দেশমের তিরের নিশানায় রেফারি

· Prothom Alo

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ১৪ বছরে তাঁকে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অভিযোগ ছিল, দিদিয়ের দেশম অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগী এবং দলে থাকা অসাধারণ সব আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে খেলতে দেন না।

তবে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিজের শেষ টুর্নামেন্টে কৌশলগত দিক থেকে সেই অবস্থান কিছুটা বদলেছিলেন দেশম। যদিও সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্য আগের মতোই ছিল।

Visit betsport24.es for more information.

এই বিশ্বকাপে ফ্রান্স কয়েক সপ্তাহ ধরে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। কিন্তু প্রথম সত্যিকারের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতেই তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলল। মনে হয়েছে এই ম্যাচে ফ্রান্সের আরও একটু ‘দেশম-ধাঁচের’ ফুটবলেরই প্রয়োজন ছিল।

বরং এই টুর্নামেন্টে দেখা গেছে এমন এক ফ্রান্সকে, যাদের গত এক দশক ধরেই দেখা যেতে পারত। ছন্দ, সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতায় ভরপুর এক দল। এমন ফুটবলই অনেকের মনে ১৯৮০–এর দশকের শুরুর ও মাঝামাঝি সময়ের দুর্দান্ত ফরাসি দলের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। কেউ আবার এই দলকে ২০০২ সালের পরাক্রমশালী ব্রাজিল দলের সঙ্গেও তুলনা করেন। তবে সেসব তুলনা অসাড় করে দিয়েছে স্পেন। ডালাসে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পাত্তাই দেয়নি দে লা ফুয়েন্তের দল।

ফ্রান্সকে খেলতে না দিয়ে যেভাবে ফাইনালে উঠল স্পেন

‘অপ্রয়োজনীয়’ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদ দিলে সেমিফাইনালের এই হারে শেষ হয়ে গেল ফরাসি ফুটবলের দেশম–অধ্যায়ও। গতকাল রাতে ২–০ গোলের হারে ফাইনালে যেতে না পারলেও দেশমের অর্জন কিন্তু কম নয়। একটি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনাল ও একটি সেমিফাইনালে তুলেছেন দলকে। ইউরোতেও ফ্রান্সকে একবার ফাইনাল ও একবার সেমিফাইনালে নিয়েছেন। ১৪ বছরে পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে চারটিতেই শেষ চারে ওঠা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন।

শিষ্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন দেশম

তবে মুদ্রার অন্য পিঠও আছে। দেশমের হাতে ছিল একের পর এক অসাধারণ প্রতিভায় ভরা প্রজন্ম। সেই বিবেচনায় এত প্রতিভাবান দল নিয়ে মাত্র একটি শিরোপা জেতাকে অনেকে ন্যূনতম প্রত্যাশা পূরণ বলেই মনে করতে পারেন। তবে তর্ক–বিতর্ক বাদ দিলে দেশমের নামের পাশে অসংখ্য মাইলফলকও আছে। আপাতত অবশ্য সেসব ভুলে সেমিফাইনালে হারটা হজম করার চেষ্টা করতে হচ্ছে দেশমকে। একেবারে অপ্রত্যাশিত লড়াইহীন এক আত্মসমর্পণ!

এমন ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের ভেঙে পড়ার কথা বলেছেন দেশম। একই সঙ্গে আঙুল তুলেছেন এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনের প্রতিও।

প্রথমার্ধে লুকাস দিনিয়ে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করলে স্পেনকে পেনাল্টি দেন এল সালভাদরের এই রেফারি। দেশম বলেন, ‘আমি একটা প্রশ্ন করব, তবে তার উত্তর দেব না। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার জন্য এই রেফারি কি প্রয়োজনীয় মানের ছিলেন? শুধু আজ আমরা হেরেছি বলেই এটা বলছি না। ম্যাচে এমন অনেক পরিস্থিতি ছিল। অবশ্য কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষেও গেছে।’

বিবর্ণ ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

ডালাস স্টেডিয়ামে হারের পর হতাশার কথাও বলেন দেশম, ‘অবশ্যই হতাশা অনেক। আমাদের খেলোয়াড়েরা ভেঙে পড়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়। তবে বাস্তবতাও মেনে নিতে হবে। আজ কৌশলগত দিক থেকে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। স্পেন ম্যাচটি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

তবে এই হারে দেশম কাউকে দোষারোপ করেননি। হারের দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে ফরাসি কোচ বলেছেন, ‘সবার আগে এটা আমাদেরই ব্যর্থতা। আমি এর জন্য অন্য কাউকে দোষ দিতে চাই না।’

Read full story at source