রাসায়নিকমুক্ত খাবারের খোঁজ করছেন? ঘুরে আসুন ‘অঙ্কুর’-এ
· Prothom Alo
বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না হয় এই রেস্তোরাঁয়। আছে ডিটক্স প্রোগ্রাম এবং যোগব্যায়ামের ব্যবস্থা। সুস্থ থাকার চেষ্টা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগের শুরু।
‘অঙ্কুর’ রেস্তোরাঁর খাবারে তেল, চিনি ও ময়দার ব্যবহার করা হয় নাগুলশান লেক ড্রাইভের এক ব্যতিক্রমী রেস্তোরাঁ ‘অঙ্কুর’। এখানের খাবারে ব্যবহার করা হয় না তেল, চিনি ও ময়দা। কীটনাশক ছাড়া নিজেদের ফার্মে উৎপাদিত হয় শাকসবজি। গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয় মুরগি, ডিম। বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না হয় এই রেস্তোরাঁয়। আছে ডিটক্স প্রোগ্রাম এবং যোগব্যায়ামের ব্যবস্থা। অঙ্কুরের উদ্যোক্তা হেলাল হেদায়তুল ইসলাম জানান, নিজের সুস্থ থাকার চেষ্টা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগের শুরু।
Visit sports24.club for more information.
সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি খোলা থাকে‘খেত থেকে প্লেট’
অঙ্কুর রেস্তোরাঁর ভেতর ও বাইরের দেয়াল বাঁশ দিয়ে সাজানো। বাইরের দেয়ালে সাঁটানো একটি বোর্ডে লেখা ‘খেত থেকে প্লেট’। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই চোখে পড়বে টেবিলে ছড়ানো নানা সবজি—মিষ্টি আলু, টমেটো, ভুট্টা, বাঁধাকপি, শজনে ডাঁটা, লাউ, পটোল, কলমিশাক, ডাঁটাশাক। রাজশাহী, হেমায়েতপুর ও মানিকগঞ্জের ফার্ম থেকে আসে এসব সবজি। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার নেই। চাষের ক্ষেত্রে কেবল গোবর আর ফসলের উচ্ছিষ্ট ব্যবহার করা হয়।
শাকসবজি ছাড়াও অঙ্কুরে পাওয়া যায় ঢেঁকিছাঁটা চাল, ডাল, যাতায় মাড়াই করা মাষকলাই, ঘি, মধু, খেজুর গুড়, পাটালি গুড়সহ নানা সামগ্রী। এ ছাড়া অর্গানিক উপায়ে উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বাকি পণ্য সংগ্রহ করা হয়।
অঙ্কুরের খাবারের পুষ্টিগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে বাড়তি নজর থাকে। খাবার অল্প আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করা হয়। রেস্তোরাঁটিতে রুটি, সালাদ, লাচ্ছি, সবজি ও মুরগির নানা পদ তো আছেই, আরও পাওয়া যায় অর্গানিক পিৎজা ও বার্গার।
হেদায়তুল ইসলাম বলেন, ‘অঙ্কুর রাসায়নিকমুক্ত খাবার সংগ্রহ থেকে শুরু করে কীভাবে রান্না করতে হয়, কীভাবে খেতে হয়, তার একটি হাব। আমরা এটিকে বলি প্রাকৃতিক পদ্ধতির জীবনব্যবস্থা।’
ডিটক্স ও যোগব্যায়াম
অঙ্কুরে খাবারের পাশাপাশি আছে ‘ডিটক্স প্রোগ্রাম’ ও যোগব্যায়ামের আয়োজন। ডিটক্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে শরীরকে বিষমুক্ত করা হয়। ডিটক্স প্রক্রিয়াটি দিনব্যাপী চলে। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার এটির ব্যবস্থা রাখা হয়। এতে প্রথমে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। সে অনুযায়ী ডিটক্সের জন্য কী কী লাগবে, সেটি নির্ধারণ করা হয়। একজন আয়ুর্বেদ ডাক্তার এবং একজন আকুপ্রেশার এক্সপার্ট ডিটক্স কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
৪০ পেরোনোর পর কি রোজ ডিম খাওয়া নিরাপদবিশেষ পদ্ধতিতে এই রেস্তোরাঁয় রান্না হয়অঙ্কুরের উদ্যোক্তা বিশ্বাস করেন, কেবল শরীর ডিটক্স করলেই চলবে না, মনকেও ডিটক্স করতে হবে। দুটি প্রক্রিয়া সমানভাবে চলতে হবে। অঙ্কুরে সপ্তাহে তিন দিন যোগব্যায়ামের আয়োজন করা হয়। শনিবার, সোমবার ও বুধবার থাকে এ আয়োজন। যোগব্যায়াম পরিচালনা করেন আশিস অধিকারী।
কীটনাশক ছাড়া নিজেদের ফার্মে উৎপাদিত শাকসবজি রান্নায় ব্যবহার করা হয়হেদায়তুল ইসলামের ভাষায়, নানা বিষযুক্ত খাবার শরীরে বিষ জমা করে। সেটি দূর করে তবেই প্রাকৃতিক চাষের খাবার শুরু করতে হয়।
অঙ্কুর রেস্তোরাঁর আরেক বাসিন্দা একটি বিড়াল। তার নামও ‘অঙ্কুর’। ক্রেতাদের অনেকেই কেবল বিড়ালটিকে আদর করতেই একবার এসে ঘুরে যান।
রেস্তোরাঁটিতে ২০ জন মানুষ একসঙ্গে বসতে পারে। তবে প্রায় সব সময়ই চেয়ার–টেবিলগুলো খালিই পড়ে থাকে। কারণ, এ রেস্তোরাঁর অধিকাংশ ক্রেতা অনলাইনে কেনাকাটা করেন। সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি খোলা থাকে।