সারের নতুন ডিলার নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি বিএফএর
· Prothom Alo

নতুন নীতিমালার বিভিন্ন ধারা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সারের নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।
সংগঠনটির দাবি, তড়িঘড়ি করে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হলে সার বিতরণ ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি, বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। নয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন বিএফএর চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন।
Visit esporist.org for more information.
আজ সোমবার পল্টনে সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বিএফএ। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে।
সংগঠনটি বলেছে, নীতিমালার অস্পষ্টতা দূর করা, বিদ্যমান ডিলারদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং সার বিতরণ ব্যবস্থার বাস্তব সক্ষমতা মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিত রাখা উচিত।
বিএফএ বলছে, পরিপত্রে বিদ্যমান ডিলারের পাশাপাশি প্রতি ইউনিয়নে একজন করে নতুন ডিলার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তবে ‘বিদ্যমান ডিলার’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক বা একাধিক ডিলার রয়েছেন। ফলে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হলে কোনো কোনো ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা তিন বা তার বেশি হতে পারে বলে সংগঠনটি মনে করছে।
বিএফএ বলেছে, নতুন নীতিমালায় বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের একই শ্রেণির সার ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দুই ধরনের ডিলারের নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা জামানত, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, বিসিআইসি ডিলাররা ১৯৯৫ সাল থেকে দুই লাখ টাকা নিরাপত্তা জামানত দিয়ে সার বিতরণের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে বিএডিসির ডিলাররা মূলত বীজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৯ সাল থেকে ২৫ হাজার টাকা নিরাপত্তা জামানতের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিএফএ বলেছে, নতুন ডিলার নিয়োগের আগে বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের অবস্থান, ‘বিদ্যমান ডিলার’ হিসেবে তাঁদের মর্যাদা এবং প্রতিটি ডিলার ইউনিটে ডিলারের সংখ্যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসের শর্ত রাখা হয়েছে। তবে নিজ এলাকার বাইরে বৈধভাবে কার্যরত বিদ্যমান ডিলারদের ডিলারশিপ কীভাবে বহাল থাকবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই বলে দাবি করেছে বিএফএ।
সংগঠনটির মতে, ডিলারশিপ বহাল রাখা, নবায়ন, স্থানান্তর, পুনর্বিন্যাস বা বাতিলের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ডিলারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ
নতুন ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আলোচনা চলছে বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বিএফএ বলেছে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে সার কৃষি উৎপাদনের জন্য একটি সংবেদনশীল উপকরণ হওয়ায় ডিলার নিয়োগে অভিজ্ঞতা ও সরবরাহ সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কমিশন বাড়ানোর দাবি
সার বিক্রিতে ডিলারদের কমিশন বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছে বিএফএ। সংগঠনটির দাবি, ১৮ বছর ধরে এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।
বিএফএ বলছে, ২০০৮ সালে বস্তাপ্রতি পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন মিলিয়ে ১০০ টাকা ছিল। তখন অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ডিলারদের বস্তাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমিশন থাকত। বর্তমানে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বস্তায় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি সংগঠনটির।
সরকার বস্তাপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা বাড়িয়েছে, যা ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে বিএফএ বস্তাপ্রতি কমিশন ২০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।