১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিলের রায় স্থগিত, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা নেই

· Prothom Alo

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিল করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত হয়েছে। হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

Visit librea.one for more information.

ফলে ওই শর্তের ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রধান শিক্ষক প্রার্থীদের ১৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠেয় মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন অ্যার্টনি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং সংশোধিত নীতিমালার অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ৪৬ জন সহকারী প্রধান শিক্ষকের করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ২৩ জুলাই হাইকোর্ট ওই রায় দেন। এ রায় স্থগিত চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব আপিল বিভাগে আবেদনটি করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন ও আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর।

জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় গত ১০ মার্চ সংশোধনী আনা হয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংশোধিত নীতিমালার মাধ্যমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়। অভিজ্ঞতার এই শর্তসংবলিত অংশটুকু চ্যালেঞ্জ করে ৪৬ শিক্ষক রিট করেন। হাইকোর্ট নীতিমালার অংশটুকু বাতিল ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। হাইকোর্টের রায় স্থগিত হওয়ায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রধান শিক্ষক প্রার্থীদের ১৫ অক্টোবর হতে অনুষ্ঠেয় মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে কোনো বাধা থাকছে না।’

রিট আবেদনকারীদের অন্যতম আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। নিয়মিত লিভ টু আপিল করা পর্যন্ত সময়ের জন্য এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রিট আবেদনকারীদের জন্য প্রধান শিক্ষকের ৪৬টি পদ সংরক্ষণ তথা শূন্য রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে শুরু

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবীর তথ্যমতে, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ প্রজ্ঞাপন আকারে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়। তাতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হতে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ এপিওভুক্ত পদে মোট ১৭ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। নীতিমালার এই অংশটুকু চ্যালেঞ্জ করে মো. আসাদুজ্জামানসহ ৪৬ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন।

এরপর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫–এর কয়েকটি অনুচ্ছেদে গত ১০ মার্চ সংশোধনী আনা হয় বলে জানায় রিট আবেদনকারীপক্ষ। তাতে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ এপিওভুক্ত পদে মোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। সংশোধনীর এই অংশটুকু নিয়ে সম্পূরক আবেদন করেন রিট আবেদনকারীরা। এর শুনানি নিয়ে গত ৯ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল দেন। রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে সম্পূরক রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ২৩ জুলাই রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায় স্থগিত করে ৪৬টি পদ সংরক্ষণ করতে নির্দেশসহ আদেশ দেওয়া হয়।

Read full story at source