‘আমার সাহিত্যিক জীবন স্রোতস্বিনী নদীর মতো’

· Prothom Alo

১৪ বছর বয়সে লেখালেখির শুরু। এরপর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে গল্প, উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনিতে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। মুক্তিযুদ্ধসহ জীবনের নানা অভিঘাত তাঁর লেখকসত্তাকে সমৃদ্ধ করেছে। নিজের সাহিত্যিক জীবনকে তিনি বলেছেন, ‘স্রোতস্বিনী এক নদী’, যা কালের অভিজ্ঞতায় ধীরে ধীরে ‘ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নদের’ রূপ নিয়েছে। সাহিত্য, জীবন ও সময়ের নানা প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষে কথা বলেছেন ফিরোজ এহতেশাম।

Visit syntagm.co.za for more information.

প্রথম আলো: আপনি একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সাহিত্যিক। চিকিৎসা করতে গিয়ে মানুষের মন সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা আপনার সাহিত্যিক দৃষ্টিকে কতটা প্রভাবিত করেছে?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: আমি ১৪ বছর বয়স থেকেই লিখছি। তখনই বড়দের সাহিত্য পাতায় আমার লেখা স্থান পেয়েছে। ছোটদের পাতায় তো নিয়মিত একজন লেখক ছিলাম আমি। একটি লেখা নয়, অসংখ্য লেখা।

বড় হয়ে ডাক্তারি পাস করারও অনেক বছর পর মানসিক ব্যাধিবিদ্যায় জ্ঞান অর্জন করি। তার আগেই আমার দু–দুটো বই বেরিয়ে গেছে। অগ্রণী ব্যাংক–শিশুসাহিত্য পুরস্কারও আমার ঝোলায় এসে জুটেছে। সুতরাং এই ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে তাড়াতে হবে যে আমি মনোবিদ হওয়ার পর মানুষের মন জেনেছি, তারপর লিখেছি! আমি মনোবিদ হয়েছি মধ্য বয়সে। তবে হ্যাঁ, মানুষের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা তার লেখায় ছায়া ফেলে। এই বিদ্যা আমাকে আরও বেশি করে আমার লেখায় মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে।

চিন্তা করে দ্যাখো, আমাদের বাংলা সাহিত্যে কজন মনোবিদ লেখক এখন পর্যন্ত লিখছেন। আর কজন মনোবিদ না হয়েও বাংলা সাহিত্যকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন বিশ্বের দরবারে। সুতরাং এসব আলোচনায় না গিয়ে আমার সাহিত্যকে খোলাচোখে মূল্যায়ন করতে অনুরোধ করি।

প্রথম আলো: মানুষের গভীরতম ভয়, সংকট ও গোপন কথার মুখোমুখি তো আপনি হয়েছেন। সে অভিজ্ঞতা কি আপনার গল্প-উপন্যাসের চরিত্র নির্মাণে প্রভাব ফেলেনি?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: না, সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে হ্যাঁ, মানুষের অনেক সংকট ও গোপন কথার মুখোমুখি হয়েছি সত্যি। তবে তার সবই মানুষের যাপিত জীবনের কথা, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘটে থাকে। বরং এটা বলা যায়, আমার পেশা কিছুটা আমার জীবনের অভিজ্ঞতাকে পোক্ত করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রত্যেক লেখকের নিজস্ব কলমের জাদু তাঁর লেখার ভেতরে মেশানো আছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মাথার ওপরে বোমা পড়ছে, আমি তখন গাড়ি চালিয়ে এয়ারফোর্সের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রনে যাচ্ছি বাঙালি প্রসূতির বাচ্চা ডেলিভারি করতে! কাদা দিয়ে আমার গাড়িটিকে আমি লেপটে ফেলেছি, যেন ওপর থেকে না দেখা যায়। সেই রাস্তায় একটিও জনমানব নেই, শুধু আমি একাকী। আবার রাতের গভীর অন্ধকারে পাকিস্তানি ড্রাইভারের জিপে চড়ে চলেছি বাঙালি বন্দীদের চিকিৎসা করতে।

প্রথম আলো: আপনার লেখায় নারীজীবন ও নারীর মনস্তত্ত্বের নানা জটিলতা উঠে এসেছে। একজন নারী হিসেবে কোন অভিজ্ঞতাগুলো আপনাকে সবচেয়ে বেশি লিখতে বাধ্য করেছে?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: নারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে আমি লিখেছি বটে, তবে পুরুষের মনস্তত্ত্ব নিয়েও কম লিখিনি। যেহেতু আমি অনেক লিখেছি এবং নারীর কথা প্রায়ই লিখেছি, তাই এই লেখা বেশি হয়েছে। আমি ছেলেবেলা থেকে নারীর দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, হতাশা এবং অহেতুক মারধরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, তাই এই সব লেখা বেশি হয়েছে।

নারীর জীবনের অনেক হতাশা আছে, যা শুরু হয় তার শৈশব থেকে, যখন সে দেখে সে বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার খাবারের পরিমাণ তার ছোট ভাইয়ের চেয়ে অনেক কম, তার হাত খরচের পরিমাণ তার চার বছরের ছোট ভাইয়ের চেয়ে অনেক কম, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে, কেন? সেসব হতাশার ভেতর দিয়ে সাঁতার কেটে একজন মেয়েশিশুকে জীবনের পথে অগ্রসর হতে হয়। এসব অভিজ্ঞতা আমার লেখার ভেতরে হয়তো জারিত হয়ে আমাকে নারীদের বিষয়ে বেশি মনোযোগী করে তুলেছে।

প্রথম আলো: আপনার সাহিত্যিক জীবনের শুরু এবং আজকের অবস্থানের মধ্যে ফিরে তাকালে কোন জায়গাটিকে সবচেয়ে বড় বাঁক বলে মনে হয়?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: আমার সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়েছিল স্রোতস্বিনী এক নদীর মতো। কালের অভিজ্ঞতায় সেই নদী হয়তো ধীরে ধীরে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নদের রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বড় বাঁক আমার জীবনে আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আমার নাজুক অবস্থানের ওপর; বাঙালি মুসলমান হিসেবে আমার অসহায় অস্তিত্বের ওপর; স্বামীহীন, স্বজনহীন হয়ে বেঁচে থাকার সংকটের ওপর এবং নিজের জীবনের গভীরতম ঝুঁকি নিয়ে নিকট আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে নিরাপদে রাখার সংগ্রামের ওপর। প্রতিমুহূর্তের সেই সংগ্রামের কথা বলে শেষ করা যাবে না। সেই সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জীবনকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মাথার ওপরে বোমা পড়ছে, আমি তখন গাড়ি চালিয়ে এয়ারফোর্সের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রনে যাচ্ছি বাঙালি প্রসূতির বাচ্চা ডেলিভারি করতে! কাদা দিয়ে আমার গাড়িটিকে আমি লেপটে ফেলেছি, যেন ওপর থেকে না দেখা যায়। সেই রাস্তায় একটিও জনমানব নেই, শুধু আমি একাকী। আবার রাতের গভীর অন্ধকারে পাকিস্তানি ড্রাইভারের জিপে চড়ে চলেছি বাঙালি বন্দীদের চিকিৎসা করতে। সে সময় আমি মানুষ, মানুষের জীবন, ধর্ম, দেশ, সমাজ, দেশপ্রেম, আনুগত্য সবকিছুর ভেতরে নাগরদোলার মতো ঘুরপাক খাচ্ছি। আমাকে কেউ সাহায্য করার নেই। আমার জীবনসঙ্গীটিও সঙ্গে নেই, যার কাছ থেকে আমি ধার করতে পারি সাহস।

আমার পরবর্তী জীবনে কেউ এ জন্য আমাকে কোনো বাহবা দেয়নি—না আমার পরিবার, না আমার সমাজ। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা আমাকে মানবের জীবন ও তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

তিনি আমার আজীবনের জীবনসঙ্গী ছিলেন এবং সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে সাহিত্য রচনা করতেন। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে মিলত না। আমি সম্পূর্ণভাবে পৃথক ও স্বাবলম্বী ছিলাম। সত্যি বলতে আমরা বোধ হয় দুজনের কেউই এসব নিয়ে কোনো দিন কথা বলিনি। লেখার সময় তিনি এক ঘরে, আমি অন্য ঘরে। তবে হ্যাঁ, বাংলা বানান নিয়ে আমি তাঁকে খুব জ্বালিয়েছি!

প্রথম আলো: বাস্তব মানুষ ও সাহিত্যিক চরিত্রের মধ্যে সীমারেখাটি আপনি কীভাবে নির্ধারণ করেন?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: এটি একজন লেখকের নিজস্ব বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও কল্পনাশক্তির ওপরে নির্ভর করে। তবে আমি কখনোই মানুষের অভিজ্ঞতাকে আমার নিজের কল্পনার ক্ষমতায় আত্মস্থ না করে ব্যবহার করিনি। আমি চিকিৎসক না হয়ে যদি একজন চাকরিজীবীও হতাম, তাহলেও একইভাবে লেখার চেষ্টা করতাম। তা না হলে সাহিত্য আর সাংবাদিকতায় তফাত থাকত না। তবে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারি না। কারণ, আজকাল অনেক সাংবাদিকতা সাহিত্যকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে! সৈয়দ শামসুল হকও একদিন বলেছিলেন, ভবিষ্যতের সাহিত্য হবে পরিশ্রুত সাংবাদিকতা।

প্রথম আলো: সৈয়দ শামসুল হকের মতো একজন শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র সাহিত্যিকের জীবনসঙ্গী হওয়ায় আপনার নিজের লেখকসত্তা অন্তরালে পড়ে গেছে বলে মনে হয়েছে কি কখনো?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: কখনোই না। তিনি আমার আজীবনের জীবনসঙ্গী ছিলেন এবং সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে সাহিত্য রচনা করতেন। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে মিলত না। আমি সম্পূর্ণভাবে পৃথক ও স্বাবলম্বী ছিলাম। সত্যি বলতে আমরা বোধ হয় দুজনের কেউই এসব নিয়ে কোনো দিন কথা বলিনি। লেখার সময় তিনি এক ঘরে, আমি অন্য ঘরে। তবে হ্যাঁ, বাংলা বানান নিয়ে আমি তাঁকে খুব জ্বালিয়েছি! নিজের লেখাকে আমি কোনো দিন হেলাফেলাও করিনি। বাস্তব জগতে আমি অনেক পাঠকের ভালোবাসা পেয়ে ধন্য হয়েছি।

প্রথম আলো: সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে সাহিত্য নিয়ে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল? আপনারা কি পরস্পরের লেখা নিয়ে নির্মোহ সমালোচনা করতেন?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: আমরা আমাদের কোনো লেখা নিয়ে কোনো দিন আলোচনা করবার যেন সময়ই পাইনি! শুনতে অবশ্যই আশ্চর্য মনে হবে, তবে এটাই সত্যি। তাঁর অধিকাংশ লেখার সময় হয় তিনি দেশে, আমি বিদেশে; অথবা তিনি বিদেশে, আমি দেশে। আর একসঙ্গে যখন ছিলাম, দুজনের লেখা বেরোত, আমার কেন জানি খুব লজ্জা হতো আমার কোনো লেখার কথা নিজ মুখে বলতে। তবে তিনি মাঝেমধ্যে বলতেন, আমার লেখার রেঞ্জ নাকি অনেক বড়। ব্যস, এইটুকু। আরেক দিন শুনলাম তিনি একজনকে বলছেন, আমার ভ্রমণকাহিনিগুলো নাকি দুর্দান্ত। তবে আমি যে ভালো লিখি, এ কথা তো আমি বাংলা একাডেমি বইমেলার সময় একবার নিজেই বলেছিলাম। বস্তুত বাংলা একাডেমি পুরস্কার আমি যে বয়সে পেয়েছি, সে বয়সে মানুষের কবরে থাকার কথা!

সাফল্য জীবনে এল কি এল না, তা আমার মাথাব্যথা নয়। পৃথিবীর বহু লেখক ও শিল্পী তাঁদের জীবদ্দশায় সাফল্য চোখে দেখেননি, কিন্তু তাঁরা অমর হয়ে আছেন। আবার পৃথিবীর বহু লেখক জীবনে সাফল্য দেখেছেন, কিন্তু মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছেন। পাঠকের মনে থাকাটাই একজন লেখকের লেখার সাফল্য।

প্রথম আলো: একজন লেখকের ব্যক্তিজীবন কতটা তাঁর সাহিত্যের বিষয় হতে পারে? নিজের জীবনকে সাহিত্যে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কি আপনার কোনো সীমারেখা ছিল?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: সাহিত্য একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপাদানে তৈরি হয় বলে আমার ধারণা। জগৎ ও জীবন, বাস্তব অভিজ্ঞতা, বই পড়ার অভিজ্ঞতা, নিজের ব্যক্তিগত শৈশবের অভিজ্ঞতা, প্রেম, ভালোবাসা, ঈর্ষা, ক্ষয়, ক্ষোভ, মনোমালিন্য, রাজনীতি, যুদ্ধ—সবই লেখার উপজীব্য। তবে সাহিত্যে এর উপস্থাপন লেখকের হাতের জাদুর ওপর নির্ভর করে।

প্রথম আলো: দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আপনি যে বই বা চরিত্রগুলো সৃষ্টি করেছেন, সেগুলোর দিকে আজ ফিরে তাকালে কোন কাজটিকে নিজের সবচেয়ে কাছের বলে মনে হয়?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: সব কাজই আমার কাছের। কোনো কাজই হেলাফেলার নয়। সাহিত্যের প্রতিটি অক্ষরে আমার ঘাম ও মেধা জড়িত। যেন এরা সব নিজেরই ঔরসজাত সন্তান। তবে লিখে আনন্দ পেয়েছি নিঃশব্দতার ভাঙচুর, ব্যবহৃতা, নখ, অস্থিরতার কাল, ভালোবাসার সময়, গুজরিপঞ্চম, ঘুমন্ত খেলোয়াড়, জলনুড়ি—এই সব উপন্যাস আর কিছু ছোটগল্প, এখন আর সেসবের নাম মনে করতে পারছি না। সেদিন কে যেন বললেন, আমার বইয়ের সংখ্যা বর্তমানে নাকি দেড় শর মতো। আমি এসব ব্যাপারে চিরকাল অগোছালো। এখন তো আরও। আমি মানুষের চেহারা ও নাম মনে রাখতে পারি না, কয়েকবার দেখা না হওয়া পর্যন্ত। এসব নিয়ে আমাকে জীবনে বহুবার হেনস্তা হতে হয়েছে। সৈয়দ হক বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাকে অপ্রতিভ হওয়ার অবস্থা থেকে বাঁচাতেন। এখন তো তিনি নেই। তাই আমি বর্তমানে অপ্রতিভ হয়েই চলেছি!

প্রথম আলো: আজকের তরুণ লেখকদের লেখা পড়লে তাঁদের মধ্যে কোন পরিবর্তনটি আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে? তাঁদের লেখায় আপনি কী সম্ভাবনা ও সংকট দেখেন?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: তরুণ লেখকেরা আমার নমস্য। আমি তাদের অধিকাংশের লেখা পছন্দ করি। হাতে পেলে পড়ি। আমি প্রশংসা করি তাদের সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি ও ত্বরিতে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির জন্য। আমার ধারণা, তারা অনেক দূর যাবে, তবে আঠার মতো লেগে থাকতে হবে!

প্রথম আলো: জীবনের এই পর্যায়ে এসে ‘সাফল্য’ শব্দটির অর্থ আপনার কাছে কী? পুরস্কার, পাঠকের ভালোবাসা, নাকি নিজের লেখা নিয়ে তৃপ্তি—কোনটি শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

আনোয়ারা সৈয়দ হক: আমি ‘সাফল্য’ শব্দটির অর্থ বুঝি না, আমি বুঝি শুধু কাজ। আর এই কাজের জন্য বলতে গেলে আমি সব হারিয়েছি। মানুষের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আতিথেয়তা, আত্মীয়স্বজনের কাছে নিজের দাম—সব। সাফল্য জীবনে এল কি এল না, তা আমার মাথাব্যথা নয়। পৃথিবীর বহু লেখক ও শিল্পী তাঁদের জীবদ্দশায় সাফল্য চোখে দেখেননি, কিন্তু তাঁরা অমর হয়ে আছেন। আবার পৃথিবীর বহু লেখক জীবনে সাফল্য দেখেছেন, কিন্তু মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছেন। পাঠকের মনে থাকাটাই একজন লেখকের লেখার সাফল্য। আমি কোনো পাঠকের মনে আছি কি না জানি না, তবে না থাকার সম্ভাবনা শতকরা এক শ ভাগ। তবে আমার নিজেরই নিজের লেখার প্রতি একধরনের অতৃপ্তি আছে।

Read full story at source