ভেনিস বিমানবন্দরে চমকে গেলেন সুনেরাহ্‌, কী ঘটেছিল

· Prothom Alo

সুনেরাহ্ বিনতে কামাল

প্রথমবারের মতো ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। তিনি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমায় অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। জানালেন বাংলাদেশের সিনেমাকে তুলে ধরতে ভেনিসে এসে দারুণ সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কিছু ঘটনায় তিনি অভিভূত। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভিনেত্রী হিসেবে প্রাপ্তি, ভালোবাসা।

Visit mchezo.co.za for more information.

গত ৫ আগস্ট ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালির ভেনিস বিমানবন্দরে নামেন এই অভিনেত্রী। পরের দিন ছিল তাঁদের সিনেমাটির প্রিমিয়ার। দীর্ঘ ভ্রমণ–ক্লান্তি শেষে ভেনিস বিমানবন্দরের ভেতরেই কিছুটা সময় ড্রিংকস, কফি খেয়ে কাটান। হঠাৎ বিল দিতে গিয়ে নাকি চমকে উঠতে হয়েছে।

সুনেরাহ বিনতে কামাল। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সুনেরাহ্ বলেন, ‘আমি কফিসহ আরও এটা–ওটা খেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিল দিতে যাব। হঠাৎ দেখি বিল নিচ্ছেন না। তাঁদের কথায় বুঝতে পারলাম বিল লাগবে না। আমি তো অবাক, কেন লাগবে না! পরে সেখানকার একজন বলছিলেন, “আমি আপনাকে চিনি। আমি আপনার অভিনীত নাটক, সিনেমা দেখেছি। আমিও বাংলাদেশি। এ বিলটা আপনি না দিলেই খুশি হব।” পরে তো তাঁরা বিল নিলেন না। এ ঘটনায় আমি আসলে অভিভূত। আমি সম্মানিত বোধ করেছি।’

২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। শেষ হবে ১২ সেপ্টেম্বর। সুনেরাহ্ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার অন্যতম কারণ সিনেমার সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা। সেভাবেই তিনি সব পোশাকের আইডিয়া সাজিয়েছেন। এগুলোও নাকি বিদেশিদের নজর কেড়েছে।

দেশের তৈরি ডিজাইনে প্রশংসিত সুনেরাহ্

সুনেরাহ্‌ বলেন, ‘আমরা আসলে দেশের কোনো কিছুকে অনেক সময় গুরুত্ব দিতে চাই না। অথচ আমার সব পোশাক দেশ থেকে বানানো। এই ডিজাইনগুলো উৎসবের বহু বিদেশি প্রশংসা করেছেন। অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছেন, আমি এটা কোথা থেকে বানিয়েছি। তাঁরা বিশ্বাসই করতে চাননি দেশের তৈরি। পোশাক নিয়ে উৎসবে যেমন ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে আবার যখন আমাদের প্রিমিয়ারের পরে পার্টি ছিল, সেখানেও সবাই আমার পোশাকের ডিজাইন দেখে অভিভূত। কোনোভাবেই বিশ্বাস করাতে পারিনি এগুলো বাংলাদেশের তৈরি। বাংলাদেশের কাজের এই প্রশংসা আমার কাছে অনেক সম্মানের মনে হয়েছে।’

ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক কোনো বিভাগে প্রথমবারের মতো এবার জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। মর্যাদাপূর্ণ এ উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে সিনেমাটি ৬ সেপ্টেম্বর প্রিমিয়ার হয়। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, বিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পারলারের গল্প নিয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক হরর সিনেমাটি। বিয়ের সাজের প্রস্তুতি নিতে নিতে সৌন্দর্য, শরীর, বিশ্বাস, স্মৃতি ও ভয়কে ঘিরে এক অস্বস্তিকর ও রহস্যময় জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে একটি মেয়ে। সামাজিক জনরা সিনেমাটির সঙ্গে যোগ হয়েছে হরর ঘরানা।

সুনেরাহ্ ও জাইনীন করিম

প্রিমিয়ারের পরে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে সুনেরাহ্ বলেন, ‘আমার তো সিনেমায় উপস্থিতি কিছুটা কম সময়ের। এই অংশটুকুই দেখি অনেক দর্শক মনে রেখেছেন। প্রিমিয়ারের পরে সবাই আমাকে সেই চরিত্রের কথা বলে ডাকছেন। এটাও আমাকে বেশ অবাক করেছে।’

এ সময় সুনেরাহ্‌ বলেন, ‘আমার দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রিমিয়ারের পরে। সবাই বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে কথা বলছে। আমাদের সিনেমা বেশির ভাগ দর্শক ও সমালোচকই দেখেননি। তাঁরা বাংলাদেশের সিনেমার খোঁজ নিচ্ছিলেন। আমাকে অনেক দর্শকই বলেছেন, “তোমরা ভালো সিনেমা বানিয়েছ। তোমাদের সিনেমা আরও দেখতে চাই।” আরেকটা মজার ঘটনা শেয়ার করি। আমি তো প্রিমিয়ারের পরে পোল্যান্ডে এসেছি। বিমানবন্দরে আমি অভিনেত্রী, ভেনিসে এসেছি শোনার পরে তারা আমাকে অনেক সম্মান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সিটটাও পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এগুলো অভিনেত্রী হিসেবে আমার প্রাপ্তির খাতা ভারী করল।’

ভেনিসে প্রথমবার বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, দেখে কী বললেন সমালোচকেরা পরিচালক রুবাইয়াতসহ শিল্পী ও কলাকুশলীরা

১২ সেপ্টেম্বর সমাপনী দিনে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে শেষ আয়োজনে হাজির হবেন সুনেরাহ্‌। পরে দেশে ফিরবেন। সবশেষে বললেন, ‘সবার এত প্রশংসা, মনে হচ্ছে আমাদের সিনেমাটি পুরস্কার পেতে পারে। সেই অপেক্ষায় আছি।’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন। সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম চৌধুরী। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু, শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী।

Read full story at source