বাগেরহাটে খানজাহান আলীর মাজারের দিঘির কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত
· Prothom Alo

জননিরাপত্তার স্বার্থে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
Visit moryak.biz for more information.
এর আগে গতকাল রাত ১০টায় জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, মাজারের খাদেম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যক্তিদের নিয়ে জরুরি সভাটি শুরু হয়।
গত সোমবার রাতে মাজারের দিঘির পাড় থেকে ৭–৮ বছর বয়সী এক শিশুকে নিয়ে যায় কুমির। পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে দিঘিতে ফাতেমা নামের ওই শিশুটির লাশ ভেসে ওঠে। গতকাল দুপুরে জানাজা শেষে মাজার প্রাঙ্গণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়ে শিশুটিকে।
এর আগে গত এপ্রিলে দিঘির কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায়, সেই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছিল। সেই সময়ই প্রশ্ন ওঠে লোকালয়ের একটি দিঘিতে এমনভাবে কুমির রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে। মাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে কুমির সম্পর্কিত হলেও বর্তমানে এই দিঘিতে টিকে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি খানজাহান আলীর আমলের সেই কুমিরের বংশধর নয়।
সভায় মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। মাজারকেন্দ্রিক এক ধরনের ব্যবসার কথাও সামনে আসে। মাজারে কুমির নিয়ে বাণিজ্য, তাবিজ বিক্রিসহ নানা উপায় প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন কয়েকজন। কেউ কেউ মত দেন, নিরাপত্তার জন্য দিঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। কয়েকজন বলেন, খাঁচা করে নির্দিষ্ট স্থানে কুমিরকে আটকে রাখার কথা। নিরাপত্তার জন্য ঘাটগুলোতে যেন কুমির আসতে না পারে সেভাবে সুরক্ষার প্রাচীর দেওয়ার মতও আসে। মাজারে ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য পুরো মাজার এলাকাটি প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাবও আসে।
সবশেষ জেলা প্রশাসক ও মাজার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম মো. বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর এখানে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামো না হওয়া পর্যন্ত প্রাণীটি বন বিভাগের হেফাজতে থাকবে।
সভায় উপস্থিত সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কুমিরটি স্থানান্তরের বিষয়ে আজ বুধবার খুলনা থেকে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি দল আসবে। তারা কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবেন।