সীতাকুণ্ডে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়ক অবরোধ
· Prothom Alo

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
Visit esporist.org for more information.
হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বেলা দুইটার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজন। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সীতাকুণ্ড থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের অলংকার ও সীতাকুণ্ড রুটের মিনিবাস চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিক সমিতি। এ ছাড়া ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পুলিশ ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা তিনটায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। একই ক্লাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও। এ নিয়ে গত দুই দিন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। পুলিশ দুটি পক্ষকে দুটি পৃথক সময় বেঁধে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনকে দুইটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার সময় বেঁধে দেয়। তবে আজ সকাল ৯টায় মুন স্টার ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। এ সময় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মুন স্টার ক্লাব থেকে কিছুটা দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।
বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর সড়কে পুলিশের অবস্থান। আজ দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায়বেলা ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার জন্য সালাউদ্দিনের অনুসারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা তা অস্বীকার করেছেন।
গাড়ি ভাঙচুরের পর বাস ও হিউম্যান হলার মালিক সমিতির চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় তাদের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের নিরাপত্তা ও যানবাহন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত হওয়া পর্যন্ত এই রুটের সব ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার প্রতিবাদে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কের দুই লেন আটকে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে পুলিশ আসার পর অবরোধ তুলে দেয়। পরে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সীতাকুণ্ডের দিকে যান।
বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন এবং থানা-পুলিশ থেকে অনুমতি নেন। সে অনুযায়ী তাঁদের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ককটেল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল মুন স্টার ক্লাবে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেন। এতে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়।
তবে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরসালিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মুন স্টার ক্লাবে হওয়ার কথা ছিল। সেখানে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তাঁরা এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে তাঁদের কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁদের নেতা-কর্মীরা কোথাও কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা হামলা করেননি। উল্টো সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিএনপির এক পক্ষের লোকজন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ১ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। আজ দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায়সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাঁরা গিয়ে নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক সচল করেন। এতে যানবাহন এক ঘণ্টার মতো বন্ধ ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুই পক্ষের হামলায় দুজন আহত হওয়ার খবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিশ্চিত হাওয়া গেছে। তবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।