নওগাঁয় আম–বাণিজ্য, নারীদের হারিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ বিপদের শঙ্কা
· Prothom Alo

আম—সুমিষ্ট এক ফল, অর্থনৈতিকভাবেও ততোধিক সুমিষ্ট বলেই জানা যায়। গুরুত্বপূর্ণ এক কৃষি সম্পদ। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল আম উৎপাদন ও আম-বাণিজ্যের জন্য সুপরিচিত। এই ফলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা; যেখানে কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহনকারীসহ নানা পক্ষ যুক্ত। তবে আমের এই সুমিষ্ট বাণিজ্যের আড়ালে যে মুনাফার বণ্টন, ক্ষমতার ভারসাম্য, শ্রমের মূল্যায়ন, কৃষিবৈচিত্র্যের সংকট, নারীর নিরাপত্তার ঝুঁকি, এগুলোই আজকের প্রবন্ধের মূল অন্বেষণের বিষয়।
রাজশাহী বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ একসময় ধান উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু আমের মৌসুমে এই জেলায় গেলে চোখে পড়বে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য—এখানে সাপাহার ও পোরশা এই দুই উপজেলায় মাইলের পর মাইল বিস্তৃত আমের বাগান, আর সেই বাগান থেকে ট্রাকভর্তি আম ছুটে যাচ্ছে রাজধানীর বাজারে।
Visit moryak.biz for more information.
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নওগাঁয় বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক হারে আম চাষ শুরু হয়েছে খুব বেশি দিন আগে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই এখানকার কৃষিতে এই বড় পরিবর্তন এসেছে। এমনকি ৫-৭ বছর আগেও এই অঞ্চলে আমের চাষ এতটা বিস্তৃত ছিল না। অল্প সময়ের মধ্যেই আম দখল করে নিয়েছে কৃষিজমির সিংহভাগ, ধানসহ অন্যান্য অনেক ফসলকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দিয়ে আম হয়ে উঠেছে প্রধান অর্থকরী ফসল।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—যে বিস্তীর্ণ জমিগুলো আজ আমবাগানে পরিণত হয়েছে, সেখানে আগে কী চাষ হতো? এগুলো কি পতিত জমি ছিল? উত্তর হলো—না। এগুলো ছিল উর্বর কৃষিজমি, মূলত ধানের জমি।
তথ্য ও স্থানীয় ইতিহাস বলছে, নওগাঁ একসময় কাটারিভোগ, কালিজিরাসহ উন্নতমানের চালের জন্য বিখ্যাত ছিল। ধান চাষকে কেন্দ্র করে এই জেলা দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কয়েক বছর আগেও নওগাঁয় প্রায় দুই হাজারটি চালকল বা চাতাল চালু ছিল, যেখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করতেন। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ—যাঁদের অনেকেই ছিলেন সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী—এই চাতালে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আমবাগানের ঘন গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের কারণে অনেক জায়গায় তুলনামূলকভাবে নির্জন ও আড়াল তৈরি হয়, যা নারীদের জন্য অনিরাপদ, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে যে কিছু এলাকায় আমবাগানকে ঘিরে যৌন হয়রানি এমনকি যৌন সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে, যা নারীদের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে।
কিন্তু বর্তমান চিত্র ভিন্ন। ধানের জমিগুলো রূপান্তরিত হয়েছে আমবাগানে, চাতালগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে কাজের সুযোগ হারাচ্ছেন বহু নারী শ্রমিক।
প্রশ্ন আসে—এই আমবাগানগুলোর মালিক কারা?
স্থানীয় বাস্তবতা বলছে, বড় জমির মালিক ও অপেক্ষাকৃত সচ্ছল কৃষকেরাই মূলত আম চাষে এগিয়ে এসেছেন। জমির মালিকদের কেউ কেউ নিজের জমিতে বাগান করেছেন, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদি লিজ দিয়েছেন। বাইরে থেকেও অনেকে এখানে অর্থ লগ্নি করছেন। বড় আকারের জমিগুলো যখন একের পর এক আমবাগানে রূপান্তরিত হয়েছে, তখন ছোট ও খণ্ডিত জমির মালিকেরাও অনেকটা বাধ্য হয়েছেন একই পথে হাঁটতে। কারণ, চারপাশে আমবাগানের বিস্তারের ফলে ছোট ছোট জমিতে ধান চাষ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ছোট টুকরা জমি এখন আর আগের মতো ব্যবহারযোগ্য নেই। চারদিকে আমবাগান থাকায় সেখানে ট্রাক্টর প্রবেশের রাস্তা নেই, ধান কাটার পর তা পরিবহনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের জমি ১০-১২ বছরের জন্য লিজ দিয়ে দিচ্ছেন অথবা আমবাগানে রূপান্তর করছেন।
আম চাষ যেভাবে নওগাঁর নারীদের ‘ফিনিশ’ করে দিচ্ছেএই যে ছোট ছোট জমিগুলো ১০-১২ বছরের জন্য লিজ হচ্ছে, এর পেছনে ঘটছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবর্তন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে মোট জমির একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এমন এক শ্রেণির মানুষের হাতে, যাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় নন। তাঁরা মূলত পুঁজি বিনিয়োগকারী—দূর থেকে এসে জমি লিজ নিয়ে আমবাগান করছেন, উৎপাদনের সময়ে এসে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং মৌসুম শেষে লাভের অর্থ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, প্রান্তিক কৃষকেরা, যাঁরা একসময় নিজেদের জমিতে ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাঁরা ধীরে ধীরে কৃষি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। জমির মালিকানা থাকলেও উৎপাদনব্যবস্থার ওপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না। অনেকেই হয়ে পড়ছেন কার্যত ভূমিহীন কৃষক—নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও কৃষিকাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত, নিয়মিত কর্মসংস্থানহীন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা একদল মানুষ। এই প্রান্তিক কৃষকদের স্বপ্নের ওপর দিয়েই এগিয়ে চলছে আমের বাণিজ্য।
আম বাগানে ছাউনি বানিয়ে পাহারা দিচ্ছেন একজন।ধান কি শুধু একটি ফসল ছিল? এটি ছিল খাদ্য, কাজ এবং স্থানীয় অর্থনীতির ভিত্তি। ধান চাষের সঙ্গে যুক্ত ছিল বীজ বপন, পরিচর্যা, কাটাই, মাড়াই ও সংরক্ষণ—বছরজুড়ে নানা ধরনের শ্রমের সুযোগ। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি ছিল খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু ধানের জমি আমবাগানে রূপান্তরের ফলে সেই কৃষিভিত্তিক নিরাপত্তাকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আম একটি মৌসুমি অর্থকরী ফসল; বছরের মাত্র কয়েক মাসকে ঘিরেই এর মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ফলে আমের মৌসুমে কিছু মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হলেও, বছরের বাকি সময়ে এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠী থাকে কর্মহীন।
অর্থাৎ আমের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করলেও, প্রান্তিক মানুষের আয়ের ভারসাম্য দীর্ঘ মেয়াদে নষ্ট করছে। একটি কৃষিনির্ভর জনপদের জন্য কৃষিতে বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি ফসলের একচেটিয়া আধিপত্য শুধু কৃষিব্যবস্থার বৈচিত্র্য কমায় না, বরং দীর্ঘ মেয়াদে এলাকার খাদ্যনিরাপত্তা, জীবিকা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আমের রাজনীতি, আমের অর্থনীতিকৃষি শুধু বাজারের জন্য উৎপাদন নয়; একটি এলাকার কৃষিকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠে একটি স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন ফসল, কৃষিশ্রম, পারিবারিক খাদ্যচাহিদা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। যখন কোনো একটি অর্থকরী ফসল (ক্যাশ ক্রপ) অন্য সব কৃষিকে সরিয়ে দিয়ে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন স্থানীয় মানুষের নিজস্ব খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা কমে যায় এবং খাদ্যনিরাপত্তা বাজারনির্ভর হয়ে পড়ে, যা নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ইতিহাস বলে, যখন কোনো একটা জনপদের কৃষিজমির বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে একটি মাত্র ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ে, বিশেষ করে কোনো ‘ক্যাশ ক্রপ’ এর দিকে, তখন সামগ্রিক উৎপাদন ও আয় কাগজে-কলমে ঠিক থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আবার একই ফসল বারবার চাষ করলে মাটির নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান ধীরে ধীরে কমে যায়, প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় প্রতিরোধের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মাটির উর্বরতা শক্তি ও কৃষি উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমবাগানে পাতা কুড়িয়ে বস্তায় ভরছেন এক নারীউত্তরাঞ্চলের আমবাগানগুলোতে কীটনাশকের ব্যবহার খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এটি কতটা মাত্রা মেনে বা বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষের কথায় একটি প্রচলিত মজুরিভিত্তিক পেশার উল্লেখ পাওয়া যায়—তাঁদের ভাষায়, ‘বাগানে বিষ দিই’। আমের মৌসুমে প্রায় সারাক্ষণই বিভিন্ন বাগানে এই কাজ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের।
পুরো বিষয়টির আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে আরও একটি উদ্বেগজনক চিত্র—আম উৎপাদনকে ঘিরে তৈরি হওয়া জেন্ডার বিভাজন, যা নারীকে শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি অদৃশ্য ফাঁদ তৈরি করছে। আগেই বলেছি, নওগাঁসহ আম উৎপাদনকারী এই অঞ্চলগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এই জনগোষ্ঠীর নারীদের একটি বড় অংশ কৃষিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বরেন্দ্র অঞ্চলের ধাননির্ভর কৃষি অর্থনীতিতে নারীর শ্রম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বজনবিদিত। ধান উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই কৃষিশ্রমই ছিল বহু নারীর আয়ের প্রধান উৎস। একে কেন্দ্র করে নারীর সম্পদের ওপর আংশিক নিয়ন্ত্রণ, পারিবারিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চলাচলের স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু কৃষি কাঠামোর এই পরিবর্তনের ফলে নারী কৃষিশ্রমিকেরা কাজ হারাচ্ছেন। আমবাগানে নারীর শ্রমের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। আর যেহেতু আম উৎপাদন মূলত মৌসুমি, এই সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগের নিয়ন্ত্রণ মূলত পুরুষদের হাতে চলে গেছে। স্থানীয়ভাবে এমন একটি ধারণা বা বয়ান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে নারীরা এই ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তার ঝুঁকি। আমবাগানের ঘন গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের কারণে অনেক জায়গায় তুলনামূলকভাবে নির্জন ও আড়াল তৈরি হয়, যা নারীদের জন্য অনিরাপদ, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে যে কিছু এলাকায় আমবাগানকে ঘিরে যৌন হয়রানি এমনকি যৌন সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে, যা নারীদের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে।
ফলে অনেক নারী কাজের সুযোগ থাকলেও সেখানে যেতে অনাগ্রহী হন, এবং পরিবার থেকেও তাঁদের এই কাজে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিছু নারী দলবদ্ধভাবে কাজ করতে গেলেও তাঁদের মজুরিবৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়—একই ধরনের শ্রমের জন্য নারীরা পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম পারিশ্রমিক পান, এবং এই কম পারিশ্রমিক দেওয়ার পেছনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।
নারীর মজুরিবিহীন শ্রম ও ঘরের কাজে পুরুষসর্বোপরি, এই পরিবর্তনের ফলে নারীরা শুধু কাজ হারাচ্ছেন না, তাঁরা হারাচ্ছেন নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগও। নারী যেহেতু শ্রমবাজারের বাইরে চলে যাচ্ছে, এর একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব হিসেবে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক মেয়ে একা চলাচল করতে ভয় পায়, যার প্রভাব পড়ছে তাদের শিক্ষা ও চলাচলের স্বাধীনতার ওপর। ফলে অনেক এলাকায় মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইতিহাস বলে, ১৮৪৫-১৮৫২ সালের আইরিশ দুর্ভিক্ষের কারণ ছিল একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির আলু (লাম্পার)-এর একচেটিয়া চাষ। প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ মারা যায় এবং আরও বহু মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, ১৯৪৩ সালের বিখ্যাত বাংলার দুর্ভিক্ষের (বেঙ্গল ফেমিন) কারণ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রপ্তানি ও যুদ্ধের চাহিদা পূরণের চেষ্টায় কৃষিব্যবস্থায় পরিবর্তন—অনেক কৃষিজমিতে ধানের পরিবর্তে পাটের চাষ।
ইতিহাস থেকে পাঠ নিতে হবে—সাময়িক মুনাফা আবার দীর্ঘ মেয়াদে বিপদ ডেকে আনছে না তো?
মাসুমা বিল্লাহ গবেষক; উথরেক্ট ইউনিভার্সিটি, নেদারল্যান্ডসের
মতামত লেখকের নিজস্ব