জুতা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম, শীর্ষে চীন

· Prothom Alo

বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮২৮ কোটি। গত বছর তাদের জন্য গড়ে ৩ জোড়া জুতা উৎপাদিত হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে জুতা উৎপাদন দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৬০ কোটি জোড়া। এই জুতার ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ উৎপাদন করেছে এশিয়ার দেশগুলো।

Visit fish-roadgame.online for more information.

বরাবরের মতো জুতা উৎপাদনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। গত বছর দেশটি ১ হাজার ৩৬৬ কোটি জোড়া জুতা তৈরি করেছে। এরপরের দুই অবস্থানে আছে ভারত ও ভিয়েতনাম। আর বাংলাদেশ সপ্তম শীর্ষ জুতা উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৫৫ কোটি জোড়া জুতা তৈরি করেছে।

পর্তুগিজ ফুটওয়্যার, কম্পোনেন্টস অ্যান্ড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এপিআইসিসিএপিএস) উদ্যোগে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক ২০২৬–এ এমন চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, বিশ্বে গত বছর (২০২৫ সালে) জুতা উৎপাদন শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪৬০ কোটি জোড়ায় দাঁড়ায়। তবে ২০২৪ সালে জুতা উৎপাদন বেড়েছিল প্রায় ১০ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি জুতা তৈরি করে কারা

বছরে বিশ্বে যত জুতা তৈরি হয়, তার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশই হয় দশ দেশে। তার মধ্যে চীনেই তৈরি হয় ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গত বছর দেশটি ১ হাজার ৩৬৬ কোটি জোড়া জুতা তৈরি করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারত তৈরি করেছে ৩০০ কোটি জোড়া জুতা, বিশ্বের জুতার বাজারে তাদের হিস্যা ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

ভিয়েতনাম বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ জুতা উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর দেশটি ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ জোড়া জুতা তৈরি করেছে। তালিকায় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শীর্ষ জুতা উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ব্রাজিল ৮৪ কোটি ৮০ লাখ, ইন্দোনেশিয়া ৭৮ কোটি ২০ লাখ এবং পাকিস্তান ৬২ কোটি ৭০ লাখ জোড়া জুতা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম শীর্ষ জুতা উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর ৫৫ কোটি ৪০ লাখ জোড়া জুতা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ২ দশমিক ৩ শতাংশ। তারপরের শীর্ষ ১০ জুতা উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে তুরস্ক, কম্বোডিয়া ও মেক্সিকো।

রপ্তানিতে চীনের হিস্যা কমছে

জুতা রপ্তানিতে এশিয়ার দেশগুলো আধিপত্য দেখাচ্ছে। বিশ্বে রপ্তানি হওয়া মোট জুতার ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশই এশিয়া থেকে গেছে। তবে এই পণ্যের শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারকের মধ্যে বাংলাদেশ নেই। জুতা রপ্তানিতে শীর্ষ ১০ দেশ হচ্ছে চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি, ভারত, কম্বোডিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও তুরস্ক।

গত বছর চীন প্রায় ৯০১ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে, যা বিশ্ব রপ্তানির ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে এক দশক আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালে বিশ্ব জুতা রপ্তানিতে চীনের হিস্যা ছিল ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, বাণিজ্যযুদ্ধসহ নানা কারণে চীনের রপ্তানি হিস্যা কমছে। চীনের হারানো ব্যবসার বড় অংশ পাচ্ছে ভিয়েতনাম।

ভিয়েতনাম গত বছর ১৬৬ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে। বৈশ্বিক জুতা রপ্তানিতে তাদের হিস্যা ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৫৮ কোটি, জার্মানি ৩৬ কোটি এবং ভারত ২৭ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে।

ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুকের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মোট জুতা রপ্তানিতে ইউরোপের হিস্যা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে প্রতি জোড়া জুতার গড় রপ্তানিমূল্যে এশিয়ার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপ। এই মহাদেশের রপ্তানিকারকেরা প্রতি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে গড়ে ৩৪ দশমিক ৭৬ মার্কিন ডলারে। এশিয়ার রপ্তানিকারকেরা প্রতি জোড়া জুতায় গড় মূল্য পায় ৮ দশমিক শূন্য ২ ডলার।

আবার আমদানির ক্ষেত্রে বিশ্বের জুতার সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপ। গত বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য হওয়া মোট জুতার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ আমদানি করে মহাদেশটি। এ ক্ষেত্রে এশিয়ার হিস্যা সাড়ে ২৫ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ। জুতা আমদানিতে উত্তর আমেরিকার হিস্যা কমেছে। ২০১৬ সালে এই হিস্যা ছিল ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশ বেড়েছে।

জুতার চাহিদা বেশি এশিয়ায়

২০২৫ সালে বিশ্বে জুতার চাহিদার প্রধান কেন্দ্র ছিল এশিয়া। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জুতার ৫৬ শতাংশই ছিল এই মহাদেশের মানুষের দখলে। বৈশ্বিক বাজারে এশিয়ার অংশ বেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, জুতাশিল্প ক্রমেই এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি এই অঞ্চলের ভোক্তারাও ভূমিকা রাখছেন।

অবশ্য এশিয়ায় জুতার বিপুল চাহিদার পেছনে মাথাপিছু ব্যবহারের চেয়ে জনসংখ্যার প্রভাবই বেশি। ২০২৫ সালে এশিয়ায় মাথাপিছু জুতা ব্যবহারের গড় ছিল ২ দশমিক ৬ জোড়া, যা উন্নত ও পরিণত বাজারগুলোর তুলনায় অনেক কম।

গত বছর মাথাপিছু জুতা ব্যবহারে শীর্ষে ছিল উত্তর আমেরিকা। সেখানে একজন মানুষ বছরে গড়ে ৪ দশমিক ৬ জোড়া জুতা ব্যবহার করেছেন। ইউরোপে এই গড় হচ্ছে ৪ দশমিক ১ জোড়া। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশের মানুষের মাথাপিছু জুতা ব্যবহারের গড় মাত্র ১ দশমিক ৬ জোড়া। এতে বোঝা যায়, ক্রয়ক্ষমতা ও জুতার সাশ্রয়ী মূল্য এখনো আফ্রিকায় চাহিদা বৃদ্ধির পথে বড় বাধা।

Read full story at source