উত্তরায় সাত মাসের শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যা, তিন দিনের রিমান্ডে বাবা

· Prothom Alo

রাজধানীর উত্তরায় সাত মাসের শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা কবির ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফয়সালের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন।

Visit freshyourfeel.org for more information.

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় উত্তরা সিরাজ মার্কেট–সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকায় পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে কবির ইসলাম তাঁর সাত মাসের মেয়ে রাফা মনিকে রাস্তায় আছাড় দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরদিন তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় রাফা মনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুলাই দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৭ জুলাই শিশুটির নানি শারমীন আক্তার তুরাগ থানায় কবির ইসলামকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান ফয়সাল ২৩ জুলাই আসামির তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে আবেদন জানায়। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে পেশায় রিকশাচালক কবির ইসলামের সঙ্গে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র সন্তান রাফা মনি। অভিযোগে বলা হয়, কবির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক সেবনের পর প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর ও গালাগাল করতেন।

ঘটনার দিন লিমা আক্তার অসুস্থ বাবাকে দেখতে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাসায় যান। সন্ধ্যায় সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কবির ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে নানির কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় আছড়ে মারেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

Read full story at source