দানিল খার্মসের ১০টি অ্যাবসার্ড গল্প
· Prothom Alo

দানিল ইভানোভিচ খার্মস ছিলেন এমন একজন সাহিত্যিক, যিনি নিজের সাহিত্যকর্মকে এক বিশাল নিরীক্ষা হিসেবে নিয়েছিলেন। ভাষাকে কীভাবে ভেঙেচুরে এলোমেলো করে বাস্তবকে নতুনভাবে উপলব্ধি করা যায়, সেই পরীক্ষা। প্রথম নজরে খার্মসের লেখা অদ্ভুত, খাপছাড়া, এমনকি শিশুসুলভ মনে হতে পারে, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এমন এক বাস্তবতার প্রতি প্রতিক্রিয়া, যা হয়ে উঠেছিল অযৌক্তিক, নিষ্ঠুর এবং প্রচলিত ভাষায় বর্ণনার অতীত।
• ভূমিকা ও ভাষান্তর: আহসানুল করিম
Visit amunra.help for more information.
১৯০৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন খার্মস। জীবনের শেষ সময়টাও কাটিয়েছেন একই শহরেই। রেখে গেছেন ভাষার যুক্তি ভেঙে, দৈনন্দিন ঘটনাকে ব্যাখ্যা না করে, অ্যাবসার্ডের মধ্যে অচেনা বাস্তবতা তুলে ধরার সাহিত্যকর্ম, যা আধুনিক সাহিত্যের সম্ভাবনাকে বদলে দেওয়ার আশা জাগিয়েছে।
ছেলেবেলা থেকেই খার্মস লেখাপড়া আর সাহিত্য—দুটি ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক গণ্ডির বাইরে হেঁটেছেন। খুব অল্প বয়স থেকেই খার্মস বিদেশি ভাষা, সাহিত্য এবং অপ্রচলিত চিন্তাধারার প্রতি আগ্রহ দেখান। লেনিনগ্রাদে থাকাকালে তিনি কলেজে ভর্তি হন এবং পরে বহিষ্কৃত হন। কারণ ছিল তাঁর ‘সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার অভাব’। এই বহিষ্কার কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। খার্মস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না; বরং তিনি ঝুঁকে পড়েছিলেন কবিতা ও ভাষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে। ভাষা নিজেই যে হতে পারে অস্থির, অবিশ্বাসযোগ্য ও সন্দেহজনক—এমন একটি ধারণার দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। নিজেকে রাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া শিল্পের কাঠামোতে বাঁধতে চাননি।
দানিল খার্মস, ১৯৩২ (১৯০৫-১৯৪২)আজকের দিনে খার্মসকে রুশ অ্যাবসার্ড সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কণ্ঠ এবং সোভিয়েত যুগের শেষ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাভাঁ-গার্দ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও জীবদ্দশায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা তাঁর অধিকাংশ কাজই অপ্রকাশিত রয়ে যায়। মূলত শিশুদের জন্য লিখেই জীবিকা নির্বাহ করেছিলেন খার্মস। আর গোপনে লিখে গেছেন গদ্য, নাটক আর খণ্ডিত লেখা, যেগুলো বহু দশক পর আবিষ্কৃত হয়।
১৯২০-এর দশকের শেষ দিকে খার্মস ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেক্সান্দ্র ভভেদেনস্কি অ্যাভাঁ-গার্দ প্রতিষ্ঠা করেন। এই নামের অর্থ করা হয় ‘বাস্তবধর্মী শিল্প সংঘ’। নামটি ছিল ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যঙ্গাত্মক। অ্যাভাঁ-গার্দ প্রচলিত বাস্তববাদকে প্রত্যাখ্যান করে এবং ‘বাস্তবতা’র এক নতুন ধারণা প্রস্তাব করে, যেখানে ভাঙন, অযৌক্তিকতা ও বিচ্ছিন্নতাকে আধুনিক জীবনের মৌলিক শর্ত হিসেবে দেখা হয়। যে সময় সোভিয়েত সংস্কৃতি দ্রুত সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদের দিকে এগোচ্ছিল, সেই সময় অ্যাভাঁ-গার্দ জোর দিয়েছিল অযৌক্তিকতা, বিচ্ছিন্নতা ও অনিশ্চয়তার ওপর। এই অবস্থান তাদের একই সঙ্গে শিল্পের জগতে বিপ্লবী এবং রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক করে তোলে।
লেনিনগ্রাদে থাকাকালে তিনি কলেজে ভর্তি হন এবং পরে বহিষ্কৃত হন। কারণ ছিল তাঁর ‘সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার অভাব’। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। খার্মস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে আগ্রহী ছিলেন না; বরং তিনি ঝুঁকে পড়েছিলেন কবিতা ও ভাষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে।
খার্মসের অ্যাবসার্ডিটিকে প্রায়ই ভুলভাবে বোঝা হয়। তাঁর লেখা এলোমেলো অর্থহীন নয়। আবার নিছক কৌতুকপ্রবণ সুররিয়ালিজমেও আক্রান্ত নয়। তাঁর গল্পগুলো বেশির ভাগই খুব ছোট এবং এগুলোর সূচনা হয় সাধারণ দৈনন্দিন পরিস্থিতি দিয়ে। তারপর কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বাস্তবতার যুক্তি ভেঙে পড়ে। চরিত্ররা হঠাৎ মারা যায়, ঘটে যায় কার্যকারণবিহীন সহিংসতা। প্রায়ই গল্প শেষ হয়ে যায় শুরু হওয়ার আগেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সবকিছু বলা হয় একেবারে নিরাবেগ, নিরাসক্ত, নির্বিকার কণ্ঠে। ফলাফল বেশির ভাগ সময়ই অস্বস্তিকর। পাঠক হিসেবে আমরা হেসে ফেলি আর সঙ্গে সঙ্গেই সেই হাসির জন্য অস্বস্তি বোধ করি। খার্মসের কাছে অ্যাবসার্ডিটি বাস্তবতা থেকে পালানোর পথ নয়; বরং বাস্তববাদ ব্যর্থ হলে সত্য বলার এক বিকল্প উপায়।
খার্মস যখন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গোপনে লিখছিলেন, সোভিয়েত সরকার তখন চাইছিল সাহিত্য কেবলই হবে ‘সামাজিক বাস্তবতা’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা’কে কেন্দ্র করে। এ কারণে প্রচলিত প্রকাশনার পথে খার্মসের পরীক্ষাধর্মী কাজ সহজে জায়গা পায়নি। এর বদলে তিনি বহুদিন ধরে শুধু শিশুদের জন্য লিখে যান। শিশুসাহিত্যে কিছুটা হলেও স্বাধীনতা ছিল। জীবদ্দশায় তাঁর খ্যাতি মূলত তাই শিশুতোষ রচনাবলি ঘিরেই। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখাগুলো বেশির ভাগ সময় প্রকাশের বাইরে রয়ে যায়। কিন্তু সেই লেখা তিনি থামিয়ে দেননি; বরং প্রতিদিনকার নোটবুক ভরিয়ে তুলেছিলেন গল্পের খসড়ায়। পরে এই নোটবুকগুলোই তাঁর মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত হয় এবং রুশসহ পৃথিবীজুড়ে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁর গল্পগুলো বেশির ভাগই খুব ছোট এবং এগুলোর সূচনা হয় সাধারণ দৈনন্দিন পরিস্থিতি দিয়ে। তারপর কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বাস্তবতার যুক্তি ভেঙে পড়ে। চরিত্ররা হঠাৎ মারা যায়, ঘটে যায় কার্যকারণবিহীন সহিংসতা। প্রায়ই গল্প শেষ হয়ে যায় শুরু হওয়ার আগেই।
১৯৩১ সালে সাবেক অ্যাভাঁ-গার্দ সদস্য হিসেবে খার্মসকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকার তখন প্রচলিত সাহিত্যকে আরও নিয়ন্ত্রিত করতে চাইছিল এবং যাঁরা নতুন ধরনের ভাবনাকে সামনে তুলে ধরছিলেন, তাঁদের ‘অরাজনৈতিক’, ‘শোষকের দোসর’ বা ‘প্রতিবিপ্লবী’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছিল। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কিছু সময়ের জন্য কুর্স্কে নির্বাসিত করা হয়। এ সময় তাঁর লেখা প্রকাশের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। ১৯৪১ সালে আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার ‘অসন্তোষজনক মন্তব্য’ করার অভিযোগে। ১৯৪২ সালে খার্মস লেনিনগ্রাদ অবরোধের মধ্যে এক সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে মারা যান। যুদ্ধের তীব্র সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে খাদ্যাভাবের মধ্যে তিনি অন্তিম জীবন কাটান। জীবনের শেষ অধ্যায় যেন তাঁর ভাষার মতোই প্রহেলিকাময়।
খার্মসের লেখা উদ্ধারে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর বন্ধু ইয়াকভ দ্রুসকিনের। দ্রুসকিন লেনিনগ্রাদ অবরোধের সময় খার্মসের বাসা থেকে বহু পাণ্ডুলিপি স্যুটকেসে লুকিয়ে রাখেন। যদিও খার্মস জীবিত অবস্থায় বেশির ভাগই বড়দের নিজস্ব কাজ প্রকাশের সুযোগ পাননি, পরে তাঁর রচনাগুচ্ছ রাশিয়া ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পায় এবং তিনি আধুনিক সাহিত্যে অ্যাবসার্ড ধারায় অন্যতম এক অগ্রণী নাম হয়ে ওঠেন।
খার্মসের লেখা প্রথমবার পড়তে গিয়ে যে প্রশ্নগুলো মনে আসতে পারে—এটা কি মজা করে লেখা? এখানে গল্প কোথায়? এভাবে লেখা কেন গল্পগুলো? কিন্তু গল্পগুলো বারবার পড়ার পর একসময় পরবর্তী পাঠকের জন্য যে বার্তা দিতে ইচ্ছা করে, তা হলো নৈতিক শিক্ষা খুঁজবেন না। মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা প্রত্যাশা করবেন না। বরং খেয়াল করবেন কোথায় ভাষা তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে, জাগিয়ে তুলছে অস্বস্তি। এই অস্বস্তির মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে সেই সত্য, যা খার্মস ধরতে চেয়েছেন।
মনে রাখতে হবে, এই গল্পগুলো আজগুবি মনে হলেও এগুলো লেখা হয়েছিল এক ভয়াবহ সময়ের ভেতর দিয়ে। যেখানে মানুষ হঠাৎ উধাও হতো; যেখানে কথার জন্য শাস্তি পেতে হতো; যেখানে যুক্তি, নৈতিকতা, নিরাপত্তা—এসব ভেঙে পড়েছিল। খার্মস সেই বাস্তবতাকে সরাসরি না বলে তাকে ভেঙেচুরে লিখেছেন। খার্মসকে বোঝার চেয়ে অনুভব করা বেশি জরুরি। সব প্রশ্নের উত্তর এখানে নেই; বরং প্রশ্নগুলোই রেখে যেতে চেয়েছেন খার্মস পাঠকের মাথার ভেতরে।
লেখালেখির কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দানিল খার্মস (১৯৩১)দৃষ্টিবিভ্রম
সেমিওন সেমিওনোভিচ চশমা পরার পর একটি পাইনগাছের দিকে তাকাল এবং যা দেখল, তা হলো পাইনগাছে এক লোক বসে আছে এবং তাকে হাত মুঠো করে মারবে বলে হুমকি দিচ্ছে। সেমিওন সেমিওনোভিচ চশমা খুলে পাইনগাছের দিকে আবার তাকালে দেখল গাছে কেউ বসে নেই।
সেমিওন সেমিওনোভিচ আবার চশমা পরে পাইনগাছের দিকে তাকালে দেখল যে গাছে এক লোক বসে আছে এবং তাকে মুষ্টি দেখাচ্ছে। সেমিওন সেমিওনোভিচ পুনরায় চশমা খুলে দেখল, গাছে কেউ বসে নেই।
সেমিওন সেমিওনোভিচ আবার চশমা পরে তাকালে আগের মতোই দেখল যে গাছে এক লোক বসে আছে এবং তাকে মারার ভঙ্গি করছে।
সেমিওন সেমিওনোভিচ এ ঘটনাকে আর বিশ্বাস করতে চাইল না এবং ঘটনাটাকে স্রেফ দৃষ্টিবিভ্রম বলে মনে করে নিল।
কাঠমিস্ত্রি কুশাকভ
এককালে দেশে ছিল এক কাঠমিস্ত্রি, নাম ছিল তার কুশাকভ। একদিন সে বাড়ি থেকে বের হলো দোকান থেকে কাঠের কাজের আঠা কিনবে বলে। বরফ গলার সময় বলে পথঘাট ছিল দারুণ পিচ্ছিল।
কাঠমিস্ত্রি কয়েক পা এগোতেই আছাড় খেল এবং পড়ে মাথা ফাটাল। ‘দেখো দেখি কাণ্ড,’ বলে মিস্ত্রি উঠে পড়ল। তারপর ওষুধের দোকানে গিয়ে ব্যান্ডেজ কিনল এবং মাথায় সেটা দিয়ে পট্টি বাঁধল। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে কয়েক পা যেতে না যেতেই সে আবার আছাড় খেয়ে পড়ল এবং তার নাক ভেঙে গেল।
‘ধ্যাত,’ বলে কাঠমিস্ত্রি আবার ওষুধের দোকানে গেল। আরেক দফা ব্যান্ডেজ কিনে তা দিয়ে নাকের ওপরে পট্টি বাঁধল। এরপর সে আবার বাইরে গেল আর এবার আছাড় খেয়ে পড়ে ভাঙল গাল। আবার সে ওষুধের দোকানে গেল এবং ব্যান্ডেজ কিনে গালে পট্টি বাঁধল।
‘শুনুন,’ ওষুধ বিক্রেতা কাঠমিস্ত্রিকে বলল, ‘আপনি এত বারবার পড়ে এটা–ওটা ফাটাচ্ছেন, আপনাকে বলব, কিছু অতিরিক্ত ব্যান্ডেজ কিনে নিয়ে যান।’
‘না,’ বলল কাঠমিস্ত্রি, ‘আর পড়ব না।’ কিন্তু সে আবার বাইরে বেরিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ল এবং থুতনি ভেঙে ফাটাল। ‘জঘন্য বরফ!’ চিৎকার করে উঠল কাঠমিস্ত্রি। তারপর ওষুধের দোকানের দিকে রওনা হলো।
‘দেখেছেন, বলেছিলাম না?’ দোকানদার বলল, ‘আপনি আবার গেছেন এবং পড়েছেন।’
‘নাআআ,’ চিৎকার করে উঠল কাঠমিস্ত্রি, ‘আমি ও কথা শুনতে চাই না।’ ওষুধ বিক্রেতা তাকে ব্যান্ডেজ দিলে কাঠমিস্ত্রি তার থুতনিতে তা বেঁধে ঘরের দিকে ছুটল।
কিন্তু ঘরে ফিরে গেলে কেউ তাকে চিনতে পারল না এবং তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিল না।
‘আমি কাঠমিস্ত্রি কুশাকভ!’ চিৎকার করে বলল সে।
‘বললেই বিশ্বাস করলাম আ কি!’ ভেতর থেকে জবাব এল এবং তারা দরজা খিল দিয়ে ভালো করে বন্ধ করে দিল।
কাঠমিস্ত্রি কুশাকভ কিছুক্ষণ সামনে দাঁড়াল। তারপর থুতু ফেলে আবার বাইরে বেরিয়ে এল।
গ্রীষ্মের এক অনবদ্য দিনের শুরু
মোরগ ডাকার সঙ্গে সঙ্গেই টিমোফেই জানালা দিয়ে সামনের ছাদে লাফিয়ে পড়ল এবং সে সময় রাস্তায় যারা ছিল, সবাইকে ভয়ানকভাবে আতঙ্কিত করে তুলল। কৃষক খারিতন থেমে হাতে একটি পাথর তুলে নিয়ে সেটা টিমোফেইয়ের দিকে ছুড়ে মারল। কিন্তু টিমোফেই কোথাও উধাও হয়ে গেল। ‘দেখো তো কী চালাক!’ চিৎকার করে উঠল ভিড়ের সবাই। এমন সময় জুভভ নামের একজন দৌড়ে এসে দেয়ালে নিজের মাথা সজোরে ঠুকে দিল। ‘হো!’ ঠোঁটে ঘা-ওয়ালা এক নারী চেঁচিয়ে উঠল। শুনে কোমারভ নারীকে এক দফা কিলঘুষি দিল আর নারী কাতরাতে কাতরাতে কাছের চত্বরে ছুটে পালাল। ফেতেলিউশিন নিজের মনে খিলখিল করে হাসতে হাসতে হাঁটছিল। কোমারভ তার কাছে এসে ‘এই ব্যাটা পাছামোটা!’ বলে ফেতেলিউশিনের পেটে ঘুষি মারল। ফেতেলিউশিন এই আঘাতে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে হেঁচকি তুলতে শুরু করল।
পাশেই একটি খাড়া নাকওয়ালা নারী তার বাচ্চাকে একটা গামলা দিয়ে মারছিল। এদিকে এক মোটা তরুণী মা তার ছোট্ট মেয়ের মুখটা ধরে ইটের দেয়ালে ঘষা দিচ্ছিল। চিকন পা–গুলোর একটা ভেঙে গেছে বলে ছোট কুকুরটাকে ফুটপাতে ছটফট করতে দেখা গেল। ছোট একটা ছেলে চিলমচি থেকে ময়লা তুলে খাচ্ছিল। শুকনা খাবারের দোকানের সামনে চিনি কেনার জন্য লম্বা লাইন তৈরি হয়ে গেছে এরই মধ্যে। নারীরা জোরে জোরে ঝগড়া করতে করতে ঝুড়ি দিয়ে একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছে। মিথাইল খেয়ে মাতাল কৃষক খারিতন নারীদের সামনে প্যান্ট খোলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে নোংরা ভাষায় চিৎকার করতে শুরু করল।
এভাবেই শুরু হলো গ্রীষ্মের এক অনবদ্য দিন।
একটি গল্পের রূপরেখা
এক প্রকৌশলী একবার সিদ্ধান্ত নিল, সেন্ট পিটার্সবার্গজুড়ে একটা বিশাল ইটের দেয়াল নির্মাণ করবে। কীভাবে এটা সম্পন্ন করা যাবে, তা নিয়ে সে ভাবতে থাকে। সমাধান খুঁজতে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ধীরে ধীরে চিন্তাবিদ আর প্রকৌশলীদের নিয়ে একটা দল গঠিত হয়। দেয়াল তৈরির পরিকল্পনাও হয়ে যায়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে দেয়ালটা রাতের বেলা নির্মিত হবে। এক রাতের মধ্যে। যেন সবার জন্য এটা একটা চমক হয়ে ওঠে।
শ্রমিকদের একত্র করা হলো। কাজ ভাগ করে দেওয়া হলো। শহরের কর্তৃপক্ষকে অন্যদিকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখা হলো। অবশেষে দেয়াল নির্মাণের সেই রাত এল। শুধু চারজন লোক জানত এ বিষয়ে। প্রকৌশলী ও শ্রমিকেরা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পেল যে কার কোথায় যেতে হবে এবং কী কাজ করতে হবে। একেবারে সঠিক হিসাব-নিকাশের কারণে তারা এক রাতেই দেয়াল নির্মাণ সম্পন্ন করতে সফল হলো।
পরের দিন পিটার্সবার্গে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু দেয়ালের পরিকল্পনাকারী নিজেই হতাশ হয়ে পড়ল। কেননা দেয়ালটির উদ্দেশ্য কী ছিল, তিনি নিজেই কখনো ভাবেনি।
একাকী
আমি একা। প্রতি সন্ধ্যায় আলেকজান্ডার ইভানোভিচ কোথাও বেরিয়ে যায় আর এদিকে আমি একা পড়ে থাকি। বাড়িওয়ালি সকাল সকাল নিজের ঘরে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের ঘরের লোকেরা চার দরজা দূরে ঘুমিয়ে থাকে। আমি একাই আমার ছোট ঘরে কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে বসে থাকি।
কিছুই করি না। ভয় পাওয়ার ভীষণ এক রোগে আক্রান্ত আমি। এই কদিন ঘরেই থাকছি। কারণ, ঠান্ডা লেগে ফ্লু হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ হয়ে গেছে জ্বর আর পিঠের নিচের দিকে ব্যথা।
কিন্তু আমার পিঠের নিচের অংশে কেন ব্যথা করছে? কেন এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা একই রকম? আমি কী রোগে ভুগছি? আর কী করা উচিত? এসব ভেবে, নিজের শরীরের দিকে খেয়াল করি আর ভয় পেয়ে যাই। আতঙ্ক আমার হৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়, পা ঠান্ডা হয়ে আসে আর মাথার পেছনটা চেপে ধরে। মাথার পেছনের নিচ দিক থেকে একটা চাপ অনুভব করি, আর মনে হয়, আরেকটু হলেই সেই চাপে আমার পুরো মাথা দুমড়েমুচড়ে যাবে। এ রকম অবস্থায় আপনি নিজের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন আর পাগল হয়ে যাবেন। একধরনের দুর্বলতা আমার পুরো শরীরকে দখল করতে থাকে। শুরু হয় পা থেকে। হঠাৎ মনে ঝলক দিয়ে আসে: যদি এ রকম স্রেফ ভয়ের কারণে না হয়? বরং ভয়টাই কোনো অসুস্থতার কারণে হয়ে থাকে? তখন আরও ভয়ংকর লাগে। একদমই নিজের চিন্তার গতিপথ বদলাতে পারি না। পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু যা-ই পড়ি, হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যায়। আবার ভয়ে আচ্ছন্ন হই। যদি আলেকজান্ডার ইভানোভিচ এখনই বাড়ি ফিরত! কিন্তু আরও কমপক্ষে দুই ঘণ্টার আগে সে ফিরবে না। সে যে এখন এলেনা পেত্রোভনার সঙ্গে হাঁটছে, তাকে তার নিজের প্রেম-সংক্রান্ত চিন্তাভাবনাগুলো বোঝাচ্ছে।
রূপকথা
এককালে এক লোক ছিল, যার নাম ছিল সেমিওনভ। একবার সেমিওনভ বাইরে হাঁটতে বেরোল। বেরিয়েই রুমালটা হারিয়ে ফেলল। সেমিওনভ রুমাল খুঁজতে শুরু করতেই মাথার টুপি হারিয়ে ফেলল। এরপর যেই টুপি খুঁজতে গেল, জ্যাকেটটা গেল হারিয়ে। জ্যাকেট খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে ফেলল বুটজোড়া।
‘ধ্যাত।’ সেমিওনভ বলল, ‘এই হারে চললে তো সবকিছু হারিয়ে ফেলব। এর চেয়ে ভালো বাড়ি যাই।’
ফেরার পথে সেমিওনভ বাড়ির রাস্তা হারিয়ে ফেলল।
‘নাহ্।’ সেমিওনভ বলল, ‘এর চেয়ে ভালো একটু বসে জিরিয়ে নিই।’
সেমিওনভ একটা পাথরের ওপরে বসল আর বসে ঘুমিয়ে গেল।
কুজনেতসভের গল্প
কুজনেতসভ নামের এক লোক ছিল। একদিন হঠাৎ তার বসার পিঁড়িটা ভেঙে গেল। সে বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে গেল কাঠমিস্ত্রিদের ব্যবহার করার আঠা কিনতে, যাতে পিঁড়িটা আবার জোড়া লাগাতে পারে।
কুজনেতসভ যখন নির্মাণাধীন একটি বাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটছিল, তখন ওপর থেকে পড়া একটি ইট এসে তার মাথায় আঘাত করল। কুজনেতসভ পড়ে গেল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল এবং মাথায় হাত বোলাল। আঘাতের জায়গাটা বেশ বড় আকারে ফুলে উঠেছে।
কুজনেতসভ আঘাতের ফোলা জায়গায় হাত বুলিয়ে বলল,
‘আমি এই শহরের একজন নাগরিক কুজনেতসভ। আমি আমার বাড়ি থেকে বের হলাম এবং দোকানের দিকে রওনা দিলাম...কেন যেন...কেন যেন...আরে! ঘটনা কী! আমি ভুলে গেছি দোকানে কেন যাচ্ছিলাম!’
ঠিক তখনই ছাদ থেকে দ্বিতীয় একটি ইট পড়ে আবার কুজনেতসভের মাথায় আঘাত করল।
‘আরে!’ চিৎকার করে উঠল কুজনেতসভ। মাথা দুহাতে চেপে ধরল এবং দেখল, দ্বিতীয় আরেকটি জায়গা ফুলে গেছে।
‘বাহ্, কী আজব এক কাহিনি!’ বলল কুজনেতসভ। ‘আমি, একজন নাগরিক কুজনেতসভ, বাড়ি থেকে বের হলাম এবং কোথায় যেন যাচ্ছিলাম...কোথায় যেন...কোথায় যাচ্ছিলাম আমি? আমি ভুলে গেছি আমি কোথায় যাচ্ছিলাম!’
এরপর, তৃতীয় একটি ইট ওপর থেকে কুজনেতসভের মাথায় পড়ল এবং তার মাথায় তৃতীয় একটি আলু গজাল।
‘আহ্! আহ্! আহ্!’ মাথা ধরে চিৎকার করল কুজনেতসভ। ‘আমি, একজন নাগরিক কুজনেতসভ, বের হলাম...বের হলাম...বেজমেন্ট থেকে? না। রাতভর মদ খেয়ে কোনো জায়গা থেকে? না! আমি কোথা থেকে বের হলাম?’
চতুর্থ একটি ইট ছাদ থেকে পড়ে কুজনেতসভের মাথার পেছনে আঘাত করল আর তার মাথার পেছনে আঘাতের জায়গায় চতুর্থ জায়গাটি ফুলে উঠল।
‘এই যাহ্!’ কপাল চুলকে বলল কুজনেতসভ। ‘আমি...আমি...আমি...আমি কে? মনে হচ্ছে আমি নিজের নামটাই ভুলে গেছি। কী এক কাহিনি! আমার নাম কী? ভাসিলি পেতুখভ? না। নিকোলাই শুমাকার? না। পানতেলেই সামপ্টার? না। তাহলে আমি কে?’
***
ঠিক তখনই পঞ্চম একটি ইট ছাদ থেকে পড়ে কুজনেতসভের মাথার পেছনে এমন জোরে আঘাত করল যে কুজনেতসভ মহাবিশ্বের সবকিছুই চূড়ান্তভাবে ভুলে গেল এবং ‘উগা-গু’ বলে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় দৌড়াতে লাগল। দয়া করে যদি কেউ রাস্তায় এমন একজন মানুষকে দেখেন যার মাথায় পাঁচটি ফোলা আছে, তাকে মনে করিয়ে দেবেন যে তার নাম কুজনেতসভ এবং তাকে পিঁড়ি ঠিক করতে কাঠমিস্ত্রির আঠা কিনতে হবে।
পুনর্বাসন
নিজের তারিফ করছি না, কিন্তু যখন ভলোদিয়া আমার কানে আঘাত করল আর আমার কপালে থুতু মারল, আমি ওকে এমনভাবে ধরেছিলাম যে তা সহজে ভোলার নয়। পরে আমি ওকে প্রাইমাস মার্কা কেরোসিনের চুলো দিয়ে আঘাত করেছিলাম। আর যখন কাপড়ের ইস্তিরি দিয়ে পেটালাম, ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সুতরাং তার মৃত্যু মোটেও আকস্মিক ছিল না। এই যে দিনদুপুরে যে আমি তার পা কেটে ফেলেছিলাম, এটা আসলে খুনের কোনো প্রমাণই নয়। সে তখনো জীবিত ছিল।
আন্দ্রিউশাকে আমি মেরেছিলাম স্রেফ গতি সামলাতে পারিনি বলে আর আমি নিজেকে সে কারণে মোটেই দোষারোপ করতে পারি না। কেন আন্দ্রিউশা ও এলিজাভেতা আন্তোনোভনা আমার চলার পথে এল? দরজার পেছন থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসার তো তাদের কোনো কারণ ছিল না। আমাকে রক্তপিপাসু বলে অভিযোগ করা হয়। তারা বলে আমি রক্ত পান করেছি। কিন্তু এটা মোটেই সত্য নয়: আমি শুধু রক্তের ছোপ আর জমে থাকা খানিকটা রক্ত চেটে নিয়েছিলাম, এটা তো আসলে প্রাকৃতিকভাবেই মানুষের প্রবৃত্তি—নিজের অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলা, সে যত তুচ্ছ অপরাধই হোক।
যা–ই হোক, এলিজাভেতা আন্তোনোভনাকে আমি ধর্ষণ করিনি। প্রথমত, সে মোটেই কুমারী ছিল না আর দ্বিতীয়ত, আমি কাজটা করেছিলাম একটা মৃতদেহের সঙ্গে। তাই তার অভিযোগ করার কোনো কারণই নেই। যদি বলি তার বাচ্চা প্রসবের সময় হয়ে এসেছিল? আমি কি তার বাচ্চা টেনে বের করিনি? এটা তো আর আমার দোষ নয় যে বাচ্চাটা দুনিয়ায় বেশিক্ষণ টিকল না। তার মাথা ছিঁড়ে ফেলার দায় তো আমার নয়, এর কারণ তার গলা ছিল একদম চিকন। তাকে আসলে এই দুনিয়ার উপযোগী করে সৃষ্টি করা হয়নি।
এটা সত্যি যে আমি ওদের কুকুরটাকে বুট দিয়ে পিষে মেঝেতে লেপটে দিয়েছিলাম। কিন্তু এটা কি উদ্ভট বিষয় না যে তারা আমাকে মামুলি কুকুর হত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছে, যখন বলা যায় তিনটে মানুষের জীবন ধ্বংস হয়েছে?
আচ্ছা ঠিক আছে: এই সবের মধ্যে (আমি স্বীকার করি) আমার মধ্যে একধরনের নিষ্ঠুরতা দেখা গেছে। কিন্তু মাফ করবেন, আমি আমার শিকারদের ওপর বসে মলত্যাগ করেছি—এটিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারটি হাস্যকর। মলত্যাগ স্রেফ একটি প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি এবং সে কারণে এটি কোনো অপরাধমূলক কাজ হতে পারে না। সুতরাং আমি আমার, মানে আসামিপক্ষের আইনজীবীর দুশ্চিন্তা উপলব্ধি করতে পারি, তবে এখনো আমি বেকসুর খালাস পাওয়ার আশা রাখি।
প্রসঙ্গ: ধূমপানের অপকারিতা
আপনার উচিত ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। যাতে নিজের ইচ্ছাশক্তি নিয়ে দম্ভ দেখাতে পারেন।
ব্যাপারটা বেশ ভালোই হবে। প্রায় এক সপ্তাহ ধূমপান না করে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আরও ভালো হবে যদি লিপাভস্কি, ওলেওনিকভ ও জাবোলোটস্কিদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হয়। যখন ওরা নিজে থেকেই খেয়াল করবে যে আপনি সারা সন্ধ্যা ধূমপান করেননি, বেশ হবে।
আর যখন ওরা জিজ্ঞেস করবে, ‘ধূমপান করছ না কেন?’ নিজের ভেতরকার ভয়াবহ দাম্ভিকতা আড়াল করে আপনি বলবেন, ‘ছেড়ে দিয়েছি।’
একজন ভালো মানুষের আসলে ধূমপান করা উচিত নয়।
ধূমপানের বদভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে দাম্ভিকতার বদ স্বভাবকে কাজে লাগানো আসলে বেশ দারুণ একটা উপকারী ব্যাপার হতে পারে।
ধূমপানের চেয়ে মদ্যপান, অতিভোজন আর দাম্ভিকতা কম দোষের।
ধূমপায়ী পুরুষ কখনোই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আর ধূমপায়ী নারীরা? ওরা তো যেকোনো কিছু করে বসতে পারে। তাই কমরেডগণ, চলুন ধূমপান ত্যাগ করি।
বেকুবের কথা
এক বেকুবের শার্টের কলারের মাঝখান দিয়ে একটা গলা বেরিয়ে ছিল আর সেই গলার ওপর ছিল একটা মাথা। মাথার চুল একসময় খুব খাটো করে ছাঁটা ছিল। কিন্তু এখন চুলগুলো বেশ ব্রাশের মতো খাড়া খাড়া লম্বা হয়ে উঠেছে। বেকুব অনেক বিষয়ে কথা বলত। কেউই তার কথা শুনত না। সবাই ভাবত, কখন ব্যাটা চুপ করবে আর চলে যাবে! কিন্তু বেকুব কিছুই খেয়াল না করে কথা বলেই যেতে থাকত আর হাসত।
শেষমেশ, এলবভ আর সইতে না পেরে বেকুবটার কাছে এসে রুক্ষ ও কড়া গলায় বলল, ‘এই মুহূর্তে এখান থেকে গায়েব হয়ে যা।’ বেকুব হতভম্ব হয়ে চারদিকে তাকাল, বুঝতেই পারল না কী হচ্ছে। এলবভ বেকুবের কান বরাবর একটি চড় মারল। বেকুব চেয়ার থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল। এলবভ তাকে একটি লাথি মারতেই সে দরজা দিয়ে উড়ে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে গড়াতে লাগল।
***
জীবন এমনই। পুরোপুরি বেকুবগুলো নিজেদের প্রকাশ করতে চায়। ওদের নাকের ওপর ঘুষি মারা দরকার। হ্যাঁ ঠিকই; নাকেই!
যেদিকেই তাকাই, সর্বত্র আমি দেখি অপরাধীর মতো সেই বোকা মানুষের মুখ। ওদের সবারই দরকার নাকে এক জোড়া বুটের লাথি।