তানোরে বিএনপি নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর
· Prothom Alo

রাজশাহীর তানোরে সাবেক পৌর মেয়র ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই এক তরুণকে আটক করেছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার তানোর বাজারের কুঠিপাড়া রোডে অবস্থিত বরেন্দ্র ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ভবনের চতুর্থ তলায় বিএনপি নেতার মালিকানাধীন বরেন্দ্র কেব্ল টিভি নেটওয়ার্কের সার্ভার রুম ও কন্ট্রোল রুম রয়েছে।
Visit orlando-books.blog for more information.
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালে যুবলীগ নেতা লুৎফর হায়দার রশিদ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ডিশের ব্যবসা নিজের দখলে নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পটপরিবর্তনের পর মিজানুর রহমান তাঁর কাছ থেকে ডিশ ব্যবসার দখল ছিনিয়ে নেন। এরপর ওই হামলার ঘটনার ঘটল।
হামলাকারী তরুণের নাম মেহেদী হাসান (২৫)। তাঁর বাড়ি উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম খাজেম আলী। ওই তরুণের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাঁর চাচা জালাল উদ্দিন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তানোর পৌর জামায়াতের আমির দাবি করেছেন, জালালের ভাতিজা কোনোভাবেই তাঁদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় ভবনে কেউ না থাকার সুযোগে ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন মেহেদী। পরে তিনি ভবনের চারতলায় অবস্থিত বরেন্দ্র কেব্ল টিভি নেটওয়ার্কের সার্ভার রুম ও কন্ট্রোল রুমে ঢুকে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন। ঘটনাটি টের পেয়ে পথচারীরা পুলিশে খবর দিলে তানোর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁকে আটক করা হয়। আটকের সময় তিনি নিজেকে বাঁচাতে পাগলের ভান করেন এবং ছাদ থেকে একটি এসি ফেলে দেন। এ সময় তিনি ইট ছুড়ে জনতার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেহেদী সরাসরি চারতলায় উঠে সার্ভার ও কন্ট্রোল রুমে ভাঙচুর চালান। ভাঙচুরের আগে তিনি ওই কক্ষের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় তাঁর কাছে হাতুড়ি, বড় হাঁসুয়া, প্লাসসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা সোগান বলেন, ‘হঠাৎ দেখি, ভবনের ভেতর থেকে ভাঙচুরের শব্দ আসছে। পরে লোকজন জড়ো হলে পুলিশে খবর দিই। অনেক দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট করা হয়েছে।’
স্থানীয় শামসুল বলেন, ‘ওই তরুণ অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলাম। পরে সবাই মিলে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনি।’
বরেন্দ্র কেব্ল টিভি নেটওয়ার্কের ইলেকট্রিশিয়ান জাকির হোসেন বলেন, সার্ভার রুমের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাসুম বলেন, এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে। কারণ, তিনি সরাসরি সার্ভার ও কন্ট্রোল রুমে গিয়ে ভাঙচুর করেছেন এবং আগে থেকেই বিদ্যুৎ–সংযোগ কেটে দিয়েছেন।
বরেন্দ্র কেব্ল টিভি নেটওয়ার্কের মালিক ও সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেহেদী নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। জনতার হাতে আটক হওয়ার সময়ই তিনি আহত হয়েছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথাই বলতে পারেননি। তবে তিনি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী, এটুকু শুধু তাঁরা জানতে পেরেছেন।