ভৈরবে হাতকড়াসহ পালানো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আবার যেভাবে ধরা পড়লেন

· Prothom Alo

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা রেনু মিয়াকে আবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাধবদী গ্রামে তাঁর বাড়ির পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখনো তাঁর দুই হাতে হাতকড়া ছিল।

গ্রেপ্তার রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি মাধবদী গ্রামের প্রয়াত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন কৌশলে হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান তিনি।

Visit esporist.org for more information.

গতকাল দুপুরে রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তারে তাঁর বাড়িতে চালানো অভিযানে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। পুলিশ তাঁকে ঘরের ভেতরেই হাতকড়া পরায়। পরে তাঁকে বাড়ির উঠানে আনা হয়। এ সময় সেখানে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি ছিল। একপর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ জন নারীসহ লোকজন রেনুকে ঘিরে ফেলেন।

এ সময় রেনু মিয়াকে সেখান থেকে বের করার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় ভিড়ের সুযোগে রেনু হাতকড়া নিয়েই পালিয়ে যান। পুলিশ তাঁর পিছু নিলেও বাড়ির পেছন দিয়ে দ্রুত চোখের আড়ালে চলে যান তিনি।

রেনুকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান

পুলিশ বলছে, রেনু পালানোর পরপরই পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রামের বিভিন্ন প্রবেশপথে পুলিশ অবস্থান নেয়। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অভিযান চালানো হয়। একটি দল ছিল সাদা পোশাকে। আরেকটি দল মোটরসাইকেলে গ্রামে ঘুরছিল। বাড়িতে অবস্থান নেয় আরেকটি দল। পুলিশের ধারণা ছিল, হাতকড়া পরা অবস্থায় রেনুর পক্ষে গ্রাম ছেড়ে যাওয়া কঠিন। এ জন্য তাঁকে গ্রামের মধ্যেই খোঁজা হচ্ছিল।

রেনুকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ আরেকটি কৌশল নেয়। রেনুর বড় মেয়ে, এক বোনসহ পরিবারের সাত সদস্যকে থানায় নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁদের মধ্যে তিনজন নারীর সঙ্গে শিশুসন্তান ছিল। একজন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা।

হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে পালালেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, ধরে নেওয়া হলো ৭ স্বজনকে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রেনুকে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিতে গ্রামবাসীর কাছে সহযোগিতা চায় পুলিশ। গ্রামের কিছু মানুষ সহযোগিতা করেন। তাঁদের ভাষ্য, রেনুর কাছে মুঠোফোন না থাকায় পরিবারের সদস্যদের থানায় নেওয়ার খবর তিনি জানতেন না। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর কাছে খবর পৌঁছায়। ধরা না দিলে পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ধরা দিয়েছেন।

রেনুকে গ্রেপ্তারে প্রথম অভিযানের নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শারফিন মিয়া। দ্বিতীয় দফার অভিযানেও তিনি ছিলেন। শারফিন মিয়া বলেন, ‘রেনুকে গ্রেপ্তারে আমরা মরিয়া ছিলাম। একাধিক কৌশল নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ১০ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আবার হাতে পাই।’

পুলিশ হেফাজতে রেনু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ পুলিশ দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। গ্রামবাসী তাঁর পক্ষে কথা বলায় তিনি পালানোর সুযোগ পান। কিন্তু হাতকড়া নিয়ে তিনি গ্রাম ছাড়তে পারেননি। একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে পরিবারের সাত সদস্যের কথা ভেবে তিনি পুলিশের কাছে ধরা দেন।

নতুন মামলার প্রক্রিয়া চলছে

রেনুর বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় দুটি মামলা থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একটি উপজেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোর ঘটনায়, অন্যটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর করা হয়েছে। দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। রেনুর বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন বলেন, ‘এখনো হয়নি। তবে প্রক্রিয়া চলছে।’ পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বলেন, তাঁরা এখনো থানা হেফাজতে আছেন। তাঁদের মামলার আসামি করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেনু মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও অংশ নিতেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আড়ালে চলে যান। মাঝেমধ্যে গ্রামে এলেও নীরব থাকতেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হলে তিনি আলোচনায় আসেন।

Read full story at source