দেশে ফেরার টিকিট কেটেছিলেন তৌহিদুল, চলে গেলেন না–ফেরার দেশে
· Prothom Alo

যমজ দুই ভাই। একজন দেশে থাকেন, অন্যজন বিদেশে। দুজনের বিয়ের আয়োজন হবে একসঙ্গে—এমন ইচ্ছা ছিল পরিবারের সদস্যদের। তাই একজনের বিয়ে পাকাপাকি হওয়ায় অন্যজনকে বলা হয় দেশে ফিরতে। তাঁর জন্যও পাত্রী ঠিক করে রাখা হয়। বাড়ি থেকে তাগাদা পেয়ে দেশে ফিরতে উড়োজাহাজের টিকিট কাটেন বিদেশে থাকা ভাই। তবে দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। এর আগেই বিদেশের মাটিতে দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় তাঁর।
মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম তৌহিদুল ইসলাম। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামের বাসিন্দা তিনি। গত মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় দেয়াল ধসে তাঁর মৃত্যু হয়।
Visit iwanktv.club for more information.
তৌহিদুলের যমজ ভাই জাহেদ হোসেন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে সৌদি আরবে আছে আমার ভাই। ১৫ মে দেশে আসার জন্য টিকিট করেছিল। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠান করার কথা। সেটি আর হলো না। আমরা ভাইটা না–ফেরার দেশে চলে গেল।’
জাহেদ হোসেন জানান, তাঁর বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর তৌহিদুলের জন্য পাত্রীর সন্ধান শুরু করে পরিবার। একপর্যায়ে তৌহিদুলের জন্যও পাত্রী প্রায় ঠিকঠাক ছিল। তিনি দেশে ফিরলে সেটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহেদ বলেন, ‘একসঙ্গে দুই ভাই বিয়ে করব। কত স্বপ্ন ছিল। সব স্বপ্নই নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। সর্বশেষ ভাইয়ের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন সে বলে—“বাঁচি আর মরি, এবার দেশে আসবই।” ভাই যে জীবিত আসবে না, কে জানত।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, তৌহিদুল ইসলাম পাঁচুরিয়া হালিমা রহমান উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। এরপর এলাকায় মাছ–মুরগির খামার করতেন। তবে খামারে লোকসান হওয়ায় জীবিকার তাগিদে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট সৌদি আরবে যান। সেখানে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন তিনি।
তৌহিদুলরা তিন ভাই। তাঁর বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরেও আমার মায়ের সঙ্গে তৌহিদুলের কথা হয়েছে। এরপর বিকেলে সৌদি আরবে থাকা আমার এক ফুফাতো ভাই তৌহিদুলের মৃত্যুর বিষয়ে জানায়। আমরা এখন তার লাশ দেশে আনার চেষ্টা করছি।’
হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৌহিদুলের মৃত্যুর খবরে এলাকার শোকের ছায়া বিরাজ করছে। তাঁর লাশ যাতে দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সে লক্ষ্যে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’