হলান্ড ফিরলেন ৭৫০ ডলারের র্যাকুন কোলে নিয়ে
· Prothom Alo

কোয়ার্টার ফাইনালে হৃদয়ভাঙা বিদায়ের পরও আর্লিং হলান্ড আছেন আলোচনার কেন্দ্রেই—তবে এবার কারণটা গোল নয়, নয় কোনো রেকর্ড ট্রান্সফারের গুঞ্জনও। কারণ একটাই—হুইস্কির বোতল আঁকড়ে ধরা, ট্যাক্সিডার্মি করা এক র্যাকুন, যার দাম পড়েছে ৭৫০ মার্কিন ডলার।
১১ জুলাই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে, বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে আসা সিদ্ধান্তসূচক গোলে ভেঙে যায় নরওয়ের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। খেলার একপর্যায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হলান্ডকেও।
Visit freshyourfeel.com for more information.
কিন্তু ১৩ জুলাই অসলোর গার্ডারমোয়েন বিমানবন্দরে নরওয়ে দল যখন নামল, সাংবাদিকেরা আশা করেছিলেন ক্লান্ত, বিষণ্ণ এক দলকে দেখবেন। তার বদলে তাঁরা পেলেন রীতিমতো ভাইরাল এক মুহূর্ত। বিমান থেকে নামার সময় এক হাতে ডিজাইনার ব্যাগ, আরেক হাতে কাঠের স্ট্যান্ডের ওপর বসানো এক স্টাফড র্যাকুন কোলে নিয়ে নামলেন হলান্ড। এই ট্যাক্সিডার্মি করা র্যাকুনটির হাতে একটি হুইস্কির বোতল ধরা।
টেক্সাস থেকে শুরু গল্পের
এই অদ্ভুত সঙ্গীর গল্প শুরু হয় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পর, টেক্সাসে নরওয়ে দলের অবস্থানকালে। ৩০ জুন রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে নরওয়ে—ম্যাচটি হয়েছিল আরলিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে, যা ডালাস শহরের কাছেই। জয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে থাকা নরওয়ে দল ঘুরতে যায় ডাউনটাউন ডালাসের পরিচিত এক বুটিক দোকান, ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোরে।
কাউবয় হ্যাট, চামড়ার বুট আর পশ্চিমা সাজসজ্জার নানা সামগ্রীর ভিড়ে হলান্ডের চোখ আটকে যায় এক অদ্ভুত জিনিসে—হুইস্কির বোতল হাতে ট্যাক্সিডার্মি করা একটি র্যাকুন। আগেই এক স্ন্যাপচ্যাট ভিডিওতে দোকানের ভেতরের এ র্যাকুনটি দেখিয়েছিলেন হলান্ড।
দোকানের কর্মীদের ভাষ্যমতে, ম্যানচেস্টার সিটি তারকা সঙ্গে সঙ্গেই এই আমেরিকাঘেঁষা অদ্ভুত জিনিসটির প্রেমে পড়ে যান আর সেখানেই কিনে ফেলেন সেটি। সতীর্থরা যেখানে কিনেছেন চিরাচরিত বুট আর বেল্ট, হলান্ড বেছে নেন এই স্টাফড প্রাণীটিকেই—যা তিনি বয়ে বেড়িয়েছেন টিম হোটেল, টিম বাস, এমনকি আন্তর্জাতিক আকাশপথ পেরিয়েও। নিজের চিরচেনা ব্যক্তিত্ব অনুযায়ীই এই সঙ্গীকে লুকোনোর কোনো চেষ্টা করেননি হলান্ড। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় র্যাকুনসহ একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এটা আমার পিছু পিছু বাড়ি চলে এসেছে।’
ট্যাক্সিডার্মি কী?
ট্যাক্সিডার্মি (Taxidermy) হলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় কোনো মৃত প্রাণীর চামড়া সংরক্ষণ করে সেটিকে জীবন্তের মতো আকৃতিতে প্রদর্শনের শিল্প। জাদুঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত সংগ্রহ কিংবা অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় এ ধরনের সংরক্ষিত প্রাণী ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে এগুলোকে স্টাফড অ্যানিমেল বলা হয়।
র্যাকুনের নাম কী হবে? সিদ্ধান্ত নেবেন ভক্তরাই
ভাইরাল হওয়া র্যাকুনটিকে ঘিরে আলোচনার রেশ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভোটের আয়োজন করে তিনি ভক্তদের কাছেই জানতে চেয়েছেন, নতুন এই সঙ্গীর নাম কী হওয়া উচিত।
ভোটে রাখা হয়েছে টেক্সাস-অনুপ্রাণিত চারটি নাম—কাউবয় (Cowboy), রেঞ্জার (Ranger), টেক্স (TEX) এবং R.O.W. (Raccoon on Wheels)। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত R.O.W.-ই সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
‘হলান্ড ইফেক্ট’ আর দোকানের বিক্রি
ছবি ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারেও। ওয়াইল্ড বিলস স্টোরে থাকা তাদের ট্যাক্সিডার্মি সংগ্রহ পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যায়, ভক্তরা হুড়োহুড়ি করে কিনতে চান হলান্ডের সেই ৭৫০ ডলারের ‘হুইস্কি র্যাকুন’-এর প্রতিরূপ। দোকানের ওয়েবসাইটে এখন সেটি ‘সোল্ড আউট’ দেখাচ্ছে।
মাঠের বিশ্বকাপে নরওয়ের গল্পটা থেমে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালেই—তবে দলের ইতিহাসে এই প্রথমবার এই ধাপ পর্যন্ত ওঠা, ব্রাজিলকে হারিয়ে অঘটন ঘটানো আর হলান্ডের একের পর এক গোল মিলিয়ে টুর্নামেন্টটা মনে রাখার মতোই কেটেছে নরওয়ের জন্য। তবে সেসব ছাপিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তের লড়াইয়ে হলান্ড আর তার র্যাকুন সঙ্গীই যেন এগিয়ে গেলেন একরকম নিরঙ্কুশ জয় নিয়েই।
ছবি: ইন্টাগ্রাম