বিচ্ছেদের পর সত্যিই কি সুজানকে ৪০০ কোটি রুপি দিয়েছিলেন হৃতিক

· Prothom Alo

বলিউড তারকা হৃতিক রোশন ও তাঁর সাবেক স্ত্রী সুজান খানের বিচ্ছেদ নিয়ে বহু বছর ধরেই একটি গুঞ্জন ঘুরে বেড়াচ্ছে—বিচ্ছেদের সময় নাকি সুজান ৪০০ কোটি রুপি খোরপোশ দাবি করেছিলেন, এমনকি সেই অর্থ পেয়েছিলেনও। দীর্ঘদিনের সেই আলোচিত গুঞ্জন এবার সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সুজানের বোন—গয়না ডিজাইনার ফারাহ খান আলী।

Visit newsbetting.bond for more information.

সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারাহ বলেন, ৪০০ কোটি রুপির খোরপোশের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর ভাষ্য, হৃতিক ও সুজানের বিচ্ছেদ ছিল পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে, আর সেই কঠিন সময়টিও তাঁরা অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে সামলেছেন।

‘সবাই অবাক হয়েছিল’
বিচ্ছেদের সময়ের পরিস্থিতি স্মরণ করে ফারাহ বলেন, ‘সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল। চারদিকে অনেক হইচই হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের মতামত দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, তাঁরা দুজনই বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে সামলেছেন। বিচ্ছেদটা ছিল সম্পূর্ণ সৌহার্দ্যপূর্ণ।’

এরপরই বহু আলোচিত ৪০০ কোটি রুপির গুঞ্জন নিয়ে ফারাহ স্পষ্ট অবস্থান নেন।
‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে একটা কথা বলতে চাই—কখনোই ৪০০ কোটি রুপির কোনো খোরপোশ ছিল না। এখনো যখন দেখি মানুষ অনলাইনে লিখছে যে হৃতিক ৪০০ কোটি রুপি দিয়েছেন, আর সুজান সেই টাকায় আরও ধনী হয়েছেন, তখন সত্যিই ভীষণ কষ্ট লাগে। কারণ, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

‘সুজান কোনো অর্থই নেননি’
ফারাহ আরও দাবি করেন, বিচ্ছেদের সময় সুজান কোনো অর্থই গ্রহণ করেননি।
ফারাহ বলেন, ‘এই গুজব পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমাদের মা ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছেন, সম্পর্ক সব সময় সম্পদের চেয়ে বড়।’

সুজান ও হৃতিক। কোলাজ

ফারাহর মতে, সেই মূল্যবোধের কারণেই আজও সুজানের সঙ্গে শুধু হৃতিক নন, তাঁর বাবা রাকেশ রোশন ও মা পিঙ্কি রোশানের অত্যন্ত আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে।
‘আজও সাবেক স্বামী হৃতিক এবং সাবেক শ্বশুর-শাশুড়ি রাকেশ রোশন ও পিঙ্কি রোশানের সঙ্গে সুজানের অসাধারণ সম্পর্ক। তাঁরা সবাই সুজানকে খুব ভালোবাসেন,’ বলেন ফারাহ।

‘বিচ্ছেদ থেকে আর্থিক লাভবান হননি’
ফারাহ স্পষ্ট করে বলেন, সুজান কখনোই বিচ্ছেদকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উপায় হিসেবে দেখেননি।

ফারহর ভাষায়, সুজান একটি সম্মানিত পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি সব সময় অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে নিজের জীবন কাটিয়েছেন। সুজান আর হৃতিক—দুজনই ভদ্র ও মর্যাদামান মানুষ। তাঁদের দাম্পত্য টেকেনি, কিন্তু তাঁরা সেটিকে কখনো জনসমক্ষে নাটকে পরিণত করেননি।’

ফারাহ আরও যোগ করেন, ‘এই বিচ্ছেদে কোনো খোরপোশের বিষয়ই ছিল না। এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভুল এবং অত্যন্ত নেতিবাচক।’

‘মানুষ কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায়–আসে না’
ফারাহ জানান, ২০১৪ সালে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি বারবার সুজানকে অনুরোধ করেছিলেন, ৪০০ কোটি রুপির গুঞ্জনটি প্রকাশ্যে অস্বীকার করতে। কিন্তু সুজান তাতে রাজি হননি।
ফারাহ স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমি ওকে বলেছিলাম, “তুমি এসব গুজবের প্রতিবাদ করছ না কেন?”’

সেদিন রাত ২টায় কৃতিকে কেন কল করেছিলেন হৃতিক

জবাবে সুজান বলেছিলেন, ‘মানুষ আমার সম্পর্কে কী ভাবছে, তাতে আমার কিছু–যায় আসে না।’

ফারাহর মতে, এটাই তাঁদের পরিবারের মানসিকতা। ‘আমরা কখনোই মানুষের মতামত দিয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করি না, যদি না সেই মানুষ আমাদের জীবনে সত্যিই কোনো মূল্য যোগ করেন।’

বন্ধুত্ব থেকে বিয়ে, বিচ্ছেদের পরও বন্ধুত্ব অটুট
শৈশবের বন্ধু ছিলেন হৃতিক রোশন ও সুজান খান। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়, ঠিক হৃতিকের প্রথম ছবি ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ মুক্তির পরপরই।
২০১৩ সালে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের কারণে এবং পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে দুজনকে এখনো প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। দুজনেই সমানভাবে দুই সন্তানের দেখভাল করেন।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

Read full story at source