কোথায়, কতটি দরকার, ‘স্কুল ম্যাপিং’ জরুরি
· Prothom Alo
মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে এর সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে মডেল বা অন্য নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। তাই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগে সারা দেশের বিদ্যমান স্কুলগুলোর একটি সমন্বিত ‘স্কুল ম্যাপিং’ করা জরুরি।
Visit amunra-opinie.pl for more information.
অর্থাৎ কোথায় কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন—সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ থাকতে হবে। সরকারের নিজস্ব নীতিমালায় নির্ধারণ করা আছে, নির্দিষ্ট দূরত্ব ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে কোথায় কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে বা হতে পারে না। এমপিওভুক্তির (মান্থলি পে–অর্ডার) সময় এই নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। যদিও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না।
ক্যাডেট কলেজের আদলে হবে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানঅতীতেও দেখা গেছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই, সেখানেও যত্রতত্র গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের প্রভাব-প্রতিপত্তিও কাজ করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, যেখানে সত্যিই প্রয়োজন, সেখানেই এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা উচিত। মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে কোথায় এবং কতটি প্রয়োজন, তা ‘ম্যাপিংয়ের’ তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। এমন যেন না হয় যে যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে প্রতিষ্ঠান হচ্ছে; আবার যেখানে প্রয়োজন, সেখানে হচ্ছে না।
দেশে এমন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলোকে সামান্য যত্ন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব। এতে জনগণের অর্থেরও সাশ্রয় হবে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক—নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, সেখানে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন করলে হয়তো ৫০ কোটি টাকাই যথেষ্ট। কোনো প্রতিষ্ঠানকে এভাবেও উন্নত করা সম্ভব, সেটিও স্কুল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা যেতে পারে।
যেহেতু মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলো সংসদীয় আসনভিত্তিক এলাকায় স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাই এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাত যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতাও অনুসরণ করা যায়। সেখানে যেসব বিদ্যালয়ের পাবলিক পরীক্ষার ফল খারাপ হয়, সেগুলোকে নিবিড় পরিচর্যা ও বিশেষ সহায়তার মাধ্যমে উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমাদেরও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে উন্নয়নের আওতায় আনা উচিত। স্কুল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সেই চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
যেহেতু মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলো সংসদীয় আসনভিত্তিক এলাকায় স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাই এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাত যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি বা এ ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকা উচিত হবে না। তবে এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতি তদারকিতে ভূমিকা রাখতে পারেন; কিন্তু সরাসরি ব্যবস্থাপনায় তাঁদের সম্পৃক্ত থাকা উচিত নয়।
সর্বোপরি এসব প্রতিষ্ঠানের মান ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই মডেল প্রতিষ্ঠান হবে।
রাশেদা কে চৌধূরী: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা