ডান হাতে আমলনামা মিলবে যে ৬ আমলে

· Prothom Alo

বিচার দিবসের নির্ণায়ক মুহূর্ত হলো বান্দার আমলনামা হস্তান্তর। সেদিন সকল মানুষের সামনে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যেকের আমলনামা উন্মুক্ত করা হবে এবং নির্দেশ দেওয়া হবে, ‘আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১৪)

সেদিন যাঁর আমলনামা ডান হাতে আসবে, তিনি হবেন চিরস্থায়ী বিজয়ী। তাদের চিত্র তুলে ধরে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, সে আনন্দে চিৎকার করে বলবে, এসো, তোমরা আমার আমলনামা পড়ে দেখো! আমি নিশ্চিত জানতাম যে আমাকে এই হিসাবের মুখোমুখি হতে হবে। অতঃপর সে থাকবে এক পরম সন্তোষজনক জীবনে, সুউচ্চ জান্নাতে।’ (সুরা হাক্কাহ, আয়াত: ১৯-২২)

Visit umafrika.club for more information.

কোরআন ও হাদিসে যেসব আমলে সরাসরি ডান হাতে আমলনামা প্রাপ্তি ও ‘আসহাবুল ইয়ামিন’ (ডানদিকের দল)-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তা উল্লেখ করা হলো:

১. ইমানে অবিচল

কোরআনে ডান হাতে আমলপ্রাপ্তকে বলা হয়েছে ‘আসহাবুল ইয়ামিন’ (ডানপন্থী দল)। তাদের প্রধান পরিচয় হিসেবে বিশুদ্ধ ইমানকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়, যারা বিশুদ্ধ ইমান এনেছে... তারাই হলো ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবান দল।’ (সুরা বালাদ, আয়াত: ১৭-১৮)

রাসুল (সা.) তাদের মর্যাদা স্পষ্ট করে বলেন, ‘ডানদিকের এই দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের ডান হাতে তাদের আমলনামা তুলে দেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৫৬৩৯)

সুরা মুদ্দাস্সির, আয়াত: ৪০-৪৩)তারা বেহেশতে থাকবে এবং পাপীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, কীসে তোমাদের দোজখে নিয়ে এল? তারা বলবে, আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।রবিউল আউয়াল মাসের ৫ আমল

২. আল্লাহর গোপন ক্ষমা

কেয়ামত দিবসে সমবেত মানুষের মধ্যে একশ্রেণির মুমিনকে ডেকে সরাসরি ডান হাতে আমলনামা তুলে দেওয়ার দৃশ্য বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। বিশেষ করে যারা দুনিয়াতে অন্যের দোষ গোপন রাখত।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ মুমিনকে নিজের কাছে ডেকে নেবেন এবং তাঁর বিশেষ পর্দায় ঢেকে নেবেন। তাকে তার একটি একটি পাপ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবেন, তুমি কি এই পাপটি চিনতে পারো? বান্দা স্বীকার করবে। ভাববে সে বুঝি ধ্বংস হয়ে গেল। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি দুনিয়াতে তোমার এই পাপ গোপন রেখেছিলাম, আজ আমি তা ক্ষমা করে দিলাম। এরপর তার ডান হাতে তার নেক আমলের খাতা (আমলনামা) সমর্পণ করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪১)

৩. ফরজ নামাজ ও ইবাদতের সংরক্ষণ

ফরজ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিরাই যে ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত হবেন, তা কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে। দোজখবাসীদের শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার চিত্র তুলে ধরে  বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ উপার্জনের দায়ে আবদ্ধ; কেবল ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্তরা (আসহাবুল ইয়ামিন) ছাড়া। তারা বেহেশতে থাকবে এবং পাপীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, কীসে তোমাদের দোজখে নিয়ে এল? তারা বলবে, আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮-৪৩)

৪. ক্ষুধার্তকে অন্নদান

দানশীলতাকে আল্লাহ ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত দলের মূল আমল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কোরআনে ডান হাতে আমলপ্রাপ্তদের সুনির্দিষ্ট আমলের তালিকা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘সে কি জানে দুর্গম গিরিপথ কী? তা হলো দাসমুক্তি, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে ক্ষুধার্ত এতিম আত্মীয় কিংবা ধূলিমলিন মিসকিনকে অন্নদান করা... তারাই হলো ডানদিকের সৌভাগ্যবান দল।’ (সুরা বালাদ, আয়াত: ১২-১৮)

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াতআল-মুজামুল ওয়াসিত, হাদিস: ৮৩৯যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন নিজের আমলনামা দেখে আনন্দিত ও প্রফুল্ল হতে চায়, সে যেন তাতে অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) সংযুক্ত করে।

রাসুল (সা.) আরশের ছায়াপ্রাপ্তদের বর্ণনায় ডান হাতের এই আমল সম্পর্কে বলেন, ‘যে ব্যক্তি এত গোপনে সদকা করে যে তার বাঁ হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী ব্যয় করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪২৩)

৫. অধিক ক্ষমাপ্রার্থনা

ডান হাতে হিসাবের খাতা আসার মূল কারণ হলো পাপমুক্ত আমলনামা। আর পাপ মোচনের একমাত্র মাধ্যম হলো ইস্তিগফার।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন নিজের আমলনামা দেখে আনন্দিত ও প্রফুল্ল হতে চায়, সে যেন তাতে অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) সংযুক্ত করে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস: ৮৩৯)

অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যার আমলনামায় প্রচুর ইস্তিগফার পাওয়া যাবে, তার জন্য মহা সুসংবাদ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮১৮)

৬. তসবিহ ও জিকির

আমলনামা কোন হাতে আসবে, তা নির্ধারিত হবে মিজানে (আমল পরিমাপ করার পাল্লা) আমলের ওজনের ওপর। যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে, তার আমলনামাই ডান হাতে উঠবে। (সুরা কারিয়াহ, আয়াত: ৬-৭)

আর মিজানে ভারী করার জিকির শিখিয়েছেন নবীজি। বলেছেন, ‘দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণ করা খুবই সহজ, মিজানে অত্যন্ত ভারী এবং পরম দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তা হলো, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫৬৩)

  • মাহমুদ হাসান ফাহিম: শিক্ষক, বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, গাজীপুর

যাদের সকল আমল পণ্ড হয়ে যাবে

Read full story at source