ডিম সম্রাটের আত্মকাহিনি

· Prothom Alo

‘বাবা আমার, মন দিয়ে শোন। আজ তোর ইংরেজি পরীক্ষা। পারিস আর না পারিস, খাতায় অন্তত গোটা চারেক আন্ডা যেন আসে! ঘরে কিন্তু ডিমের স্টক শেষ, রাতে মেহমান আসবে।’

আজ সকালে রান্নাঘরে গিয়ে এক চরম ধাক্কা খেলাম। ডিমের হালি নাকি ষাট টাকা পার হয়ে যেতে পারে! বাজারে গেলে এখন ডিমের ঝুড়ির দিকে তাকালে মনে হয়, এই তো—এগুলোই তো বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক গল্পকার ঈশপের গল্পের সেই সোনার ডিম দেওয়া হাঁস-মুরগির ডিম! চারদিকে এখন ডিমের বাজারে আগুন লাগতে শুরু করল। কী হয় না হয়, আল্লাহই মালুম...।

Visit newsbetting.bond for more information.

বাজারের ​ডিমগুলোর দিকে তাকালে বড্ড আফসোস হয়! কেন জানেন? স্কুলে থাকতে মাস্টারমশাইরা পরীক্ষার খাতায় আমায় যে পরিমাণ লাল কালির আন্ডা উপহার দিয়েছিলেন, সেগুলো যদি সত্যি সত্যি ফার্মের হাঁস-মুরগির ডিম হয়ে বাস্তবে ফিরে আসত!  

​তাহলে আজ আমি কে হতাম? উত্তর হলো—‘দ্য গ্রেট আন্ডা সম্রাট’! আজ তাহলে আমাকে আর চাকরি বা ব্যবসার পেছনে ছুটতে হতো না।

​আমার স্কুলের দিনগুলোর কথা ভাবলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। গণিত আর হিসাববিজ্ঞানের খাতাগুলো ছিল যেন ডিমের একেকটা আধুনিক পোলট্রি ফার্ম! বিশেষ করে আমাদের ক্লাসের গণিত শিক্ষক—কালাম স্যার; যিনি বউয়ের ওপরের রাগগুলো আমার ওপর চালিয়ে দিতেন। পরম মমতায় বিশাল একখানা লাল কালির গোল গোল আন্ডা বসিয়ে নিচে সই করে দিতেন।

​তখন বাড়ি ফিরলেই শুরু হতো অন্য কেচ্ছা। আম্মা এক হাতে ঝাড়ু আর অন্য হাতে রুটি বেলার বেলন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। খাতা দেখেই চিল-চিৎকার, ‘আবার আন্ডা এনেছিস! তোর এই আন্ডা দিয়ে আমি কি এখন তোকে ডিমের ঝোল রেঁধে খাওয়াব?’

​আহা! আজ যদি সত্যিই ওই খাতায় পাওয়া আন্ডাগুলো হাঁস-মুরগির তাজা ডিম হয়ে আমার ঘরে জমা হতো, তবে দৃশ্যের রূপান্তরটা কেমন হতো, চিন্তা করুন!  

​সকালবেলা পরীক্ষার দিন আম্মা আমাকে তাড়া করার বদলে প্লেটভর্তি পরোটা নিয়ে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, ‘বাবা আমার, মন দিয়ে শোন। আজ তোর ইংরেজি পরীক্ষা। পারিস আর না পারিস, খাতায় অন্তত গোটা চারেক আন্ডা যেন আসে! ঘরে কিন্তু ডিমের স্টক শেষ, রাতে মেহমান আসবে।’

​স্কুলে কালাম স্যার যখন ক্লাসে খাতা দিতেন, আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলতাম, ‘স্যার, উত্তরের দুই লাইনের জন্য এক নম্বর না দিয়ে আমাকে আন্ডাটাই দিয়ে দিন না! এক নম্বরে তো আর ডিম হয় না, আর একটা আন্ডা পেলে আমার এক ডজন পুরো হয়ে যেত! বিকেলে পাইকারি বাজারে পাঠাতাম।’

​স্যার হয়তো রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলতেন, ‘গাধা কোথাকার! পড়াশোনা না করলে ভবিষ্যতে কি ডিম বেচবি নাকি?’

আজ এই মধ্যবিত্ত বয়সে এসে বাজারদরের ধাক্কায় মনে হয়—ইশ্‌, সেই আন্ডাগুলো যদি আজ কোনো জাদুবলে আমার ফ্রিজে এসে জমা হতো! জীবনের সব দুঃখ, মধ্যবিত্তের সব টানাটানি একনিমেষে একটা হাসির ডিমপোচ হয়ে মিলিয়ে যেত।

​আমি তখন বিজয়ের হাসিতে জবাব দিতাম, ‘স্যার, আপনার দয়ায় সেই ব্যবসাতেই তো আজ ডিলারশিপ নিয়ে ফেলেছি! আপনি দয়া করে লাল কালিটা একটু চড়া করে চালাবেন, সাইজটা যেন আবার দেশি হাঁসের ডিমের মতো বড় হয়!’

​চিন্তা করে দেখুন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব হিসাব-নিকাশ বদলে যেত!

​টাকাপয়সা নিয়ে তখন আমার কোনো মাথাব্যথা থাকত না। আমার নজর থাকত আন্ডা ইনডেক্সে। এলাকার মোড়ের দোকানে আমার নাম দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলত: ‘এখানে অর্গানিক, হিসাববিজ্ঞান ও গণিতে ফেল করা খাঁটি খাতার ডিম পাওয়া যায়।’

​ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামে আমার নতুন ছবি ভাইরাল হতো। পেছনে বিশাল ডিমের ট্রাক, আর ক্যাপশনে লেখা: ‘স্কুলের শিক্ষকেরাই আমার আসল অনুপ্রেরণা। তাঁরা না থাকলে আজ আমি এত বড় ডিমের আড়তদার হতে পারতাম না!’

​আসলে জীবনটা বড়ই অদ্ভুত। ছোটবেলায় যে আন্ডা পাওয়ার ভয়ে রাতে ঘুম আসত না, মায়ের বকুনিতে চোখ দিয়ে জল পড়ত, আজ এই মধ্যবিত্ত বয়সে এসে বাজারদরের ধাক্কায় মনে হয়—ইশ্‌, সেই আন্ডাগুলো যদি আজ কোনো জাদুবলে আমার ফ্রিজে এসে জমা হতো! জীবনের সব দুঃখ, মধ্যবিত্তের সব টানাটানি একনিমেষে একটা হাসির ডিমপোচ হয়ে মিলিয়ে যেত।

আমি হলাম গ্লোবাল ডিগবাজি স্টার: জায়েদ খানসবজান্তা সমীপেষুচাঁদ দখলডাব সমাচারবন্ধু ফার্মেসিরসচিঠিচাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেনঅজুহাতের কামব্যাকএলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথকোথায় কোথায় কালি মাখানো যায়?স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদনরস+আলো নোবেল ২০২৬

Read full story at source