ক্লাব ফুটবল দলবদলের ‘ডেডলাইন ডে’ কী, দিনটি নিয়ে কেন এত মাতামাতি
· Prothom Alo

ফুটবল সমর্থকদের কাছে আগস্টের ৩১ তারিখ পরিচিত ‘ডেডলাইন ডে’ হিসেবে। গত আড়াই মাস ধরে চলা দলবদলের মৌসুমের ইতি টানা হয় এই দিনে। সময় যত ঘনিয়ে আসে, ইউরোপিয়ান দলবদলের মৌসুমের উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। ফুটবল দুনিয়া নজর রাখে শেষ মুহূর্তের দলবদলের জন্য। কিন্তু আজকের দিনটা কেন গুরুত্বপূর্ণ সবার কাছে?
ডেডলাইন ডে কী
Visit newsbetting.cv for more information.
ইউরোপিয়ান ফুটবলে ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় কেনাবেচার নির্দিষ্ট একটা সময়সীমা থাকে। ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত, টানা দুই মাস চলে গ্রীষ্মকালীন দলবদল। আর শীতকালীন দলবদল চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। এই দুই উইন্ডোর একেবারে শেষ দিন অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টাকে বলা হয় ‘ডেডলাইন ডে’।
কেন এত মাতামাতি
ডেডলাইন ডে মানেই শেষ মুহূর্তের যত নাটকীয়তা, দুর্দান্ত সব চমক। শেষ কয়েক ঘণ্টায় আটকে থাকা ডিল, দলগুলোর মধ্যকার আলোচনা, সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়। এই দিনে না ঘুম হয় ক্লাব কর্মকর্তাদের, না ঘুম হয় সাংবাদিক বা সমর্থকদের। শেষ ২৪ ঘণ্টা তাই ফুটবল ভক্তদের মনে থাকে টান টান উত্তেজনা।
কী হচ্ছে হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়েডেডলাইন ডেতে ওজিলকে সাক্ষর করানোর পর আর্সেনাল ভক্তদের উল্লাস।মাসের পর মাস যে আলোচনা এগোয় না, সেই আলোচনা সম্পন্ন হয়ে যায় কয়েক মিনিটে। আলোচনা থেকে শুরু করে ডকুমেন্টেশন, মেডিক্যাল টেস্ট, সাইনিং ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে লড়াই চলে সবকিছুর। দীর্ঘদিন আলোচনার পরেও ক্লাবগুলো অপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তে যদি কম দামে খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ানো যায়। পছন্দের খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় বিকল্প খেলোয়াড়ের জন্য ছোটা, নাটকীয়তার শেষ নেই এদিন।
‘ডেডলাইন ডে’র সূচনা
একটা সময় ছিল যখন দলগুলো যেকোনো সময় খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে পারত। ২০০২ সালে ফিফা কড়া নিয়ম করে দেয়। আধুনিক ফুটবলে যেন দলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য আসে, সে জন্য করা হয় দলবদলের নির্দিষ্ট মৌসুম। করে দেয়। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রান্সফার উইন্ডোও শুরু হয়। সেই সঙ্গে চালু হয় ডেডলাইন ডে।
তবে ডেডলাইন ডের জনপ্রিয়তা আর রোমাঞ্চ তুঙ্গে ওঠে স্কাই স্পোর্টসের কল্যাণে। দলবদলের শেষ দিনে টানা ২৪ ঘণ্টা লাইভ কাভারেজ দিয়ে তৈরি করেছিল নতুন রোমাঞ্চ। আস্তে আস্তে ফুটবলের বাইরে আলাদা সত্তা হিসেবে তৈরি হয় ডেডলাইন ডের। এখন যেমন ২৪টা ঘণ্টা লাইভ চলে, তেমনই টুইটারে ফাব্রিজিও রোমানো, ডেভিড অর্নস্টাইনের মতো তারকা রিপোর্টারদের লাইভ আপডেটে নজর রাখেন সবাই।
কার্লোস এস্পি: আক্রমণে রিয়াল মাদ্রিদের ভরসাডেডলাইন ডে আসলেই মনে পরে নাভাস-ডে হ্যেয়া সাগার কথা।ডেডলাইন ডের রোমাঞ্চ
ডেডলাইন ডে মানেই যে সব ডিল হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়। বরং ডেডলাইন ডে কেন্দ্র করে মজার ঘটনার অভাব নেই।
ডেভিড ডে হ্যেয়া (২০১৫): ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে আসার সবকিছু সম্পন্ন ছিল স্প্যানিশ গোলরক্ষকের। তাঁর বদলে ইউনাইটেডে যাওয়ার কথা ছিল কেইলর নাভাসের। কিন্তু নাভাসের কাগজপত্র পাঠানো হলেও ডে হ্যেয়ার কাগজ ঠিক সময়ে ফ্যাক্স না করায় আটকে যায় দলবদল। নাভাস বিমানবন্দরে গিয়েও ফিরে আসেন।
আন্দ্রে আরশভিন (২০০৯): ডে হ্যেয়ার দলবদল আটকে গেলেও আন্দ্রে আরশাভিনকে ঠিকই কিনতে পেরেছিল আর্সেনাল। রাত ১২টার মধ্যে কাগজ পাঠানোর কথা থাকলেও ফ্যাক্স মেশিন জ্যাম হয়ে যাওয়ায় দেরি হয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা! পরদিন প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় ট্রান্সফারটি অনুমোদন করায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় আর্সেনাল।
পিটার ওডেমউইনগি, ২০১৩: ওয়েস্ট ব্রোমউইচ অ্যালবিয়ন ছেড়ে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সে যোগ দিচ্ছেন, এমন খবর শুনে গাড়ি নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন ওডেমউইনগি। কিউপিআরের মাঠে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকারও দিয়ে দেন। অথচ তখনো দুই ক্লাবের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিই হয়নি। শেষ পর্যন্ত বনিবনা না হওয়ায় আগের ক্লাবেই ফিরতে হয় তাঁকে।
দিমিতার বারবাতভ (২০০৮): পুরো দলবদলের মৌসুম টানাহেঁচড়া চলেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর সিটির মধ্যে। অবশেষে শেষ দিনে এসে তাঁকে নিজ দলে টেনে নেয় ইউনাইটেড।
ডেডলাইন ডের ফুটবলীয় নাটকে কখনো জয় হয় ঘড়ির কাঁটার, কখনো–বা অর্থের। শেষ দিনে কেউ হাসে, কেউ প্রিয় খেলোয়াড়কে না কেনার শোকে পোড়ে। ফুটবল খেলাটা বোধ হয় সে কারণেই রঙিন।
মেসুত ওজিল (২০১৩): কোনো কথাবার্তা ছাড়া চমক হিসেবে হাজির হয়েছিল ওজিলের সাইনিং। আর্সেনাল ভক্তরা ৩১ তারিখ সন্ধ্যাতেও জানতেন না, ওজিল আসতে যাচ্ছেন তাঁদের দলে। গ্যারেথ বেলকে কেনার পর রিয়াল মাদ্রিদ দলে জায়গা সংকট হওয়ায় ওজিলকে ৪২ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভেড়ায় আর্সেনাল। সেদিন মধ্যরাতে ভক্তদের উল্লাস ছিল দেখার মতো।
২০০২ সালের ডেডলাইন ডেতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন রোনালদো।ডেডলাইন ডের ফুটবলীয় নাটকে কখনো জয় হয় ঘড়ির কাঁটার, কখনো বা অর্থের। শেষদিনে কেউ হাসে, কেউ প্রিয় খেলোয়াড়কে না কেনার শোকে পুড়ে যায়। ফুটবল খেলাটা বোধহয় সে কারণেই রঙিন।
অবশেষে নতুন দলের দেখা পেলেন এমি মার্তিনেজ