ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা রুবিওর

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্রদেশগুলোকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন।

সুইডেনে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে রুবিও এ চেষ্টা করেন। এর আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে ৫ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। অথচ মাত্র গত সপ্তাহে পেন্টাগন পোল্যান্ডে পূর্বপরিকল্পিত ৪ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করেছিল। ট্রাম্প জার্মানি থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

Visit h-doctor.club for more information.

দ্রুত বদলাতে থাকা এসব ঘোষণা ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের (ন্যাটো) মিত্রদেশগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। গতকাল ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও এ নিয়ে বলেন, বৈশ্বিক অঙ্গীকারগুলোর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে নিজেদের সেনা উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে বেশ কিছু মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প যখন পোল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন, তখন সুইডেনে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক চলছিল।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

পোল্যান্ডে গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাভরোকিকে সমর্থন করেছিলেন ট্রাম্প। নাভরোকিও দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের সমর্থক।

মার্ক রুটে,  ন্যাটো মহাসচিবইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর যে প্রবণতা, তা অব্যাহত থাকবে

অতিরিক্ত সেনারা আগের বাতিল হওয়া পরিকল্পনার অংশ, নাকি নতুন কোনো অভিযানের অংশ, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিস্তারিত জানাননি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর গত সপ্তাহে হঠাৎ ঘোষণা দেয় যে তারা পোল্যান্ডে ৪ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করছে।

এর আগে এ মাসে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মধ্যে বিরোধের পর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করবে।

অতিরিক্ত যে মার্কিন সেনা পোল্যান্ডে পাঠানো হবে, তারা জার্মানি থেকে প্রত্যাহার করা সেনাদের অংশ, নাকি আলাদা কোনো দল—তা–ও স্পষ্ট নয়।

আপাতদৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের এ পরস্পরবিরোধী ঘোষণাগুলোর পরবর্তী পরিস্থিতিতে সুইডেনের হেলসিংবার্গে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড অন্যান্য ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে গিয়ে বলেন, ‘এটি (যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী ঘোষণা) সত্যিই বিভ্রান্তিকর এবং সব সময় সহজে বোঝা বা সামলানো যায় না।’

এ নিয়ে রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি সমন্বয় করতে চলেছে সেটা জোটের সবার ভালোভাবেই বুঝতে পারার কথা।’

রুবিও আরও বলেন, ‘আগে থেকেই এ প্রক্রিয়া চলমান ছিল এবং তা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে।’

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সেনা উপস্থিতি জার্মানিতে। সেখানে ৩৬ হাজারের বেশি সেনা সক্রিয় রয়েছেন। ইতালিতে প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। এ ছাড়া পোল্যান্ডে রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার সেনা।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি এটা বলছি না যে তারা এতে খুবই উচ্ছ্বসিত হতে চলেছে। তবে তারা অবশ্যই এ সম্পর্কে অবগত।’

ন্যাটোর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র। এ ইউরো-আটলান্টিক সামরিক জোটে ইউরোপের ৩০টি দেশ এবং কানাডা অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোতে সেনা মোতায়েন করে আসছে। মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলা করতে একটি প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে ন্যাটোর যাত্রা শুরু হয়।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা ওয়াশিংটনকে তাদের প্রতিরক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে অনুরোধ করে আসছে।

পোল্যান্ডে আরও ৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সেনা উপস্থিতি রয়েছে জার্মানিতে। সেখানে ৩৬ হাজারের বেশি সেনা সক্রিয় রয়েছেন। ইতালিতে প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। এ ছাড়া পোল্যান্ডেও প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র) নীতির অংশ হিসেবে ইউরোপে মোট সেনা উপস্থিতির সংখ্যা কমাতে চায়।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর যে প্রবণতা, তা ‘অব্যাহত থাকবে’।

সুইডেনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ইউরো-আটলান্টিক জোটে মার্কিন অবদান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সব সময়ই বিতর্ক ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝি, ন্যাটো ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তা হওয়াও উচিত। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে হবে।’

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বিরোধ, ৫ হাজার সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Read full story at source