রাজশাহীতে খাবার দিতে দেরি হওয়ায় রেস্তোরাঁয় হামলা–ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশ সদস্য আহত
· Prothom Alo

রাজশাহীতে খাবার দিতে দেরি হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর এবং পরপর কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে নগরের বিনোদপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
আহত ব্যক্তির নাম মো. ফয়েজ। তিনি নগরের মতিহার থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। ককটেলের বিস্ফোরণে তিনি পায়ে আঘাত পান। তাঁকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমজান বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিনোদপুরে বাংলা টিফিন নামের ওই রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে যান রমজান। খাবার দিতে দেরি হওয়ায় হোটেলের এক কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছু সময় পর রমজানের অনুসারীরা ছুরি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিনের পাশাপাশি একই মালিকের আরেকটি রেস্তোরাঁয় (বঙ্গভোজ) হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ও রেস্তোরাঁর কর্মীদের লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০–৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে রেস্তোরাঁটি ভাঙচুর করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ দলটি এসে বাংলা টিফিনে ভাঙচুর শুরু করে। তাঁদের হাতে লাঠি, ছুরি ও চাপাতি ছিল। পরে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজের স্বত্বাধিকারী মুর্শেদ শাকিল বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। আপাতত রাজশাহীর বাইরে আছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রমজানের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত আছে জানিয়ে নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, ‘রমজানকে প্রথমে এক প্যাকেট পার্সেল খাবার দেওয়া হয়। পরে আরেকটি প্যাকেট দিতে ২০ মিনিট সময় লাগবে জানালে রমজান উত্তেজিত হয়ে তর্কে জড়ান। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। এর মধ্যেই তাঁর লোকজন দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালান।’
ওসি আরও বলেন, পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া রেস্তোরাঁর মালিকও হামলার ঘটনায় পৃথক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হলে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।