জিন এসে যদি বলে, বিশ্বকাপ জিতব তাহলে কোথাও সাক্ষাৎকার দেব না: জামাল ভূঁইয়া

· Prothom Alo

প্রশ্ন: ম্যাচের আগে যদি কেউ বলে, ‘আজ গোল দিলে বিরিয়ানি ফ্রি’, তাহলে আপনার পারফরম্যান্সে কত শতাংশ উন্নতি হবে?

Visit turconews.click for more information.

জামাল ভূঁইয়া: গোল দেওয়ার প্রসঙ্গটা এলে হয়তো বিরিয়ানি খেতে মন্দ লাগবে না। তবে আমার নিজের কিন্তু বিরিয়ানি খুব একটা পছন্দ না। খাবারের মধ্যে সাদা ভাত আর সবজি বেশি পছন্দ। সব সময় সবজিটা বেশি খাওয়া হয়।

প্রশ্ন: পেনাল্টি নেওয়ার সময় বেশি চাপ লাগে নাকি বাসায় গিয়ে ‘আজ এত দেরি কেন?’ প্রশ্নের উত্তর দিতে?

জামাল ভূঁইয়া: পেনাল্টি নেওয়ার সময় মোটেও চাপ লাগে না, যতটা বাসায় গিয়ে শুনতে হয়, আজ এত দেরি কেন। আসলে এই কথাটা প্রায়ই শুনতে হয়। (হাসি)

প্রশ্ন: ফুটবলার না হলে কোন পেশায় যেতেন—শেফ, অভিনেতা নাকি ফুলটাইম ঘুমবিশেষজ্ঞ?

জামাল ভূঁইয়া: ফুটবলার না হলে ব্যবসায়ী হতাম। কারণ, আমার বাসায় সবাই ব্যবসায়ী। আর ব্যবসার মধ্যে আমার সুপারমার্কেটের ব্যবসা বেশি পছন্দের। সেদিকেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতাম। ভবিষ্যতে খেলাধুলায় যখন থাকব না তখন হয়তো আমাকে ব্যবসায়ী হিসেবে পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: আপনার মোবাইলের স্ক্রিনটাইম বেশি নাকি মাঠে বলের সঙ্গে কাটানো সময়?

জামাল ভূঁইয়া: মাঠে বলের সঙ্গে কাটানো সময়টা সবচেয়ে বেশি। কারণ, প্রতিদিনই আমি মাঠে থাকি। ফুটবলটাই তো আমার সব। মোবাইল ফোন আমি সাধারণত সব কাজ শেষ করে তারপর দেখি। সকালে যখন ঘুম থেকে উঠি তখন আর লাঞ্চ অথবা ডিনারে কিছু সময়ের জন্য মোবাইল স্ক্রল করি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয় না।

প্রশ্ন: ছোটবেলায় বাসার কাচ বেশি ভেঙেছেন নাকি প্রতিপক্ষের ডিফেন্স?

জামাল ভূঁইয়া: কাচ ভাঙা হয়নি। হলেও দু–একবার, সেটা মনেও নেই। আমি তো সব সময় মিডফিল্ডে খেলেছি। সে হিসেবে যদি বলি, প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙা হয়েছে, অনেকবার।

প্রশ্ন: আপনি তো বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, যদি এক ম্যাচের জন্য বাংলাদেশের কোচ আর স্ট্রাইকারও হতে হয়, প্রথমে কাকে বকাঝকা করবেন?

জামাল ভূঁইয়া: আমি তো বাংলাদেশের অধিনায়ক আছি। বাকি দুজনও কিন্তু বাংলাদেশ দলের মাধ্যমে বাংলাদেশকেই প্রতিনিধিত্ব করছে। তাই কাউকে বকাঝকা করার প্রশ্নই আসে না। সবার সঙ্গে সবাই মিলমিশ করে চলবে। সবার বোঝাপড়া ঠিক থাকে যেন, সেই চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: ধরুন, এক জিন এসে বলল—‘বিশ্বকাপ জিতবেন, তবে এক বছর ফুটবল নিয়ে কোনো সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না’, রাজি হবেন?

জামাল ভূঁইয়া: কী বলে, কেন হব না! অবশ্যই রাজি হব। জিন এসে যদি বলে, বিশ্বকাপ জিতব, তাহলে কোথাও সাক্ষাৎকার দেব না। এক বছর কেন, তিন বছরও হতে পারে সময়টা। এটা তো একটা স্বপ্নপূরণ।

প্রশ্ন: মাঠে প্রতিপক্ষের ট্যাকল বেশি কষ্ট দেয় নাকি আত্মীয়দের প্রশ্ন—‘ফুটবল খেলে আসলে আয়রোজগার কেমন?’

জামাল ভূঁইয়া: বাংলাদেশে ফুটবল কিন্তু একটা চাকরি। এখানে ভালো খেললে ভালোই স্যালারি পাওয়া যায়। মানুষ জিজ্ঞেস করে, কারণ, তাদের ফুটবল খেলা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে আগ্রহ আছে। আয়রোজগার কেমন, এটা নিয়ে তো আরও বেশি। তাই এমন প্রশ্ন আত্মীয়স্বজন নয়, বন্ধুবান্ধবদের কাছেও শুনতে হয়। এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার, তাই কষ্ট দেয় না এসব প্রশ্ন।

প্রশ্ন: যদি আপনার জীবন নিয়ে সিনেমা হয়, নিজের চরিত্রে কাকে নিতে চাইবেন—নিজেকে নাকি এমন কাউকে যে আপনার চেয়ে একটু বেশি হ্যান্ডসাম?

জামাল ভূঁইয়া: নিজেকে তো সিনেমায় নায়ক হিসেবে একেবারে চাই না। আমি মনে করি, একজন ভালো অভিনয়শিল্পী বাছাই করতে হবে। আমার চেয়ে একজন ভালো অভিনয়শিল্পীই পারবেন আমার চরিত্রটা পর্দায় ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে। দরকার হলে, আমি ওই অভিনয়শিল্পীকে গ্রুমিং করাব।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রীতি ম্যাচ হলে আপনি কার জার্সি পরে মাঠে নামবেন, আর ম্যাচ শেষে কার হয়ে জয় উদ্‌যাপন করবেন?

জামাল ভূঁইয়া: অবশ্যই বাংলাদেশ। কারণ, আমি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, বাংলাদেশই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। ম্যাচ শেষে অবশ্যই আমার বাংলাদেশের হয়ে জয়টা উদ্‌যাপন করব।

প্রশ্ন: আপনি যদি এক দিনের জন্য লিওনেল মেসি হয়ে যান, প্রথম কাজ কী করবেন?

জামাল ভূঁইয়া: আসলেই তো, কী করব! কিছুই করব না। মেসি তো মেসিই। মেসি নিজে কিছু করে না, সে বদলে যায় না। তার মতো করেই খেলে যায়।

প্রশ্ন: আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ কে—প্রতিপক্ষ দলের মিডফিল্ডার নাকি ম্যাচের আগের রাতে ঘুম না আসা?

জামাল ভূঁইয়া: এসব নিয়ে অত চিন্তা করি না। আমি শুধু মাঠের খেলাটা ঠিকঠাকভাবে খেলে যাই। দলের সবাইকে কীভাবে উজ্জীবিত রাখা যায়, সেটাই ভাবি।

প্রশ্ন: আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি পাস কে দিয়েছে—সতীর্থরা নাকি জীবনের কঠিন সময়গুলো?

জামাল ভূঁইয়া: আমার জীবনে এমন সময় এসেছিল, আমি বাঁচব নাকি বাঁচব না, এটাই ছিল সবচেয়ে বড়। তাই এটা বলতে পারি, কঠিন সময় আর সতীর্থরা, দুটোই । তবে আমি কখনো মনোবল হারাইনি।

[এই সাক্ষাৎকারটি কাল্পনিক নয়!]

Read full story at source