ফাইনালে আবেগের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে—বললেন ইনিয়েস্তা
· Prothom Alo

২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলেই নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। আজ আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন মাঠে নামার আগে এই কিংবদন্তি জানিয়েছেন তাঁর ভাবনা—
Visit mchezo.co.za for more information.
১৬ বছর পর স্পেন আবারও ফাইনালে। দীর্ঘ বিরতিই বুঝিয়ে দেয় পথটা কত কঠিন ছিল...
আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা: অবশ্যই। এ সময়ে সিংহভাগ দলই ফাইনালে উঠতে পারেনি। সময়টা দীর্ঘ। কাজটা আসলেই কঠিন। কারণ, লড়াইটা হয় শীর্ষ পর্যায়ের সর্বোচ্চ স্তরে। ছোটখাটো ভুল বা খুঁটিনাটি কারণেও ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
স্পেনের বর্তমান দলের মূলশক্তি সাহস। আপনাদের কারণেই তারা যেকোনো দলকে হারানোর মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছে। আপনারাই ওদের দীক্ষাগুরু, তাই না?
ইনিয়েস্তা: আমার মনে হয়, আমরা সবাই আগের বিভিন্ন জাতীয় দলের ফেলে আসা অতীতের অংশ। আমরা যারা সেই বিশ্বকাপ জিততে পেরেছি, তাদের সবাই আগের দলগুলোর ইতিবাচক প্রভাব বা অভিজ্ঞতাগুলো নিজেদের ভেতর ধারণ করেছে। আগের দলগুলো হয়তো ট্রফি জিততে পারেনি, কিন্তু মঞ্চটা তৈরি করে দিয়েছে।
কোচ লুইসের (আরাগোনাস) ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছিল। পরে ভিসেন্তের (দেল বস্ক) সময়েও এর পুনরাবৃত্তি হয়। তাঁরা সবাই আমাদের ইতিহাসের অংশ। বর্তমান জাতীয় দলেও এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, প্রতিটি দলেরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলচ্যাম্পিয়ন হওয়া সেই দলটি এবং বর্তমান দলের মধ্যে কৌশলগত কী মিল ও অমিল দেখেন?
ইনিয়েস্তা: তুলনা পছন্দ করি না। দারুণ কিছু খেলোয়াড়ের কারণে দুটো দলই দুর্দান্ত। সেটা না হলে তো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা সম্ভব হতো না। দুই দলই প্রমাণ করেছে প্রতিভা জরুরি, তবে আমার কাছে প্রতিভার চেয়েও বড় বিষয় হলো নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম আর আবেগ—যা আমরা সে সময় দেখিয়েছি এবং বর্তমান দলটিও দেখাচ্ছে।
অতীত কিংবা বর্তমানে তো দলের ঐক্য এবং সংহতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই না?
ইনিয়েস্তা: অবশ্যই। শুধু একজন দিয়ে তো আর বিশ্বকাপ জেতা যায় না। একদমই অসম্ভব। নিজস্ব ফুটবলীয় দর্শন বা পরিচিতি তৈরি করতে হবে, যা স্পেনের অনেক দিন ধরেই আছে। তবে দলীয় একতা বাকিদের চেয়ে তাদের আলাদা করে তোলে। এটাই দলের শক্তি। এটা জানা যে কঠিন মুহূর্তে সাহায্য করার জন্য পাশে একজন সতীর্থ আছেন। এটা নিশ্চিত হওয়া যে দলের লক্ষ্য অর্জনে সেই সতীর্থ নিজের শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করবে। এসবই সফলতার চাবিকাঠি।
বিশ্বকাপ ফাইনাল: অলৌকিক আর্জেন্টিনা, না সম্মোহনী স্পেনসেই ফাইনালে আপনার গোলে গ্যালারি নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। রোববারের ফাইনালে কার কাছ থেকে সেই স্তব্ধতা ফিরে পেতে চান?
ইনিয়েস্তা: স্পেনের যে কেউ। আসল ব্যাপার হলো গোল করা। আমি যে ব্যাখ্যাতীত অনুভূতির ভেতর দিয়ে গিয়েছি, তারা যেন সেটা অনুভব করতে পারে। সব সময়ই একটা কথা বলি—সেই গোলটা আসলে আমরা সবাই মিলে করেছি।
ফাইনাল নিয়ে আপনার ভবিষ্যদ্বাণী কী?
ইনিয়েস্তা: আগে থেকে কিছু বলা অসম্ভব। যেকোনো ফুটবল ম্যাচেই ফাইনাল ছোটখাটো খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যা মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। রোববারের ফাইনালে তা আরও বেশি থাকবে, কারণ শুধু মাঠের খেলাই নয়, আবেগের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে।
স্পেন ফুটবল দলফাইনাল জয়ের চাবিকাঠি কী?
ইনিয়েস্তা: কে জানে! আমি শুধু এটুকু জানি যে স্পেনকে তাদের চিরচেনা দর্শন আর খেলার শৈলীর প্রতি সৎ থাকতে হবে, যা তাদের এত দূর নিয়ে এসেছে।
আপনি লিওনেল মেসিকে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন। ফাইনালটা তিনি না জিতলেই তো ভালো, নাকি?
ইনিয়েস্তা: আমার মনে হয়, লিও বিষয়টা বুঝবে। মাঠে লড়বে স্পেন, আমার দেশ, আমার দেশের মানুষ আর আমার সতীর্থরা খেলবে। এটি এক অনন্য ম্যাচ এবং আমি চাই বর্তমান খেলোয়াড়েরা সেই অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাক, যা একসময় আমরা উপভোগ করেছি।
পুতুলনাচের অদৃশ্য জাদুকর: স্পেনের আসল ‘কলকাঠি’ নাড়েন যিনি