ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শনী ও নেত্রকোনায় বাউলগানের অনুষ্ঠান বন্ধের ঘটনায় আসকের নিন্দা

· Prothom Alo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধ করা ও নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাউলসংগীতের একটি পূর্বনির্ধারিত সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Visit tr-sport.bond for more information.

আজ মঙ্গলবার আসকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা মনে করে, এ ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্প-সাহিত্যচর্চা এই অধিকারগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর অংশ, সেই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২৭ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদ মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো গোষ্ঠী বা চাপের মুখে এসব সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয় আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা। পাশাপাশা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শগত চাপ আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে যাতে জনপরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পচর্চার বিষয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি, প্রচারণা বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোনো আইন ও অধিকার সম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত বা একটি আয়োজনের ক্ষতি করে না; বরং তা দীর্ঘ মেয়াদে সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে দেয়।

Read full story at source