যে ৭ খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করা একদমই উচিত নয়

· Prothom Alo

বৃষ্টিতে ভিজে সর্দি-কাশির কবলে পড়ার পর নানি-দাদির পরামর্শে মধু খাওয়ার কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ফ্রিজ থেকে বের করা সেই মধু যখন জমে দানা বেঁধে যায়, তখন মনে প্রশ্ন জাগে, মধু কি নষ্ট হয়ে গেল? উত্তর হলো, না। খাঁটি মধু আসলে নষ্ট হয় না, বরং ফ্রিজের ঠান্ডায় এটি তার স্বাভাবিক রূপ হারায়। আসলে আমরা অনেক খাবারই সতেজ রাখার জন্য ফ্রিজে রাখি, কিন্তু সব খাবারের ক্ষেত্রে ফ্রিজ উপযুক্ত নয়। জেনে নেওয়া যাক এমন ৭টি খাবার সম্পর্কে, যেগুলো ফ্রিজে রাখা একদম অনুচিত।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

পাকা টমেটো

১। টমেটো: দৈনন্দিন জীবনে টমেটো প্রায় অনেক খাবারের মধ্যেই পাওয়া যায়, তাই তা সংরক্ষণে রাখা জরুরি। তবে টমেটো ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কারণ, এতে টমেটোর গঠন ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কম তাপমাত্রায় টমেটোর ওপরের অংশ নরম হয়ে যায়, এর ফলে টমেটোর সজীবতা হারিয়ে যায়।

টমেটো ঝুড়িতে বা খোলা জায়গায় রাখা সবচেয়ে ভালো।

পাউরুটি

২। পাউরুটি: সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে অনেকেই স্যান্ডউইচ খান, তাই পাউরুটির সংরক্ষণ কীভাবে করতে হয়, তা জানতে হয়। পাউরুটির প্রধান উপাদান স্টার্চ বা শ্বেতসার। ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রায় পাউরুটির ভেতরে থাকা স্টার্চের অণুগুলো খুব দ্রুত জমাট বাঁধতে শুরু করে। এ প্রক্রিয়ার কারণে পাউরুটি সাধারণ তাপমাত্রার তুলনায় কয়েক গুণ শক্ত এবং শুকনা হয়ে যায়। তা ছাড়া ফ্রিজে রাখার কারণে পাউরুটি নরম ভাব হারিয়ে ফেলে এবং খেতে পানসে লাগে।

পাউরুটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে বা ব্রেড বক্সে রেখে ঘরের কোনো ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখুন। এভাবে পাউরুটি দু–তিন দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

যুদ্ধ হলে তেল-গ্যাসের দাম বাড়ে কেনপেঁয়াজ

৩। পেঁয়াজ: নিত্যদিনের প্রতিটি রান্নাতেই পেঁয়াজ দরকার হয়। ফ্রিজের ভেতরকার পরিবেশ সাধারণত আর্দ্র থাকে। এই আর্দ্রতা পেঁয়াজ শুষে নেয়, যার ফলে পেঁয়াজের ভেতরের স্টার্চ চিনিতে রূপান্তরিত হতে শুরু করে। এতে পেঁয়াজ খুব দ্রুত নরম, ভেজা ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফ্রিজের স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় পেঁয়াজে খুব দ্রুত পচন ধরে যায়। পেঁয়াজের একটি তীব্র ঘ্রাণ থাকে, যা ফ্রিজে থাকা অন্য খাবারে মিশে সেগুলোয় গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে।

নেটের ব্যাগ অথবা ঝুড়িতে করে ঘরের কোনো শুকনা ও বাতাস চলাচল করে—এমন জায়গায় পেঁয়াজ রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো।

রসুন

৪। রসুন: খাবারে মসলা দেওয়ার ক্ষেত্রে রসুন অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হয়। এটি খাবারের স্বাদ অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। রসুনের যে বিশেষ কড়া স্বাদ থাকে, ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রায় ধীরে ধীরে তা নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজের আর্দ্রতা রসুনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় রসুনের কোয়াগুলো নরম হয়ে অনেকটা রাবারের মতো হয়ে যায়।

সরাসরি সূর্যালোক পড়ে না—এমন জায়গায় রসুন দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। রসুনের কোয়াগুলো আলাদা না করে আস্ত রাখা ভালো। একবার কোয়াগুলো আলাদা করে ফেললে তা দ্রুত শুকিয়ে যায়।

যদি রসুন বেটে রাখা হয়, তবে সেটি অবশ্যই ফ্রিজে রাখতে হবে।

বারবার অ্যালার্মের স্নুজ চাপলে কী ক্ষতিমধু এমন এক খাবার, যা সঠিক পরিবেশে রাখলে প্রায় চিরকাল ভালো থাকে

৫। মধু: শুরুতেই বলেছি, জ্বর-ঠান্ডা প্রতিরোধে অনেকেই মধু খায়। মধুর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রায় এই গ্লুকোজ খুব দ্রুত জমাট বেঁধে চিনির মতো দানাদার ও আঠালো হয়ে যায়। সাধারণ তাপমাত্রায় মধু যে রকম মসৃণ থাকে, ফ্রিজে রাখলে সেই ভাব হারিয়ে যায়। ফ্রিজের আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকলে মধুর সেই আসল স্বাদ ও ঘ্রাণ কিছুটা পানসে হয়ে যেতে পারে।

জানালার পাশে যেখানে সরাসরি রোদ পড়ে, সেখানে মধু রাখা উচিত নয়। মধুতে যেন কখনো পানির স্পর্শ না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভেজা চামচ ব্যবহার করলে মধুতে ফাঙ্গাস ধরতে পারে।

মধুর স্থায়িত্বকাল অনেক বেশি, তাই একে ফ্রিজে রাখার কোনো প্রয়োজনই পড়ে না।

কফি বিন

৬। কফি: কফিপ্রেমীদের জন্য কফি সংরক্ষণ রাখাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কফি একটি হাইগ্রোসকপিক উপাদান, যার মানে এটি খুব দ্রুত চারপাশের বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নেয়। যখন কফির কৌটা ফ্রিজ থেকে বের করা হয়, তখন বাইরের গরম বাতাসের সংস্পর্শে এসে কৌটার ভেতরে পানির বিন্দু জমা হয়। এই আর্দ্রতা কফির তেল ও সুগন্ধি নষ্ট করে দেয়, ফলে কফির আসল কড়া স্বাদ হারিয়ে যায়।

কফি সব সময় এমন একটি কাঁচ বা সিরামিকের পাত্রে রাখতে হবে, যার ঢাকনা খুব শক্তভাবে আটকানো যায়। কিচেন ক্যাবিনেট বা আলমারির ভেতর যেখানে সরাসরি আলো বা চুলার তাপ পৌঁছায় না, সেখানে কফি রাখা যেতে পারে।

ইরানের স্কুলে হামলায় শতাধিক শিশুসহ নিহত অন্তত ১৫৩ জন, খোঁড়া হয়েছে গণকবরচকলেট

৭। চকলেট: শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সবাই কমবেশি চকলেট খেতে পছন্দ করে। ফ্রিজের থেকে চকলেট বের করলে বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে এসে এর গায়ে জলীয় বাষ্প জমে। এই পানি চকলেটের ভেতরের চিনিকে গলিয়ে ফেলে। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর চিনিগুলো চকলেটের ওপরে সাদা দানাদার আস্তরণ তৈরি করে। একেই ‘সুগার ব্লুম’ বলে, যা চকলেটের মসৃণ ভাব নষ্ট করে দেয়। চকলেটের আসল স্বাদ পাওয়ার জন্য এটি মুখে দেওয়ার পর ধীরে ধীরে গলে যাওয়া প্রয়োজন। ফ্রিজে রাখলে চকলেট অনেক শক্ত হয়ে যায় এবং এর সূক্ষ্ম ফ্লেভার ঢাকা পড়ে যায়। সাধারণ তাপমাত্রার চকলেট যতটা সুস্বাদু লাগে, ফ্রিজের ঠান্ডা চকলেট ততটা লাগে না।

যদি চকলেটকে যদি ফ্রিজে রাখতেই হয়, তবে তা খুব ভালো করে প্লাস্টিকে মুড়িয়ে একটি বায়ুরোধী বক্সে ভরে রাখতে হবে। ফ্রিজ থেকে বের করার সঙ্গে সঙ্গে চকলেট খাওয়া যাবে না। অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে তারপর খাবে। এতেই আসল স্বাদ পাবে।

সূত্র: সাউদার্ন লিভিং

মস্তিষ্ককে তুখোড় করতে ধাঁধার চেয়ে বেশি কার্যকর বোর্ড গেম

Read full story at source