ঢাকায় চট্টগ্রামের মেজবান, স্বাদে-আয়োজনে চাটগাঁইয়া ঐতিহ্য

· Prothom Alo

চাটগাঁইয়া গানের সুর, মেজবানি গোশতের ঝাঁজ আর ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির মিষ্টি স্বাদ—চট্টগ্রামের খাদ্যসংস্কৃতি ও আতিথেয়তার আবহ নিয়ে রেনেসন্স ঢাকা গুলশান হোটেলে চলছে ‘মেজ্জানত আইয়ুন’।

চট্টগ্রামের মেজবান মানে শুধু বড় হাঁড়িতে রান্না করা মাংস আর পেটপুরে খাওয়াদাওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন আর অতিথিকে আপন করে নেওয়ার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। সেই ঐতিহ্যকে ঢাকার বুকে তুলে ধরতে রেনেসন্স ঢাকা গুলশান হোটেলের বাহার মাল্টি-কুইজিন রেস্টুরেন্ট আয়োজন করেছে বিশেষ থিমভিত্তিক বুফে ডিনার ‘মেজ্জানত আইয়ুন’।

Visit afsport.lat for more information.

১১ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এখানে খাবারের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিচয়ও। আয়োজনের শুরুতে হোটেলের কর্মীদের পরিবেশনায় চাটগাঁইয়া গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। ফলে পুরো অভিজ্ঞতায় যুক্ত হয়েছে স্থানীয় সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত আবহ।

মেজবানি গোশত থেকে আখনি বিরিয়ানি

মেজবানের আসল আকর্ষণ নিঃসন্দেহে মেজবানি গোশত। মসলার গভীরতা, ঝালের তীব্রতা আর মাংসের স্বতন্ত্র স্বাদের সমন্বয়ে তৈরি এই পদ চট্টগ্রামের রন্ধনঐতিহ্যের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। বিশেষ ধরনের মসলা ও রান্নার কৌশল একে সাধারণ গরুর মাংসের তরকারি থেকে আলাদা করে।

বাহারের বুফেতে মেজবানি গোশতের সঙ্গে থাকছে চাটগাঁইয়া আখনি বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি, ছোলার ডাল ও আতপ ভাত। মসলার সুবাস, মাংসের সমৃদ্ধ স্বাদ আর ভাতের সঙ্গে পরিচিত অনুষঙ্গগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে মেজবানি খাবারের চেনা পরিবেশ।

শুঁটকি, মাছ আর ভর্তার বাহার

চট্টগ্রামের খাদ্যসংস্কৃতিতে শুঁটকির উপস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় জীবনযাপন ও মাছ সংরক্ষণের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই উপকরণ স্থানীয় রান্নায় এনে দেয় স্বতন্ত্র স্বাদ। আয়োজনটিতে থাকছে লইট্টা শুঁটকি ভুনা ও ছুরি শুঁটকি দোপিয়াজা।

মাছের পদেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ভেটকি পাতুরি, লইট্টা ফিশ ফ্রাই, রূপচাঁদা ফ্রাই ও পতেঙ্গার চিংড়ির চপ রয়েছে মেনুতে। পাশাপাশি লইট্টা শুঁটকি, জলপাই, আমলকী ও আমের আচার খাবারের স্বাদে যোগ করবে টক, ঝাল ও মিষ্টির ভিন্ন মাত্রা।
দেশীয় খাবারের প্রতি যাঁদের আলাদা দুর্বলতা, তাঁদের জন্য রয়েছে ভর্তা ও পিঠার আয়োজন। লাইভ স্টেশনে চাপটি ও চিতই পিঠার সঙ্গে পরিবেশন করা হচ্ছে ধনিয়াপাতা, শুঁটকি, সরিষা ও কালোজিরার ভর্তা। তাওয়া স্টেশনে লুচির সঙ্গে থাকছে কলিজা। গরম গরম খাবার আর পছন্দমতো ভর্তার সমন্বয়ে এখানে মিলবে ঘরোয়া খাবারের পরিচিত স্বাদ।

পিঠাপুলি ও মিষ্টিমুখ

বাংলার খাবারের আয়োজনে মিষ্টিমুখের পর্বটি আলাদা গুরুত্ব পায়। ‘মেজ্জানত আইয়ুন’-এও তার ব্যতিক্রম নেই। ক্ষীর সন্দেশ, রসমালাই, সন্দেশ ও মিষ্টি দইয়ের পাশাপাশি রয়েছে তাল পিঠা ও মেড়া পিঠা। লাইভ স্টেশনে তৈরি হবে ভাপা পিঠা ও ক্ষীর পাটিসাপটা। ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি ও মিষ্টির এই সমাহার খাবারের অভিজ্ঞতায় যোগ করবে বাঙালিয়ানার চেনা আমেজ।

খাবারের বাইরে যে গল্প

মেজবান চট্টগ্রামের মানুষের কাছে সামাজিক বন্ধন ও আতিথেয়তার প্রতীক। বিশেষ উপলক্ষে বহু মানুষকে একসঙ্গে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানোর এই রীতি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনজীবনের অংশ। তাই মেজবানের খাবার উপভোগ করার অভিজ্ঞতা কেবল স্বাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভাগ করে খাওয়া, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠার অনুভূতি।

সেই সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে ঢাকায় উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে ‘মেজ্জানত আইয়ুন’। চাটগাঁইয়া গানের সুর থেকে মেজবানি গোশত, শুঁটকি, ভর্তা আর পিঠাপুলি—সব মিলিয়ে আয়োজনটি চট্টগ্রামের খাবার ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে ভিন্ন পরিসরে।
রেনেসন্স ঢাকা গুলশান হোটেলের তৃতীয় তলায় অবস্থিত বাহার মাল্টি-কুইজিন রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বুফে ডিনার। জনপ্রতি মূল্য ৮ হাজার ৯৯৯ টাকা নেট। এ ছাড়া অতিথিদের জন্য রয়েছে ‘একটির দামে তিনটি বুফে’ বিশেষ অফার, যা সব ধরনের পেমেন্ট পদ্ধতিতে প্রযোজ্য।

ছবি: হাল ফ্যাশন ও রেনেসন্স ঢাকা গুলশান হোটেল

Read full story at source