কী ধরনের পোস্ট ভেসে আসছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কারণ যা দেখি, যা পড়ি এবং যা শুনি, তা আমাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। একটু সময় নিয়ে ফ্রেন্ডলিস্ট বা ফলোয়িং লিস্টটি পরীক্ষা করুন।

দেখুন, আপনি যাদের ফলো করছেন, তাদের বার্তা কী।

হৃদয়ের পবিত্রতার জন্য ক্ষতিকর মনে হয়—এমন আইডি বা পেজকে আনফলো বা আনফ্রেন্ড করতে কঠোর হোন। এটি এক ধরনের মানসিক ও আত্মিক পরিশোধন। প্রাজ্ঞ আলেম ও নির্ভরযোগ্য ইসলামিক পেজগুলো ফলো করুন।

একই সঙ্গে আপনি নিজে যা ভালো কিছু শিখছেন, তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যা আপনার জন্য ‘সদকায়ে জারিয়া’ হিসেবে গণ্য হবে।

কোরআন, সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব।

বন্ধুদের সঙ্গে মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে এমন গ্রুপ তৈরি করা যেতে পারে যেখানে শুধু উপকারী জ্ঞান ও গঠনমূলক আলোচনা শেয়ার করা হবে।

৩. নোটিফিকেশন বন্ধ করে বাস্তবে উপস্থিত থাকুন

স্মার্টফোনের প্রতি মুহূর্তের টুংটাং শব্দ আমাদের মনোযোগের গভীরতা ব্যাহত করে। সারাক্ষণ নোটিফিকেশন চালু রাখা এবং যেকোনো মেসেজের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়ার মানসিকতা ইবাদত ও বাস্তব জীবনের গুণগত মান নষ্ট করে দেয়।

নামাজ, কোরআন পাঠ বা জিকিরের সময় পুরো মনোযোগ থাকা উচিত একমাত্র মহান আল্লাহর দিকে। মহাবিশ্বের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়িয়ে অন্য কোনো তুচ্ছ বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানায় না। ইবাদতে বসার আগে ফোনটি ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখুন।

১৫ মিনিট কারোর মেসেজের উত্তর না দিলে পৃথিবীর ক্ষতি হবে না, কিন্তু এই ১৫টি মিনিট নিখুঁতভাবে আল্লাহর স্মরণে কাটাতে পারলে তা আপনার পরকালের পাল্লাকে ভারী করবে।

১০ কারণে ইসলাম প্রতিবেশীর খবর রাখতে বলে

৪. সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সময়ের কসম খেয়ে বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষ চরম ক্ষতিতে নিমজ্জিত। তবে তারা ছাড়া—যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।” (সুরা আসর, আয়াত: ১-৩)

আল্লাহ–তাআলা সফলতার যে শর্তগুলো দিয়েছেন, মুঠোফোন স্ক্রলিংয়ের সময়টুকু তার সঙ্গে মিলছে কি না—তা ভাবা দরকার। ভার্চুয়াল সময়টুকু কি আমাদের সৎকাজ ও ইমান বাড়াতে সাহায্য করছে, নাকি আমাদের পরকালকে ধ্বংস করছে?

স্ক্রিনে ঠিক কতটা সময় ব্যয় করছি, তা পরিমাপ না করলে কখনো আসক্তি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। দিনে কতবার ফোন আনলক করা হচ্ছে বা কোন অ্যাপে কত ঘণ্টা সময় যাচ্ছে, তা ট্র্যাক করার জন্য বিভিন্ন ফ্রি বা পেইড অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তখন নিজের ভুলগুলো সংশোধন করা সহজ হবে।

এছাড়া কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করার সময় ব্রাউজারে অপ্রয়োজনীয় অসংখ্য ট্যাব খুলে রাখা আমাদের কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং মনোযোগ নষ্ট করে। তাই কাজের সময় শুধু প্রয়োজনীয় ট্যাবটিই খোলা রাখার অভ্যাস করুন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজে কোনো মন্দ বিষয় নয়; এর ব্যবহারই একে ভালো বা মন্দের রূপ দেয়। একে নিজের জীবনের ওপর চড়াও হতে না দিয়ে, এর লাগাম নিজের হাতে টেনে ধরুন।

৫. ভার্চুয়াল জীবনের কৃত্রিমতায় প্রতারিত হবেন না

মুঠোফোনের জগতে মনে হয়, চারপাশের সব মানুষের জীবন বুঝি নিখুঁত, সুন্দর এবং সুখে ভরপুর। অথচ ভার্চুয়াল জগতের প্রতিটি ছবি, প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি দৃশ্য অত্যন্ত মার্জিত ও ফিল্টার করা। কেউ তার জীবনের অন্ধকার, দুঃখের বা হতাশার গল্পগুলো ফেসবুকের দেওয়ালে খোলামেলা শেয়ার করে না।

এই কৃত্রিম জাঁকজমক দেখে যখন নিজের জীবনের তুলনা করা শুরু করি, তখন এক ধরনের বিষণ্ণতা বা হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। বিভিন্ন গবেষণাতেও দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের অতি-পর্যবেক্ষণ মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক অবসাদের জন্ম দেয়।

এই তুলনা আমাদের আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ করে তোলে। অথচ যে কোনো ইবাদতের মূল ভিত্তিই হলো ‘শোকর’ বা কৃতজ্ঞতা। অন্যের কৃত্রিম সুখের তুলনা আমাদের প্রাপ্তিগুলো ছোট করে দেয় এবং জীবনের বরকত আমরা হারিয়ে ফেলি।

আল্লাহ–তাআলা বলেছেন, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব।” (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজে কোনো মন্দ বিষয় নয়; এর ব্যবহারই একে ভালো বা মন্দের রূপ দেয়। একে নিজের জীবনের ওপর চড়াও হতে না দিয়ে, এর লাগাম নিজের হাতে টেনে ধরুন। আখেরাতের পুঞ্জীভূত নেকি অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করুন।

সুন্দর ইবাদতে সুস্থতার ৪ প্রভাব

Read full story at source