সাপের কামড়ে শিক্ষার্থী আইসিইউতে, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
· Prothom Alo

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে বিষধর সাপে কামড়ানো শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর অ্যান্টিভেনম দিয়ে প্রথমে সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
Visit mchezo.co.za for more information.
এদিকে হলের মধ্যে ঘুমন্ত এক শিক্ষার্থীকে সাপে কামড়ানোর ঘটনার পর প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ কয়েক দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে হলের বিভিন্ন স্থানে দাবিসংবলিত প্রচারপত্র ও পোস্টার সাঁটিয়ে তাঁরা প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
কর্মসূচি থেকে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিসহ দ্রুত সাপ প্রতিরোধী জাল স্থাপন, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাপের উপদ্রব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘হলে আগেও শিক্ষার্থীর মশারির ওপরে বিষধর সাপ দেখা গেছে। বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানালেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হলের চারপাশের জঙ্গল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে।’
মশারির ওপর কিছু একটা নড়ছিল, লাইট জ্বালিয়ে দেখেন বিষধর সাপআন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমাদের হলের চারপাশের অবস্থা এমন যে বসবাসের অনুপযোগী। আমরা হল প্রশাসন ও প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরও তাঁরা কোনো যৌক্তিক ব্যবস্থা নেননি। এক মাস পর আমাদের এক বন্ধুকে সাপে দংশন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এক শিক্ষার্থীকে সাড়ে কামড়ানোর ঘটনার পর হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলেআন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সেখানে উপস্থিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ অন্য প্রতিনিধিরা। মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘রুমের ভেতরে যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে না পারেন, তাহলে আমাদের প্রশ্ন—হল প্রশাসন সেখানে কী করছে? আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানাচ্ছি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীকে কেটেছে বিষধর সাপপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
আজ ভোরে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের নিচতলায় ১৩৮ নম্বর কক্ষে নূরনবী ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে সাপে কামড় দেয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার পর ওই কক্ষ থেকে প্রায় ৩ ফুট লম্বা পাতি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই শিক্ষার্থীকে ‘কমন ক্রেইট’ বা পাতি কালাচ সাপে কামড় দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হল সংসদ ও হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের বিকেলে সভা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা হল প্রাধ্যক্ষের তালা খুলে দেন।
ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রক্টর বলেন, সাধারণ ওয়ার্ডে রাখার সময় সকাল ১০টার পর তাঁর শরীরের রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আশা করছেন, আগামীকাল সকালের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একই হলের ১২১ নম্বর কক্ষে এক শিক্ষার্থীর মশারির ওপর থেকে আরেকটি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন কেউ সাপটির আক্রমণের শিকার না হলেও ওই ঘটনায় হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাপের আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল।