এমপি নাছিরের সমাবেশের এক দিন পর ১৪৪ ধারা ভেঙে ভাই মাসুকের পাল্টাসমাবেশ

· Prothom Alo

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরে বিএনপির সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর সমাবেশের এক দিন পর ১৪৪ ধারা ভেঙে দলের নামের আরেকটি সমাবেশ করেছেন তাঁর ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক চৌধুরী। আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে মাসুক চৌধুরী বলেন, ‘এই সমাবেশ তাঁর ভাই নাছির চৌধুরীর বিরুদ্ধে নয়; বরং তাঁকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য। নাছির চৌধুরী ৪০ বছর ধরে দিরাই–শাল্লায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন; সব সময় অন্যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন। সারা জীবন চোরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এখন ডাকাত পাল়ছেন। আমরা এমপি সাহেবকে লুটেরা সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্ত করতে চাই।’

Visit umafrika.club for more information.

আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু নয়, তারা মিত্র: বিএনপির এমপি নাছির চৌধুরী

নাছির চৌধুরী সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য। তিনি দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ছোট ভাই মাসুক চৌধুরীর দূরত্ব তৈরি হয়। এখন এ বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিরাই শহরের থানা পয়েন্টে বিএনপির এক সমাবেশে নাছির চৌধুরী তাঁর ছোট ভাইয়ের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার কোনো ভাই নাই, আমি একা। আমার বাসা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের নাম ভাঙিয়ে যাঁরা চুরি-দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁরাই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

মাসুক চৌধুরী, দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কেউ কেউ বলেন, নাছির চৌধুরী আয়নাঘর থেকে মুক্ত হয়েছেন; বরং এখন তিনি আয়নাঘরে বন্দী। মানুষ তাঁর কাছে যেতে পারছেন না। তাঁর আশপাশে ফ্যাসিস্টের দোসররা বিএনপির পরিচয়ে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট করছেন।

এর প্রতিক্রিয়া আজকের সমাবেশে মাসুক চৌধুরী বলেন, কেউ কেউ বলেন, নাছির চৌধুরী আয়নাঘর থেকে মুক্ত হয়েছেন; বরং এখন তিনি আয়নাঘরে বন্দী। মানুষ তাঁর কাছে যেতে পারছেন না। তাঁর আশপাশে ফ্যাসিস্টের দোসররা বিএনপির পরিচয়ে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট করছেন। নিজেকে নাছির চৌধুরীর কর্মী দাবি করে মাসুক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবাই তাঁর কর্মী, তাঁকে ভালোবাসি।’

কৃষি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও করেন মাসুক চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৭ বছর বিএনপি নেতা-কর্মীরা যেভাবে বঞ্চিত ছিলেন, এখনো তা চলছে। সামনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণেও অনিয়ম হলে পতন শুরু হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। সংসদ সদস্যের আশপাশের লোকজনের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দল, সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বদনাম হচ্ছে।

দিরাই পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইকবাল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল কাইয়ুম, দিরাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল করিম চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম, সদস্য সোয়েব হাসান ও সুমন মিয়া এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত।

তবে এই সমাবেশকে বিএনপির সমাবেশ হিসেবে মানতে নারাজ নাছির চৌধুরীর অনুসারীরা। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, ‘যেহেতু এখানে এমপি সাহেব নেই, তাই এটা বিএনপির সমাবেশ নয়। এ জন্য আমরা যাইনি।’

সঞ্জীব সরকার, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি ছিল। সকালে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরে সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সমাবেশে আর বাধা দেওয়া হয়নি।

১৪৪ ধারার মধ্যে সমাবেশ

শনিবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকে দিরাই শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাতে দুই পক্ষ শহরে মিছিল করে। শনিবার সকালে থানা পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন নাছির চৌধুরীর অনুসারী বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী। এ সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সকালে থানা পয়েন্ট ও বাগানবাড়ি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। তবে দুপুরের পর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাগানবাড়ির সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। লোকসমাগম বাড়তে থাকায় প্রশাসন ও পুলিশ পরে সমাবেশে বাধা দেয়নি।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি ছিল। সকালে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরে সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সমাবেশে আর বাধা দেওয়া হয়নি।

Read full story at source