৬৩ বছর পর নতুন রূপে হিচককের ‘দ্য বার্ডস’
· Prothom Alo

শান্ত এক সমুদ্রতীরবর্তী শহর। হঠাৎই বদলে যায় সেখানকার পরিবেশ। আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে পাখি। মানুষের ওপর শুরু হয় ভয়ংকর আক্রমণ। কেন এমন হচ্ছে, কেউ জানে না। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া আলফ্রেড হিচককের ‘দ্য বার্ডস’ চলচ্চিত্রের এই রহস্যময় আতঙ্ক এখনো ভৌতিক সিনেমাপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। ছয় দশকের বেশি সময় পর সেই গল্পই নতুনভাবে পর্দায় ফিরছে। এবার চলচ্চিত্র নয়, টেলিভিশন সিরিজ।
হিচককের বিখ্যাত ভৌতিক চলচ্চিত্র এবং এর মূল সাহিত্যকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন সিরিজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এইচবিও। সীমিত পর্বের সিরিজটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘সাকসেশন’খ্যাত অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী সারা স্নুক। নতুন এই সংস্করণে পাখিদের ভয়ংকর আক্রমণের পাশাপাশি থাকবে খুনের রহস্য, পারিবারিক সংকট ও এক মায়ের সন্তানকে বাঁচানোর লড়াই।
Visit likesport.biz for more information.
এবার গল্পের পটভূমি আলাস্কা
হিচককের চলচ্চিত্রের সরাসরি পুনর্নির্মাণ হচ্ছে না নতুন সিরিজটি। মূল গল্পের সময়, স্থান ও চরিত্রে আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। হিচককের চলচ্চিত্রের ঘটনাপ্রবাহ ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী শহর বোডেগা বে-তে। নতুন সিরিজের গল্প এগোবে বর্তমান সময়ের আলাস্কায়।
সারা স্নুক অভিনয় করবেন মাইরা ম্যাসি নামের এক নারীর চরিত্রে। মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে তিক্ত আইনি লড়াইয়ের পর ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আলাস্কায় নিজের জন্মশহরে ফিরে আসেন তিনি। সেখানে ফিরে শৈশবের এক বন্ধুর রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা গোপনে অনুসন্ধান শুরু করেন মাইরা।
কিন্তু তদন্তে নামার পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। এলাকায় এক খুনি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ব্যক্তিগত হুমকির মুখেও পড়েন মাইরা। এর মধ্যেই শুরু হয় পাখিদের ভয়ংকর আক্রমণ। অস্বাভাবিকভাবে হিংস্র হয়ে ওঠা পাখিরা মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে থাকে।
সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় হলো, পাখিদের এই আক্রমণের সঙ্গে অপরাধের ঘটনাটির কোনো অজানা যোগসূত্র রয়েছে। ফলে একদিকে বন্ধুর নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন, অন্যদিকে নিজের মেয়ের জীবন বাঁচানো—দুই সংকটের মুখোমুখি হতে হয় মাইরাকে।
‘দ্য বার্ডস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবিনির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সিরিজে শুধু পাখিদের আক্রমণ নয়, মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক, ভয় ও বেঁচে থাকার সংগ্রামও গুরুত্ব পাবে।
যে গল্প থেকে হিচককের চলচ্চিত্র
‘দ্য বার্ডস’ চলচ্চিত্রের মূল অনুপ্রেরণা ব্রিটিশ লেখক ড্যাফনে ডু মরিয়ের একই নামের গল্প। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত গল্পটিতে ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালের একটি উপকূলীয় অঞ্চলে পাখিদের অস্বাভাবিক আক্রমণের ঘটনা তুলে ধরা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালাতে থাকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। প্রকৃতির এই অপ্রত্যাশিত আচরণের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে মানুষ।
১৯৬৩ সালে গল্পটি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন আলফ্রেড হিচকক। তবে মূল সাহিত্যকর্ম থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল তাঁর চলচ্চিত্রের কাহিনি।
ছবিতে মেলানি ড্যানিয়েলস নামের এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন টিপি হেড্রেন। সান ফ্রান্সিসকো থেকে বোডেগা বে-তে যাওয়ার পর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। শহরের বাসিন্দাদের ওপর আচমকা আক্রমণ শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। ছবিতে আরও অভিনয় করেছিলেন রড টেলর ও জেসিকা ট্যান্ডি।
বিশেষ করে পাখিদের আক্রমণের দৃশ্য, শব্দের অভিনব ব্যবহার এবং আতঙ্কের কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ার কৌশল ছবিটিকে ভৌতিক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্বতন্ত্র জায়গা করে দিয়েছে।
এইচবিওতে ফিরছেন সারা স্নুক
নতুন সিরিজটির অন্যতম বড় আকর্ষণ সারা স্নুক। এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘সাকসেশন’-এ শিভ রয় চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান তিনি। চার মৌসুমের এই সিরিজে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। চরিত্রটির জন্য একটি এমি ও দুটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পেয়েছেন সারা।
‘সাকসেশন’-এ ক্ষমতাধর একটি মিডিয়া পরিবারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও জটিল মানসিকতার নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে ‘দ্য বার্ডস’-এ তাঁকে দেখা যাবে এমন এক মায়ের ভূমিকায়, যিনি রহস্যময় বিপদের মধ্যে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
সারা স্নুক। রয়টার্সসম্প্রতি পিককের থ্রিলার সিরিজ ‘অল হার ফল্ট’-এও অভিনয় করেছেন সারা। সিরিজটিতে অভিনয়ের জন্য এমি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া মঞ্চেও সাফল্য পেয়েছেন। অস্কার ওয়াইল্ডের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একক অভিনয়ের মঞ্চনাটক ‘দ্য পিকচার অব ডোরিয়ান গ্রে’-এর জন্য ২০২৫ সালে টনি পুরস্কার জেতেন এই অভিনেত্রী।
‘দ্য বার্ডস’-এর মাধ্যমে আবার এইচবিওর সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন সারা। তবে এবার তাঁর চরিত্র ও গল্পের ধরন ‘সাকসেশন’ থেকে একেবারেই আলাদা।
১৩০ কোটি মিনিট ভিউ ১১ দিনে! ‘ক্রিস্টাল লেক’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়নেপথ্যে কারা
সিরিজটির প্রথম পর্বের চিত্রনাট্য লিখেছেন টম স্পেজিয়ালি। তিনি নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বও পালন করবেন। এর আগে এইচবিওর ‘দ্য লেফটওভারস’ ও ‘ওয়াচমেন’ সিরিজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আরও রয়েছেন ডেভিড হেইম্যান, ড্যানি সামিট ও জেনিফার গ্যাবলার রলিংস। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বেও থাকবেন সারা স্নুক।
ডেভিড হেইম্যানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হেইডে টেলিভিশনও প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। ‘হ্যারি পটার’ চলচ্চিত্র সিরিজের প্রযোজক হিসেবে পরিচিত হেইম্যান বর্তমানে এইচবিওর নতুন ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের সঙ্গেও কাজ করছেন।
এইচবিওর সঙ্গে যৌথভাবে নতুন ‘দ্য বার্ডস’ সিরিজের প্রযোজনায় থাকছে ইউনিভার্সাল গ্লোবাল টেলিভিশন। মূল সাহিত্যকর্ম ও চলচ্চিত্রের স্বত্ব রয়েছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স এবং ডু মরিয়ের উত্তরাধিকারীদের কাছে।
আগেও হয়েছিল নতুন করে নির্মাণের চেষ্টা
হিচককের ‘দ্য বার্ডস’ নতুন করে পর্দায় আনার উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। ২০০৭ সালে নাওমি ওয়াটসকে নিয়ে চলচ্চিত্রটির নতুন সংস্করণ নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছিল। পরিচালক হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল মার্টিন ক্যাম্পবেলের। কিন্তু প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
পরে ২০১৭ সালে বিবিসির জন্য ‘দ্য বার্ডস’ অবলম্বনে টেলিভিশন সিরিজ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। সেই উদ্যোগও পর্দা পর্যন্ত পৌঁছায়নি।
এবার এইচবিওর উদ্যোগে গল্পটি নতুন রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্তভাবে সিরিজটি নির্মাণের অনুমোদন, শুটিং শুরুর সময় কিংবা মুক্তির দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। সারা স্নুক ছাড়া অন্য অভিনয়শিল্পীদের নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে