চোখ বেঁধে হাঁস ধরা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা—গ্রামীণ খেলায় প্রাণবন্ত এক দিন

· Prothom Alo

কোথাও চোখ বাঁধা অবস্থায় হাঁস ধরতে দিক্‌ভ্রান্ত ছোটাছুটি, কোথাও তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠার প্রাণান্তকর চেষ্টা। পানিতে বালিশ যুদ্ধ ঘিরে হাসির রোল আবার হাঁড়ি ভাঙার লক্ষ্যভ্রষ্ট চেষ্টা দেখে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন তরুণ, মধ্যবয়সী এমনকি প্রবীণেরাও। বয়সের ব্যবধান ভুলে এক দিনের জন্য এভাবে উচ্ছ্বাসে মাতেন সবাই।

আজ রোববার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া গ্রামে বসেছিল গ্রামীণ খেলাধুলার এমনই এক মিলনমেলা। দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি, কুড়িগ্রামের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।

Visit afsport.lat for more information.

গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যেতে বসা খেলাধুলার পরিচয় তুলে ধরতেই পাঁচ বছর ধরে ডাক্তারপাড়া গ্রামে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

এ আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই আশপাশের গ্রামের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চোখ বেঁধে হাঁস ধরা। চোখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় হাঁস ধরতে গিয়ে প্রতিযোগীদের দিক্‌ভ্রান্ত ছোটাছুটি দেখে হাসিতে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠার প্রতিযোগিতায়ও ছিল বাড়তি উত্তেজনা। পিচ্ছিল গাছ বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টায় বারবার পিছলে পড়ছিলেন প্রতিযোগীরা। তাঁদের চেষ্টা আর ব্যর্থতার মাঝেই চলছিল দর্শকদের প্রাণখোলা উচ্ছ্বাস।

পুকুরে বালিশ খেলা দেখতে পাড়ে দর্শকেরা

এ ছাড়া ছিল পানিতে বালিশ যুদ্ধ, হাঁড়িভাঙা, সাঁতার, বিস্কুট দৌড়, মার্বেল দৌড় ও যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা। প্রতিটি খেলায় অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত। হারিয়ে যেতে বসা এসব খেলার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় গ্রামবাংলার শিকড়ের সঙ্গে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান, এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি, কুড়িগ্রামের প্রকল্প সমন্বয়ক মকলেছুর রহমান, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি রেজওয়ানুল হক নুরনবী প্রমুখ।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, মুঠোফোনে আসক্তি ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত রেখে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।

খেলা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শেষ হয়।

Read full story at source