‘ইডির চেয়েও ভয়ংকর এবি’, তৃণমূল ছেড়ে বললেন মমতাঘনিষ্ঠ মদন মিত্র
· Prothom Alo

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র দল ছেড়ে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্ত, বাড়িতে তল্লাশি এবং সম্প্রতি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলবের ঘটনার মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
Visit michezonews.co.za for more information.
আজ বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে মদন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলে রইলাম। শুধু এক ঘর থেকে আরেক ঘরে এলাম।’
দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মদন মিত্র বলেন, ‘আজ ইডির চেয়েও ভয়ংকর এবি (অভিষেক)। তৃণমূলে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। হিটলারি কায়দায় দল চালানো হচ্ছিল। তাই দল ছাড়লাম।’
গতকালই মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই ছেলের ডাক পড়ে ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট’–এর কলকাতার দপ্তর সিজিও কমপ্লেক্সের দপ্তরে। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মদন মিত্রের একাধিক বাসভবন ও দপ্তরে ইডি তল্লাশি চালায়। গতকাল ইডি নোটিশ দেয় মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র, দুই পুত্র স্বরূপ মিত্র ও অভিরূপ মিত্রকে। ২২ ও ২৩ জুলাই ব্যাংকের প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে তাঁদের ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
এর আগে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি কামারহাটি ও টিটাগড় পৌরসভায় ১২৫ জনকে চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন প্রচুর অর্থ এবং সোনা নিয়ে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মদন মিত্র আজ বলেন, ‘প্রমাণ করুন মদন মিত্র টাকা নিয়ে কাউকে চাকরি দিয়েছেন? ২৭ মাস জেল খাটলেও এত দিন দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলিনি। আজ খুললাম।’
লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের লোকসভার তৃণমূল–বিরোধী এনসিপিআই সংসদীয় দলের নেতা হলেন তৃণমূলের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানের এনসিপিআই দলের সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ সদস্যের মধ্যে ২০ সদস্য ইতিমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা নতুন করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দরবারে লোকসভায় তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন ১৪ জুন। ২০ জুলাই শুরু হচ্ছে লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন। এনসিপিআই দল আশা প্রকাশ করছে, স্পিকার এবার তাদের আবেদন গ্রহণ করে লোকসভায় আলাদাভাবে বসার অনুমতি দেবেন। যদিও এনসিপিআই দলের সংসদীয় সদস্যের মধ্যে মুখ্য সচেতক করা হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। আর ডেপুটি লিডার করা হয়েছে শতাব্দী রায়কে।