গরুর মাংস খেলে কি মন ভালো থাকে? ১৪ হাজার মানুষের উপর করা গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

· Prothom Alo

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এমন একটি গবেষণা বেশ আলোচিত হচ্ছে। গবেষণাটি হয়েছিল ব্রাজিলের ১৪ হাজার ২১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য নিয়ে। অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস এবং বিষণ্নতার উপস্থিতির মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখেছিলেন গবেষকেরা। তাঁদের মধ্যে যারা মাংস খেতেন না, তাদের বিষণ্নতার ঘটনা মাংস খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

গবেষণাটি কিন্তু এমনটা বলেনি যে গরুর মাংস খেলেই বিষণ্নতা কমে যাবে। গবেষণায় মূলত একটি সম্পর্ক বা কোরিলেশন দেখা গেছে। গবেষণাটি ছিল ক্রস সেকশনাল, অর্থাৎ একই সময়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও বিষণ্নতার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। ফলে কোনটি কোনটির কারণ, সেটি এই গবেষণা থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। গবেষকেরাও বলেছেন, এই সম্পর্কের প্রকৃতি এখনো স্পষ্ট নয় এবং কারণ নির্ধারণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। মাংস না খাওয়ার কারণে কেউ বিষণ্নতায় ভুগছেন, নাকি বিষণ্নতায় ভোগার কারণে তাঁর খাদ্যাভ্যাস বদলে গেছে, কিংবা দুটির পেছনে অন্য কোনো কারণ কাজ করছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা দরকার ওই গবেষণায় ১৪ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে মাত্র ৮২ জন মাংস না খাওয়া মানুষ ছিলেন। ফলে ফলাফলকে খুব সহজভাবে সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করাও ঠিক হবে না।

গরুর মাংস পুষ্টিতে সমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং জিংকের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি হলো প্রয়োজনীয়। প্রয়োজনীয় মানেই বিষণ্নতার চিকিৎসা নয়।

বিষণ্নতা এমন একটি জটিল মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যার পেছনে জৈবিক, মানসিক, সামাজিক এবং জীবনযাপনের নানা বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু একটি খাবারকে এর সমাধান হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরিক্ত সরল করে ফেলা হয়।

ব্রাজিলের আরেকটি বড় গবেষণায় ৪৬ হাজার ৭৮৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস ও বিষণ্নতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বেশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে বিষণ্নতার কম উপস্থিতির সম্পর্ক ছিল। সেখানে শাকসবজি, ফল, ডালজাতীয় খাবারসহ সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন ভালো রাখার বিষয়টা কেবল একটি খাবারের নয় বরং পুরো খাবারের প্লেটের মধ্যে থাকে।

এক প্লেট ভাতের পাশে পরিমিত গরুর মাংস থাকতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে ডাল, শাকসবজি, সালাদ কিংবা অন্য পুষ্টিকর খাবার। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের মানসিক অবস্থার যত্ন নেওয়াও একই গল্পের অংশ। আর কখনো যদি মন খারাপের দিনে গরম ভাতের সঙ্গে গরুর মাংস খেয়ে আপনার ভালো লাগে, সেই অনুভূতিটাও একেবারে অমূলক নয়। খাবারের সঙ্গে আমাদের স্মৃতি ও আবেগের সম্পর্ক খুব গভীর। মায়ের রান্নার গন্ধ, ঈদের দুপুর কিংবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে একই টেবিলে বসার আনন্দও মনকে স্বস্তি দিতে পারে। তবে সেই স্বস্তিকে বিষণ্নতার চিকিৎসা বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

গরুর মাংস আপনার খাদ্যতালিকার অংশ হলে পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন। আর আপনি নিরামিষভোজী হলে শুধু এই একটি গবেষণার কথা শুনে খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলারও প্রয়োজন নেই। সুষম নিরামিষ খাদ্য থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব, যদিও বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর মতো কিছু পুষ্টির ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও প্রয়োজনে সম্পূরক গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মন ভালো রাখার কোনো একক খাবার নেই। আছে একটি ভালো খাবারের অভ্যাস, একটু ভালো ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, প্রিয় মানুষের সঙ্গ এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সাহায্য নেওয়ার সাহস।  তার মাঝখানে কোনো এক বৃষ্টির দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে পছন্দের গরুর মাংস থাকলে সেটাকে উপভোগ করতেই পারেন। সেটি অন্তত জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলোর একটি হতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স ডিরেক্ট

ছবি: হাল ফ্যাশন

Read full story at source