নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: ২৪টি যোগ্যতা থাকলেই পাবেন পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা

· Prothom Alo

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, ইউরোপের পর নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এর পেছনে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ বাড়ানোসহ নানা কারণ রয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাঁরা পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য যোগ্য হবেন না, তাঁদের জন্য ছয় মাসমেয়াদি নতুন ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা’ও চালু করা হবে।

Visit milkshakeslot.online for more information.

এদিকে নিউজিল্যান্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে ২৪টি অনুমোদিত শিক্ষাগত যোগ্যতার তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় লেভেল ৪ সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা পর্যন্ত বিভিন্ন কোর্স অন্তর্ভুক্ত আছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, নির্মাণ, শিক্ষা ও কৃষি খাতের স্নাতকেরা এই ভিসার আওতায় পড়বেন।

নিউজিল্যান্ড কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (NZQF) অনুযায়ী লেভেল ৭ বা তার নিচের নন-ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা কেবল তাদের পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চাকরিতে কাজ করতে পারবেন। অর্থাৎ, যোগ্যতা অর্জনের পরে চাকরির ক্ষেত্র অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হতে হবে।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, আবেদন যেভাবে

তালিকায় যা যা রয়েছে—

*লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন হাইওয়ে বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, যা নির্মাণ প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজের সুযোগ দেবে

*লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, যা প্রকল্প ব্যবস্থাপক বা বিল্ডার হিসেবে কাজের সুযোগ তৈরি করবে

*লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন কোয়ান্টিটি সার্ভেয়িং, যা কোয়ান্টিটি সার্ভেয়ার হিসেবে চাকরির যোগ্যতা দেবে

*শিক্ষা খাতে গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, যা নিউজিল্যান্ড টিচিং কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা শিশুশিক্ষকের পদে কাজের সুযোগ দেবে

*লেভেল ৬ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস বা মেকানিক্যাল), যা সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান পদে চাকরির সুযোগ তৈরি করবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল মাস্টার অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে ভর্তি, ২.৫০ সিজিপিএ হলে আবেদন

*লেভেল ৫ বা তার বেশি ডিপ্লোমা ইন ফার্ম ম্যানেজমেন্ট, অ্যাগ্রিকালচার বা ডেইরি টেকনোলজি, যা ডেইরি ক্যাটল ফার্মার হিসেবে কাজের সুযোগ দেবে

*লেভেল ৪ সার্টিফিকেট ইন অটোমোটিভ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা হেভি অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং, যা অটোমোটিভ ইলেকট্রিশিয়ান বা ডিজেল মেকানিক হিসেবে চাকরির যোগ্যতা দেবে

*লেভেল ৪ সার্টিফিকেট ইন অ্যাগ্রিকালচার (ডেইরি বা লাইভস্টক ফার্মিং), যা ডেইরি ক্যাটল ফার্মার হিসেবে কাজের সুযোগ দেবে

*স্কুল বা শিশুশিক্ষকের পদে যোগ্যতা অর্জনের জন্য শুধু ডিপ্লোমা যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীদের নিউজিল্যান্ড টিচিং কাউন্সিলের নিবন্ধন ও সার্টিফিকেশন–প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এ তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বার্তা দিয়েছে। স্নাতকেরা পড়াশোনা শেষে কোন খাতে কাজ করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শুরুর আগেই ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা পাবেন।

এদিকি আইডিপি এডুকেশন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের হেড অব সেলস অ্যান্ড অপারেশন আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিউজিল্যান্ডের এই পরিবর্তন বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য নতুন একটি সুযোগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যাঁরা স্বল্প সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে চান। তবে এই ক্ষেত্রে পোস্ট–স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর। অন্যদিকে ভালো একাডেমিক প্রোফাইল ও আর্থিক সক্ষমতা থাকা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রির সুযোগও বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিন বছর পর্যন্ত পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব যোগ্যতা, আর্থিক সামর্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করেই উপযুক্ত পথ বেছে নেওয়া উচিত।

*আরও বিস্তারিত তথ্য পাবেন এখানে

নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ বাড়ল, চালু হচ্ছে নতুন যে ভিসা

Read full story at source