রাজশাহীতে পুরোনো জিও ব্যাগে নতুন সন্দেহ

· Prothom Alo

সম্প্রতি একসঙ্গে ৩৫০টি পুরোনো জিও ব্যাগ জব্দ করা হয়। স্থানীয় ব্যক্তিদের সন্দেহ, আবার বালু ভরে নদীতে ফেলার জন্য ব্যাগগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

Visit tr-sport.click for more information.

ভাঙন রোধে নদীতে ফেলা জিও ব্যাগ অনেকে নদী থেকে তুলে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেছেন। কেউ শৌচাগারের বেড়া দিয়েছেন, কেউবা গোয়ালঘরের। কিন্তু এবার রাজশাহীর চারঘাটের টাঙ্গন এলাকায় একসঙ্গে সাড়ে ৩০০ পুরোনো জিও ব্যাগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ, ব্যাগগুলো হয়তো আবার বালু ভরে নদীতে ফেলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

এ ঘটনায় চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তবে পাউবো বলছে, পুরোনো ব্যাগ তাদের কাজের জায়গায় পাওয়া যায়নি। পুরোনো ব্যাগ ব্যবহারের কোনো সুযোগও নেই।

পাউবোর রাজশাহী কার্যালয় সূত্র জানায়, গত জুনে প্রথমে চারঘাটের সাহাপুর ও পিরোজপুর এলাকায় প্রায় ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ হাজার ২০০টি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়। পরে প্রকল্পের আওতা বাড়িয়ে শুধু পিরোজপুর এলাকায় ১০টি প্যাকেজে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫ হাজার জিও ব্যাগ ও সাহাপুর এলাকায় তিনটি প্যাকেজে ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগ ফেলার প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে বর্তমানে পিরোজপুরে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সাহাপুরে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজ চলমান। বাকি কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। পিরোজপুরে স্লোপিংসহ ৬ হাজার ১০ বস্তা ও সাহাপুরে শুধু ডাম্পিং করা হবে ৬ হাজার ১০ বস্তা।

সরেজমিনে পিরোজপুর ও সাহাপুর এলাকার বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে পুরোনো জিও ব্যাগ দেখা গেছে। সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেন শৌচাগারের বেড়া হিসেবে ব্যবহার করেছেন জিও ব্যাগ। আর পিরোজপুরের ফিরোজা বেগম ব্যবহার করেছেন তাঁর গোয়ালে। জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর পড়ে থাকা বস্তা কুড়িয়ে এনে তাঁরা ব্যবহার করছেন।

উদ্ধার করা পুরোনো জিও ব্যাগ। ২৫ জুলাই রাজশাহীর চারঘাটের টাঙ্গন এলাকায়

গত ২৫ জুলাই টাঙ্গন এলাকায় সড়কের পাশে ৩৫০টি বস্তা পাওয়া যায়। বস্তাগুলো কারা সেখানে রেখেছিল, তা জানা যায়নি। বস্তাগুলো উল্টো করে সেলাই দেওয়া আবার কিছু ছেঁড়া জায়গায় নতুন করে সেলাই দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এভাবে সেলাই করা দেখে তাঁদের সন্দেহ, ব্যাগগুলো আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৬ জুলাই অভিযোগ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩৫০টি পুরোনো বস্তা জব্দ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বস্তাগুলোর বালু ফেলে দিয়ে উল্টো করে সেলাই করে আবার বালু ভরার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পরদিন জেলা প্রশাসক ও পাউবোকে ইউএনও বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠান।

পাউবোর রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, এসি ল্যান্ড যে জায়গায় ৩৫০টি পুরোনো জিও ব্যাগ জব্দ করেছেন, সেটা তাঁদের স্পটে নয়। নতুন করে বালু ভরার জন্য ব্যাগগুলো নেওয়া হতে পারে, স্থানীয় লোকজনের এমন সন্দেহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তাঁরা যথেষ্ট সচেতন। তাঁরা এটা হতে দেবেন না।

পাউবোর জিও ব্যাগ ফেলার কাজ তদারকির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, কেউ চুরি করার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু তিনি তাঁর লোক দিয়ে নজরদারি করছেন। এসি ল্যান্ড জিও ব্যাগ জব্দ করার পর তিনি দুই এলাকায় বৈঠক করেছেন। তিনি স্থানীয় লোকজনকে বলেছেন, কাজ বুঝে নিতে হবে। ঠিকাদারের লোকজন চুরির চেষ্টা করতে পারেন, পাউবোর লোকজনও সায় দিতে পারেন, কিন্তু নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে, কেউ যেন চুরি করতে না পারে। রবিউল ইসলাম আরও বলেন, পুরোনো ব্যাগ আবার ব্যবহারের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

Read full story at source