এসপির উদ্দেশে ফেসবুকে সন্ত্রাসী রায়হান, ‘দোজখ আর জাহান্নামে তফাত কী মাসুদ স্যার?’
· Prothom Alo
নোয়াখালীর একটি বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পুলিশের অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের উদ্দেশে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টটি আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানায়, যে অ্যাকাউন্টটি থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছেন রায়হান।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
পোস্টে রায়হান তাঁকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য নোয়াখালীর বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে এসপি মাসুদ আলমের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘দোজখ আর জাহান্নামে তফাত কী মাসুদ স্যার?’
গত ২৯ জুলাই রাতে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ও মো. রায়হানকে গ্রেপ্তার করতে নোয়াখালী ও যশোরে অভিযান চালায় পুলিশ। ইমনকে গ্রেপ্তার করা হলেও রায়হান নোয়াখালীর একটি বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। রায়হান বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
ইমনকে গ্রেপ্তারের পরদিন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছিলেন, ‘আমরা রায়হানকে প্রায় ধরেই ফেলেছিলাম। রায়হান কোনোভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে সে জাহান্নাম না দেখলেও দোজখ দেখে ফেলেছে।’
এরপরই গত সোমবার রায়হান তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্টটি দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দোজখ আর জাহান্নামে তফাত কী মাসুদ স্যার? ধন্যবাদ নোয়াখালী রংমালার মানুষদের। তারা এমন নিকটভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।’
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারচট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমপোস্টে রায়হান আরও লেখেন, বিপদের সময় ভালো-মন্দ সব শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আশা থাকে এবং তিনি নোয়াখালী থেকে তা পেয়েছেন। একই সঙ্গে ‘সুযোগ পেলেই ভালো হয়ে যাব’ বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
‘কেউ তাঁকে পালাতে সাহায্য করেছে কি না, বলতে পারব না’
রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালালেও তিনি কীভাবে পালিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় এসপি মাসুদ আলমের কাছে।
‘আমি রায়হান, মাথার খুলি উড়ায় ফেলব’গতকাল সোমবার রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলার দুই অস্ত্রধারী আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসপি বলেন, ‘আমরা তাঁকে ধরতে ওই এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলাম। হতে পারে কেউ তাঁকে পালিয়ে যেতে কিংবা লুকাতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু সেটা তো আমরা বলতে পারব না।’
রায়হান তাঁর পোস্টে নোয়াখালীর বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘পুরো নোয়াখালীবাসী তো আর তাকে সাহায্য করেনি। হতে পারে গুটিকয়েক লোক তাকে জেনে বা না জেনে সাহায্য করেছে।’
রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এসপি।
এক বছরেই হত্যাসহ ১৩ মামলার আসামি, দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন রায়হান