সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ
· Prothom Alo

সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’–এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে অবিলম্বে তাঁর মুক্তিও দাবি করেছে।
Visit bettingx.bond for more information.
আজ শনিবার সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ ও দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের জেরে দায়ের করা মামলায় রেজানুর ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এ ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার পাওয়ার জন্য দেশে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারেন, একইভাবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করে প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু এ ঘটনায় একজন সাংবাদিকের করা মামলায় আরেকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির এমন প্রবণতা দেখা গেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বর্তমান ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই উদ্বেগজনক ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটল বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ।
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে হওয়া মামলায় সাংবাদিক কারাগারেসংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী করার প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, বগুড়ার এ ঘটনা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান ১৫২তম অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার অবনতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায়, বিশেষত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রতিকার ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।