খুচরা সার বিক্রেতাদের লাইসেন্স বহালের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান

· Prothom Alo

সরকারের নতুন নীতিমালায় বাদ পড়া খুচরা সার বিক্রেতাদের কার্ড ও লাইসেন্স বহালের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্রেতারা।

সার বিক্রেতাদের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে সরকারি অনুমোদন ও কার্ড নিয়ে তাঁরা কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করে আসছেন। নতুন নীতিমালায় তাঁদের বাদ দেওয়ায় ৪৪ হাজার খুচরা বিক্রেতা ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবিকা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

Visit newsbetting.bond for more information.

আজ সোমবার সকাল থেকে সারা দেশের খুচরা বিক্রেতাদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

সংগঠনের নেতারা বলেন, ১০ আগস্ট সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সার বিক্রি করে আসা কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতারা বাদ পড়েছেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. ফোরকান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ দেশের কৃষকের সেবা দিয়ে আসছি। আমাদের অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। ৪৪ হাজার পরিবারের অস্তিত রক্ষায় এই বৈষম্যমূলক নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা হোক।’

বরগুনার আমতলার খুচরা সার বিক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পাঁচ মাস ধরে আমরা আন্দোলন করছি। খুচরা পর্যায়ে আমরা কৃষকদের সার দিয়ে থাকি। আমাদের আয় সীমিত। ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সার নিয়েছি। কৃষকদের ৫৬ লাখ টাকার সার বাকি দিয়েছি। আমাদের বাদ দিলে এই টাকা আর ওঠানো যাবে না।’

বিক্রেতারা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্ডধারী প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা আছেন। ২০০৯ সাল থেকে তাঁরা সরকারি অনুমোদন নিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা স্থানীয় পর্যায় থেকে সার সংগ্রহ করেন।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পৃথক পরিবেশক প্রথা বিলুপ্ত করে চালু হচ্ছে সমন্বিত ব্যবস্থা। এতে পুরোনোরা বাদ পড়বেন। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

কক্সবাজারের রামু থেকে আন্দোলনে আসা খুচরা সার বিক্রেতা ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের সারের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই সরকারি পর্যায়ে ৫০ কেজির টিএসপি সারের বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকার বদলে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে সারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো শাহিনুল ইসলাম বলেন, সরকার দাবি না মানলে সচিবালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচজনের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

খুচরা সার বিক্রেতাদের দাবি, ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের বৈধ কার্ড ও লাইসেন্স বহাল রাখতে হবে। তাঁদের মতে, এতে একদিকে দীর্ঘদিনের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান রক্ষা হবে, অন্যদিকে কৃষকের দোরগোড়ায় সার সরবরাহের বিদ্যমান ব্যবস্থাও সচল থাকবে।

নতুন নীতিমালা জারির ফলে এ মাসের শেষে খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

Read full story at source