‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ থেকে গ্লোবাল ফ্যাশন আইকন: তৃপ্তি দিমরির সাফল্য, স্টাইল ও সংগ্রামের গল্প
· Prothom Alo

বলিউডে সাফল্যের গল্প অনেক আছে, তবে কিছু যাত্রা আলাদা করে নজর কাড়ে। কারণ সেখানে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, থাকে নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াই, ধৈর্য আর নিজের প্রতি বিশ্বাস। তেমনই এক গল্প অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরির। একসময় যিনি ছিলেন নতুন মুখ, আজ তিনিই হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতের আলোচিত নাম।
Visit rouesnews.click for more information.
ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের-এর প্রথম ভারতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন তৃপ্তি দিমরি। তার কাছে এই মুহূর্ত শুধু একটি বড় অর্জন নয়, বরং নিজের দীর্ঘ যাত্রার এক বিশেষ স্বীকৃতি। ৯ এপ্রিল ২০২৬ ভারতীয় ফ্যাশন ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেন তৃপ্তি দিমরি। ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের প্রথম ভারতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে বিশ্ব মঞ্চে নিজের জায়গা করে নেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের মতো একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে তিনি দূর থেকে দেখেছেন। সেই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তার কাছে ছিল অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি।
তার মতে, এই অর্জন তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে। নিজের মতো থাকা এবং নিজের পথকে বিশ্বাস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের কাছেও এটি ছিল গর্বের একটি মুহূর্ত, কারণ একজন ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে বিশেষ।
খ্যাতি নয়, অভিনয়ই ছিল প্রথম লক্ষ্য
অ্যানিমেল ছবির পর রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তৃপ্তি দিমরি। দর্শকের ভালোবাসায় তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের নতুন সেনসেশন। তবে তৃপ্তির কাছে জনপ্রিয়তা কখনোই মূল লক্ষ্য ছিল না। তিনি মনে করেন, ভালো কাজের ফল হিসেবেই খ্যাতি আসে। তাই তার মনোযোগ সবসময় থেকেছে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও উন্নত করা, নতুন চরিত্রে নিজেকে পরীক্ষা করা এবং প্রতিনিয়ত শেখার দিকে।
ব্যর্থতাই দিয়েছে শক্তি
View this post on Instagram
সাফল্যের পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। এ কথা স্বীকার করেছেন তৃপ্তি নিজেই। ক্যারিয়ারের কঠিন সময়গুলোতে অনেকবার নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে হয়েছে তাকে। কিন্তু সেই ব্যর্থতাগুলোই তাকে আরও ধৈর্যশীল করেছে।
তার বিশ্বাস, জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মানুষকে আরও শক্ত করে তোলে। তাই তিনি তরুণদের জন্য একটি সহজ বার্তা দিয়েছেন। নিজের কাজ করে যেতে হবে, সময়ের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
ফ্যাশন মানেই নিজের পরিচয়
ফ্যাশন নিয়ে তৃপ্তির ভাবনাও বেশ স্বতন্ত্র। তার কাছে ফ্যাশন শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ করার বিষয় নয়, বরং নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি মাধ্যম। তিনি এমন পোশাক পছন্দ করেন যেখানে স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মবিশ্বাস দুটোই থাকে। তার স্টাইলকে বলা যায় সহজ, পরিশীলিত এবং স্বাভাবিক। যেখানে বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় নিজের অনুভূতি।
ফিটনেসে কঠোরতা নয়, ধারাবাহিকতা
View this post on Instagram
তৃপ্তির ফিটনেস দর্শনও তার জীবনের ভারসাম্যের মতোই। তিনি নিয়মিত স্ট্রেন্থ ট্রেনিং ও পিলাটেস করেন, তবে শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে রুটিন সবসময় একই থাকে না। তার মতে, নিখুঁত হওয়ার চেয়ে নিয়মিত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি অতিরিক্ত কড়াকড়িতে বিশ্বাসী নন। ঘরোয়া খাবার তার পছন্দ হলেও মাঝে মাঝে চাট কিংবা গোলগাপ্পার মতো পছন্দের খাবার উপভোগ করতেও তিনি পিছপা হন না। শৈশবের প্রিয় খাবার চেইনসু ভাত তার কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা ধরে রেখেছে।
আলো থেকে দূরে নিজের মতো থাকা
View this post on Instagram
ক্যামেরার সামনে যতটা আত্মবিশ্বাসী তৃপ্তি, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ততটাই শান্ত থাকতে পছন্দ করেন। দিনের শুরুতে কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কাটানো, ফোন থেকে দূরে থাকা। এগুলোই তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।
পেছনে ফিরে তাকালে তিনি মনে করেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে যদি আজকের অভিজ্ঞতা থাকত, তাহলে হয়তো নিজের ওপর আরও বেশি বিশ্বাস রাখতেন। তবে অতীতের প্রতিটি অভিজ্ঞতাই তাকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
তৃপ্তি দিমরির গল্প শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়, বরং নিজের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং ধৈর্যের গল্প। বলিউড থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চ তার যাত্রা প্রমাণ করে, নিজের পথে স্থির থাকলে সাফল্য একদিন ঠিকই দরজায় কড়া নাড়ে।