লাখ লাখ গবেষণাপত্র চুরি করেছেন যে প্রোগ্রামার
· Prothom Alo

অজানা তথ্য ও বিজ্ঞানের জটিল আবিষ্কার সংরক্ষিত থাকে লাখ লাখ গবেষণাপত্রে। তবে জ্ঞানের এই ভান্ডার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিভিন্ন অনলাইন আর্কাইভে থাকা গবেষণাপত্র চড়া মূল্যে সংগ্রহ কর হয়। ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা কাঙ্ক্ষিত তথ্য থেকে বঞ্চিত হন। এই বৈষম্য ভাঙতে এগিয়ে আসেন কাজাখস্তানের অ্যালেক্সান্দ্রা এলবাকিয়ান নামের এক তরুণী। অর্থের বিনিময়ে নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত ‘পেওয়াল’ নিরাপত্তাব্যবস্থা হ্যাক করে বিভিন্ন অনলাইন আর্কাইভের একাডেমিক পেপার বিনা মূল্যে সবার কাছে পৌঁছে দেন তিনি।
সাধারণভাবে একটি মাত্র গবেষণাপত্র পড়ার জন্য ৩০ ডলার বা তারও বেশি খরচ হতে পারে। এমনকি সেই গবেষণার পেছনে যদি সরকারি তহবিলও থাকে, তবু মূল দিতে হয়। স্বাধীন গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য এই বিশাল খরচ অনেক বড় বাধা। এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন অ্যালেক্সান্দ্রা এলবাকিয়ানও। আর তাই ২০১১ সালে সাই-হাব নামের একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেন তিনি। প্ল্যাটফর্মটির উদ্দেশ্য ছিল পেওয়াল বাইপাস করে একাডেমিক পেপার বিনা মূল্যে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। শুরুতে ছোট উদ্যোগ থাকলেও এটি দ্রুতই বৈশ্বিক আর্কাইভে রূপ নেয়। বর্তমানে সাই-হাবে ৮ কোটিরও বেশি গবেষণাপত্র রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় একাডেমিক তথ্যভান্ডার।
Visit turconews.click for more information.
দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রসহ বিভিন্ন একাডেমিক পাবলিশিং ব্যবস্থা সাবস্ক্রিপশন মডেলে পরিচালিত হয়ে আসছে। এলসেভিয়ার ও উইলির মতো বড় বড় প্রকাশক প্রতিষ্ঠান একটি গবেষণাপত্রের জন্য ৩০ থেকে ৫০ ডলার নিয়ে থাকে। এতে ধনী ও বড় অর্থায়নের বিশ্ববিদ্যালয় সুযোগ পেলেও অনেক গবেষক তা পান না। মজার বিষয় হলো, অনেক গবেষণার বেশির ভাগই পাবলিক ফান্ডে তৈরি। লেখকেরা প্রকাশকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ পান না। ফলে জ্ঞানের সুবিধা যোগ্যতার চেয়ে সম্পদের ওপর বেশি নির্ভর করে। কম্পিউটার প্রোগ্রামার এলবাকিয়ান এই বাধা দূর করতেই সাই-হাব গড়ে তোলেন। প্ল্যাটফর্মটি প্রাতিষ্ঠানিক এক্সেস ক্রেডেনশিয়াল ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে জমা রাখে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি গবেষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ কম, সেখানে এটি বিশাল ভূমিকা রাখছে।
সাই-হাব চালুর আগে এলবাকিয়ান সাতবায়েভ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে ইনফরমেশন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার পর নিউরোসায়েন্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সঙ্গে ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করার সময়ই তিনি বুঝতে পারেন বিজ্ঞান এগোলেও তথ্যের ব্যবহার সীমিত থেকে যাচ্ছে। তবে সাই-হাবের জনপ্রিয়তার বাড়ার পাশাপাশি আইনগত চাপ আসতে শুরু করে। এলসেভিয়ার ও আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটিসহ বড় প্রকাশকেরা আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে একাধিক দেশে সাই-হাবের মূল ডোমেইন ব্লক থাকলেও অল্টারনেটিভ ডোমেইন দিয়ে সাইটটি সক্রিয় রাখা হয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া