প্রত্যন্ত গ্রামে আখখেতে চোলাই মদের ‘কারখানা’, ধ্বংস করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা
· Prothom Alo

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় আখখেতের ভেতরে গড়ে ওঠা গোপন ‘কারখানা’ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লিটার চোলাই মদ ধ্বংস করেছেন গ্রামবাসী। উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর দিয়ারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
Visit djcc.club for more information.
ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দিয়ারপাড়া গ্রামে মাদকের কারবার চলছিল। পুলিশ ও প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অবশেষে তাঁরা নিজেরাই মাদক নির্মূলের উদ্যোগ নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত তাঁরা চোলাই মদ ধ্বংস করেছেন।
গ্রামের অন্তত পাঁচজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা থেকে গ্রামজুড়ে মাদকের সন্ধান করা হয়। এ সময় আখখেতের ভেতরে মদ তৈরির গোপন স্থানের সন্ধান মেলে। সেখানে মাটিতে গর্ত করে প্লাস্টিকের ড্রাম পুঁতে রাখা হয়েছিল। এসব ড্রামে চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ—জাওয়া ও চুয়ানি—সংরক্ষণ করা ছিল।
অভিযানে অংশ নেওয়া মিন্টু রহমান জানান, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও মাদক ব্যবসা বন্ধ করা যায়নি। ফলে শুধু গ্রামের নয়, আশপাশের এলাকার লোকজনও এখানে মাদক সেবন করতে আসতেন। পরে গ্রামের চৌকিদারকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নিজেরাই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেন।
গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা চোলাই মদ ধ্বংস করা হয়গ্রামবাসী ঘটনাস্থলেই চোলাই মদ ধ্বংস করেন। একই সঙ্গে ড্রামগুলো ভেঙে ফেলা হয়। পরে গ্রামের আরও ১০টি স্থান থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা চোলাই মদের জারকিন ধ্বংস করা হয়। এদিকে গ্রামবাসীর তৎপরতার খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।
মিন্টু রহমান বলেন, ‘আমরা মাটিতে পুঁতে রাখা ৫২টি প্লাস্টিকের ড্রামে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সব ধ্বংস করেছি। এখানে আর কেউ মদ তৈরি করতে পারবে না।’
ইফতে খায়ের আলম, নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। মির্জাপুর দিয়ারপাড়া গ্রামের মানুষ যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।এর আগে মাদক কারবারিদের কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানান গ্রাম পুলিশের সদস্য রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘ওরা ঠিক হয়নি। মদের ব্যবসা আরও বাড়ছে। তাই গ্রামের লোকজন সরাসরি অভিযান শুরু করছে।’
এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইফতে খায়ের আলম বলেন, শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। মির্জাপুর দিয়ারপাড়া গ্রামের মানুষ যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।