শিশুসহ নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
· Prothom Alo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভা। মানববন্ধনে সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাসহ সারা দেশের সব ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বন্ধুসভার সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, আইনজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি আবদুন নূরের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের উদ্যোক্তা ও পরিচালক হারুন অর রশিদ, খেলাঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক নেহার রঞ্জন সরকার, সময় টিভির ব্যুরো প্রধান উজ্জ্বল চক্রবর্তী, নদী ও প্রকৃতি রক্ষার সংগঠন তরী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শামীম আহমেদ ও সদস্য সোহেল রানা, আইনজীবী ও বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি তারেকুল ইসলাম, সাংবাদিক খন্দকার শফিকুল আলম, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক মাইনুদ্দীন রুবেল, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি শিক্ষক ইকবাল হোসেন ও বন্ধুসভার সাবেক সদস্য শাহাদাত হোসেন।
Visit syntagm.co.za for more information.
বক্তারা বলেন, ‘সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই দেশে মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়া কি পাপ? তাহলে কেন মেয়েশিশুসহ নারীদের জন্য বাংলাদেশে নিরাপদ পরিবেশ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও চার থেকে পাঁচটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি দায় স্বীকারে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারপরও কেন বিচারে এত দেরি।’
বক্তরা আরও বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই সারা দেশে আনাচকানাচে ধর্ষণ হচ্ছে। এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে এই দেশে শিশুসহ নারীরা নিরাপদ থাকবে না। দ্রুত রাজধানীর পল্লবীতে ঘটা শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাসহ সব ধর্ষক-নিপীড়কের বিচার কার্যকর করতে হবে।’
সরকারের প্রতি শিশু ও নারীদের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ বাসযোগ্য করার আহ্বান জানিয়ে বক্তরা বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার করুণ। তাহলে আর কোনো শিশুর দায়িত্ব নিতে হবে না। দেশ আজ জেগেছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে খারাপ দিন অপেক্ষা করছে। বিচারহীনতার বাংলাদেশ চলবে না। অনতিবিলম্বে স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামির বিচার করতেই হবে।’
কর্মসূচিতে জিল্লুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হক, স্কুলশিক্ষক সালমান ফারসি ও সামাজিক সংগঠন আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংগঠনের সদস্য পুলক দাস সংহতি প্রকাশ করেন। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সহসভাপতি অনন্যা সাহা ও শারমিন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা জেনি, সাংগঠনিক সাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলেয়া মাহমদু ও ফৌজিয়া হক নুপুর, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন শুভ, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক কৃষ্ণা মৈশ্বান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ফাহমিদা হক নিশিতাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদৎ হোসেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভা