পড়াশোনা শেষে শিক্ষানবিশ: আয়ের সঙ্গে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ
· Prothom Alo
বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর বহু তরুণ এক কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। উচ্চতর ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাব থেকে যায়। ফলে চাকরির বাজারে গিয়ে তাঁদের নিয়মিত ধাক্কা খেতে হয়। এই কাঠামোগত সংকট কাটাতে বড় সমাধান হতে পারে ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ বা শিক্ষানবিশ ব্যবস্থা। এটি এমন এক পদ্ধতি, যেখানে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত আয় করার পথও সুগম হয়।
শিক্ষানবিশ কী এবং কোন কোন খাতে মিলছে সুযোগ
শিক্ষানবিশ হলো কাজের মাধ্যমে সরাসরি শেখার এক প্রাক্-চাকরির ব্যবস্থা। এখানে একজন তরুণ কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। পাশাপাশি কাজের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। একজন শিক্ষানবিশ তাঁর সময়ের বেশির ভাগ অংশ ব্যয় করেন অভিজ্ঞ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। আর বাকি সময়ে নির্ধারিত ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিষয়ভিত্তিক থিওরি শেখেন।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা, সংকট মোকাবিলায় যা করা দরকারবাংলাদেশে সাধারণত স্নাতক (অনার্স বা ডিগ্রি) শেষ করার পর তরুণেরা নিজেদের মেধা ঝালাই করতে এই পথ বেছে নেন। বর্তমানে দেশে সরকারি অফিস, আইটি ও সফটওয়্যার, ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল, ই-কমার্স, ডিজিটাল বিপণন এবং বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বিপুল শিক্ষানবিশের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।
শিক্ষানবিশ অবস্থায় ভাতা ও কাজের ধরন
শিক্ষানবিশ চলাকালে একজন কর্মী তাঁর সময়ের জন্য নির্ধারিত ভাতা বা স্টাইপেন্ড পান। যদিও দেশে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষানবিশ ভাতার সুনির্দিষ্ট স্কেল নেই, তবুও বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো মানসম্মত পে-স্কেল ধরে রাখছে—
স্নাতক শেষ করার পর প্রথম বছর: কোনো নতুন সংস্থায় শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিলে শুরুতে মাসে সাধারণত ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা প্রদান করা হয়।
শিক্ষানবিশ মেয়াদের পর: ছয় মাস থেকে এক বছরের শিক্ষানবিশ মেয়াদে সফল হলে স্থায়ী পদের সুযোগ মেলে। তখন মূল বেতন মাসিক ২৫,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকায় উন্নীত হয়।
বিশেষায়িত ও টেকনোলজি খাত: আইটি ও বহুজাতিক সংস্থায় কাজের দক্ষতা বেশি থাকলে প্রাথমিক ভাতাই ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশে শিক্ষানবিশের বিভিন্ন পর্যায় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
যুক্তরাজ্য বা উন্নত বিশ্বে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই অ্যাপ্রেন্টিসশিপ শুরু হলেও বাংলাদেশের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপটে স্নাতক বা তদূর্ধ্ব যোগ্যতাই বেশি প্রাধান্য পায়। দেশের কাজের বাজার অনুযায়ী পর্যায়গুলো নিম্নরূপ—
ডিপ্লোমা বা লেভেল এক (অনার্সপড়ুয়া বা ডিপ্লোমাধারী): যাঁরা স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষে পড়ছেন বা বিভিন্ন কারিগরি ডিপ্লোমা শেষ করেছেন, তাঁরা জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট বা টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন।
গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্রেন্টিসশিপ (স্নাতক বা সমমান পাস): সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (বিএ, বিএসএস, বিএসসি, বিবিএ) শেষ করা তরুণেরা এই পর্যায়ে অংশ নেন। এটিই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিস্তৃত পর্যায়, যা করপোরেট এক্সিকিউটিভ বা ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি (এমটি) হওয়ার পদপ্রদর্শক।
হায়ার ও অ্যাডভান্সড অ্যাপ্রেন্টিসশিপ (স্নাতকোত্তর বা প্রফেশনাল ডিগ্রিধারী): ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স, এআই, সিএ বা লিগ্যাল ফার্মে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা তরুণদের জন্য বিশেষায়িত অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, যা সরাসরি উচ্চ পদে স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি করে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধাকেন তরুণেরা এখন এই পথ বেছে নিচ্ছেন
প্রতিবছর বাজার চাহিদা ও প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার অমিলের কারণে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষ করেই ক্যারিয়ার শুরু করতে শিক্ষানবিশ একটি টেকসই বিকল্প হয়ে উঠছে।
সরকার ও বেসরকারি খাতও বর্তমানে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনএসডিএ) মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষানবিশ কেবল চাকরির সুযোগই বৃদ্ধি করে না, বরং দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজকে সনদমুখী পড়াশোনার বাইরে গিয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে ভূমিকা রাখছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে ৪২ পদে নিয়োগ, নবম–দশম গ্রেডের পদে লিখিত ও ভাইভায় নিয়োগ