সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের শক্তি
· Prothom Alo

তোমরা কি জানো, তোমাদের বাসার আশপাশে জমে থাকা সামান্য পানিতে কতগুলো এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে? সেই লার্ভাই একসময় পরিবারের জন্য ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ। কখনো কি ভেবে দেখেছ, ঘরের চারপাশে পড়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত পাত্র, টব কিংবা নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে জমে থাকা পানি কত বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?
ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনা বন্ধুসভার সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম পর্বে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন আলোচকেরা। ২০ সেপ্টেম্বর সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
Visit tr-sport.click for more information.
আলোচক হিসেবে ছিলেন চিকিৎসক বন্ধু সিয়াম ফিরদাউস। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে ডেঙ্গুর কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে কী করণীয়, এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
সিয়াম ফিরদাউস বলেন, ‘একজন মানুষ তাঁর বাড়ির টবের পানি ফেলে দিতে পারেন, কিন্তু পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি তিনি সরাতে পারেন না। নিজের বারান্দা পরিষ্কার রাখতে পারেন, কিন্তু রাস্তার পাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা বন্ধ ড্রেনের দায় একা নিতে পারেন না। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব যখন শুধু নাগরিকের ঘাড়ে চাপানো হয়, তখন সমস্যার একটি বড় অংশ অগোচরেই থেকে যায়।’
খুলনা বন্ধুসভার সভাপতি স্বর্ণকমল রায় বলেন, ডেঙ্গু নীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হতে পারে ‘মশা মারা’ থেকে ‘মশার প্রজননের সুযোগ কমানোয়’ মনোযোগ দেওয়া। ডেঙ্গু সচেতনতাই প্রতিরোধের শক্তি ও হাতিয়ার।
সেমিনার শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কুইজে বিজয়ী হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষার্থী ফ্লোরা বিশ্বাস ও তালহাজ জুনায়েদ। তাদের বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক জুই আক্তার, বন্ধু শুভজিৎ সরকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলামসহ অনেকে।
সাধারণ সম্পাদক, খুলনা বন্ধুসভা