সুইডেন ভ্রমণ: নীল জল, সবুজ বন আর ইতিহাসের মেলবন্ধন
· Prothom Alo

২৭ এপ্রিল ২০২৬। ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম বহুল পরিকল্পিত সামার ভ্যাকেশন কাটাতে যাওয়ার জন্য—অন্য রকম একটা অনুভূতি নিয়ে। আমি, আমার মেয়ে ও তার মায়ের মুখে এক অন্য রকম আনন্দে বিমোহিত সুখ। সকাল ৭টায় বের হয়ে ফ্রাঙ্কফুর্ট সেন্ট্রাল রেলস্টেশন হয়ে কোলন এয়ারপোর্টের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। গন্তব্য আমাদের স্টকহোম আরল্যান্ডা এয়ারপোর্ট হয়ে সুইডিশ প্রবাসী বন্ধু শাহাদাত হোসাইনের বাসা।
অবশেষে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আমরা কোলন এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম। এয়ারপোর্টে ঢুকেই মেয়ের মুখের হাসি দেখে যে দারুণ আনন্দ পেলাম, তা অনন্য। অবশেষে বিকেল ৫টায় স্টকহোমের আরল্যান্ডায় আমরা পৌঁছালাম। বিমানের ওপর থেকে আমাদের হাতছানি দিচ্ছিল হাজার দ্বীপ আর হ্রদের, আলফ্রেড নোবেলের দেশ সুইডেন। স্টকহোম আরলান্ডা এয়ারপোর্টে বিমান অবতরণের মুহূর্তটি যেন এক জলরঙের ছবি হয়ে আছে মনে। যখন মেঘের স্তর ভেদ করে বিমানটি নিচে নামতে শুরু করে, তখন নিচে মেলে ধরা সুইডেনের রূপ দেখে মনে হলো কোনো নিপুণ শিল্পী পরম মমতায় তার ক্যানভাস সাজিয়েছেন। বিমানের জানালা দিয়ে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়েছে অগণিত সবুজ পাইনগাছের বন, যা একটি ঘন মখমলের চাদরের মতো পুরো ভূখণ্ডকে ঢেকে রেখেছে। এই গহন অরণ্যের বুক চিরে মাঝে মাঝেই উঁকি দেয় নীলাভ লেক আর স্বচ্ছ জলাশয়। এই দৃশ্য যেমন সজীব, তা তেমনই মায়াবী। নিচে তাকালে দেখা যায় ছোট ছোট লাল রঙের কাঠের বাড়ি, যা সুউচ্চ বনের মাঝে যেন লাল টিপের মতো জ্বলজ্বল করছে। বিমান যখন রানওয়ের খুব কাছাকাছি চলে আসে, তখন চারপাশের শৃঙ্খলিত ও পরিচ্ছন্ন প্রকৃতি দেখে মনে হয় এটি কেবল একটি বন্দর নয়, বরং এক শান্তিময় উদ্যান। আরল্যান্ডায় ল্যান্ড করার এই মুহূর্তটি আসলে যান্ত্রিক কোনো প্রক্রিয়া নয়, বরং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান প্রকৃতির স্নিগ্ধতার সঙ্গে এক নীরব পরিচিতি।
Visit betsport.cv for more information.
এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের গন্তব্য সুইডেনের নরশপিং শহর, যেখানে আমাদের জন্য গভীর আগ্রহে অপেক্ষারত বন্ধু শাহাদাত। রাত নয়টায় আমরা পৌঁছে গেলাম নরশপিং রেলস্টেশনে। শাহাদাত, তার স্ত্রী এবং মায়ের উষ্ণ আপ্যায়নে আমরা ধন্য হলাম। রাতে চমৎকার ডিনার শেষে হালকা গল্পগুজব করে আমরা শুয়ে পড়লাম।
পরের দিন আমাদের গন্তব্য ছিল ভাসাপার্কেন (Vasaparken), নরশপিং (Norrköping), লিংকশপিং ইউনিভার্সিটি (Linköping University) নরশপিং ক্যাম্পাস ও লিন্ডো (Lind) বিচ। শাহাদাত প্রথমে আমাদের নিয়ে গেলেন ভাসাপার্কে চেরি ব্লোসম উপভোগ করতে। বিশাল পার্ক! কবরস্থানের মাঝ দিয়ে রয়েছে সারি সারি অসংখ্য চেরিগাছ। দূর থেকে যে কাউকেই এই চেরি ব্লোসম আকৃষ্ট করবে। এরপর আমরা দেখতে গেলাম লিংকশপিং ইউনিভার্সিটির নরশপিং ক্যাম্পাস, যেখানে শাহাদাত পড়াশোনা করেছে। অসাধারণ এক ক্যাম্পাস! যার দুপাশ দিয়ে বয়ে গেছে জলধারা, দেখে মনে হয় যেন ভেনিসের প্রতিচ্ছবি। পানির কুলকুল শব্দ সহজেই আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমার মেয়ে ও তার মায়ের মুখে শুধু উচ্চারিত হচ্ছিল—ওয়াও, অনেক সুন্দর! সুইডেনের লিংকশপিং ইউনিভার্সিটির (LiU) নরশপিং ক্যাম্পাস তার অনন্য সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক অবস্থানের জন্য পরিচিত। এই ক্যাম্পাসটি সরাসরি মোতালা নদীর তীরে অবস্থিত। নদীর কলতান এবং এর চারপাশের শান্ত পরিবেশ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পুরো এলাকাটি জলপ্রপাত এবং পুরোনো ইটের স্থাপত্য দিয়ে ঘেরা, যা সুইডেনের অন্যতম সুন্দর ক্যাম্পাস হিসেবে বিবেচিত।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp;@;prothomalo.com
তারপর ছুটে গেলাম লিন্ডো বিচে, যা বাল্টিক সাগরের একটি অংশ। সেখানে যাওয়ার পথটি ছিল অসাধারণ। শাহাদাত বলছিল, এখানে মূলত মিলিওনিয়ারদের বসবাস। নিস্তব্ধতা আর ফুলে ফুলে সাজানো বাড়িগুলো উন্নত রুচিশীলতার পরিচয় দিচ্ছিল। ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় আমরা লিন্ডো বিচে পৌঁছালাম। গাড়ি পার্কিংয়ের পাশেই রয়েছে একটি চমৎকার পার্ক। বাচ্চার দৃষ্টি সেদিকে পড়তেই সে আর পার্ক থেকে বের হতে চাইছিল না। সৈকতটি তার শান্ত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং গ্রামীণ পরিবেশের আমাদের মুগ্ধ করেছে। এটি ঘন জঙ্গল, মেঠো পথ এবং পাথুরে তীরের এক অপূর্ব মিশ্রণ, যা পরিবার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। এখানে স্বচ্ছ জল এবং পাথুরে তীরের পাশাপাশি সুন্দর বালুকাময় সৈকত রয়েছে। পাহাড়, বিশাল জলরাশি, পানিতে ভাসমান বোট আর সাজানো-গোছানো বিচের সৌন্দর্য যে কাউকে বিমোহিত করবে। সন্ধ্যা নেমে এলে আমরা বাসায় ফিরে গেলাম।
তৃতীয় দিনে আমরা নরশপিং থেকে সুইডেনের ঐতিহাসিক গোটা খাল (Göta Canal) দেখতে গেলাম। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে ‘সুইডেনের নীল ফিতা’ (Blue Ribbon of Sweden) হিসেবে পরিচিত। গোটা খাল প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা সুইডেনের মনোরম গ্রাম, ঘন সবুজ বন এবং হ্রদের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। খালের দুই পাশে থাকা গাছপালা, পাহাড়, আদিম প্রকৃতি এবং শান্ত পরিবেশ আামাদের এক স্নিগ্ধ অনুভূতি দিয়েছে। এই খালে মোট ৫৮টি লক বা জলকপাট রয়েছে, যা নৌকাগুলোকে বিভিন্ন উচ্চতায় উঠতে বা নামতে সাহায্য করে। এই লক সিস্টেম আমাদের এক দারুণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। খালের বুক চিরে নৌকায় বা ক্রুজে ভ্রমণ করার দুপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার আনন্দই আলাদা হতে পারে, যা আমরা মিস করেছি। খালের পাড় ঘেঁষে তৈরি করা ধুলাবালুর পথে সাইকেল চালানো বা হাঁটা খুবই জনপ্রিয় ।সামগ্রিকভাবে গোটা খাল যান্ত্রিকতা থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে সময় কাটানোর জন্য একটি আদর্শ স্থান বলা যেতে পারে।
স্টকহোম-দ্য রয়েল প্যালেসএর পরের দিন আমাদের পুনরায় গন্তব্য স্টকহোম। লক্ষ্য আমাদের দুইটি দিন স্টকহোমের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া। ‘পানির ওপর সৌন্দর্য’ বা ভেনিস অব দ্য নর্থ নামে পরিচিত, স্টকহোম ১৪টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এক অপূর্ব শহর। ইতিহাস, আধুনিকতা এবং প্রকৃতির অপূর্ব সংমিশ্রণ এই শহর ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য। সকাল ৯টায় বন্ধু শাহাদাত গাড়ি করে নরশপিং রেল স্টেশনে পৌঁছে দেয়। নরশপিং বেশ শান্ত শহর। মানুষের কোলাহল তেমন একটি নেই বললে চলে। ঠিক সকাল ৯টা ৫৫–এ স্টকহোমগামী বুলেট ট্রেনে উঠলাম। ট্রেন চলছে এর একের পর এক স্টেশন ছেড়ে আর আমাদের চোখে পড়েছে ছোট–বড় অসংখ্য লেক, পাথরের বিশাল বিশাল স্তূপের পাহাড়। সুইডিশ ট্রেনটি যখন নরশপিং থেকে বের হয়ে স্টকহোমের দিকে যেতে থাকে তখন সুইডেনের বিখ্যাত ঘন পাইন এবং বার্চগাছের বন এবং খোলা মাঠ দেখতে পাই। সুইডেনের গ্রামাঞ্চলের মনোরম দৃশ্য, যেখানে ছোট ছোট লাল রঙের কাঠের বাড়ি এবংঅসংখ্য পশুপালনের খামার দেখাছি। বিশেষ করে স্টকহোমের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময়, রেললাইনটি মে লারেন (Lake Mälaren) হ্রদের কাছাকাছি দিয়ে চলে, যা পানির মনোরম দৃশ্য তৈরি করে। অবশেষে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের যাত্রা শেষে আমরা পৌঁছে যাই স্ক্যান্ডেনেভিয়ার সবচেয়ে বড় শহর স্টকহোমে।
নেমেই দ্রুত আমরা দুপুরের লাঞ্চ সেরে চলে গেলাম সিটি সেন্টারে পথ ধরে সুইডেনের হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক দ্য রয়েল প্যালেসে। এইটি মূলত সুইডেনের রাজার অফিশিয়াল বাসভবন এবং ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাণবন্ত রাজপ্রাসাদ। এইটি ওল্ড টাউন বা গামলা স্ট্যান (Gamla Stan) এলাকায় অবস্থিত। এটি শুধু রাজকীয় বাসস্থানই নয়, বরং রাজকীয় সংবর্ধনা ও দাপ্তরিক কাজের প্রধান স্থানও বটে। এটি ১৭০০ শতাব্দীতে ইতালীয় বারোক (Baroque) শৈলীতে নির্মিত, যা তার বিশালতা এবং গাম্ভীর্যের জন্য পরিচিত। এই প্রাসাদে ৬০০টির বেশি কক্ষ রয়েছে, যা ১১টি তলায় বিভক্ত। পর্যটকদের জন্য এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে যেমন রয়্যাল ট্রেজারি, রাজকীয় মুকুট এবং রত্ন ভান্ডার,অস্ত্রাগার, রাজকীয় পোশাক এবং বর্মের প্রদর্শনী। এখানে আমাদের কাছে মজাদার মনে হয়েছে চেঞ্জিং অব দ্য গার্ড বা প্রহরী বদল অনুষ্ঠানটি। মূলত রাজপ্রাসাদটি বাল্টিকের সংযোগস্থলে নির্মিত। রাজপ্রাসাদের ওপর থেকে নিচের নদীর মোহনা রাজপ্রাসাদটিকে দান করেছে অন্য রকম প্রাকৃতিক আভিজাত্য।
নোবেল পুরস্কারসারা দিন আমরা স্টকহোমের ওল্ড টাউনে ঘুরে ক্লান্ত শরীরে সরাসরি হোটেল পৌঁছালাম। হোটেলে যাওয়ার পথে চোখে পড়ল অসংখ্য টানেল এবং টানেলর দৈর্ঘ্য ও গভীর আমাদের ধারুণভাবে অবাক করেছে।
সুইডেন ভ্রমণে শেষের দিন আমাদের প্ল্যান ছিল সুইডেনের স্টকহোমের ঐতিহাসিক গামলাস্টান (Gamla Stan) এলাকায়, ১৮০০ শতকের পুরোনো স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে অবস্থিত নোবেল পুরস্কার মিউজিয়াম (Nobel Prize Museum)। ১৬০ ক্রোনা করে দুটি টিকিট নিয়ে বেলা ১১টায় আমরা ঢুকে পড়লাম। তবে খুবই মজাদার বিষয় হলো নদীর পাড় থেকে মিউজিয়াম পর্যন্ত রাস্তাটি ছিল বেশ চমৎকার, পুরোনো স্থাপত্যে বিদ্যার প্রবহমান সাক্ষী। মিউজিয়ামটি বেশ বড় নয় তবে এখানে নোবেল বিজয়ী, তাঁদের উদ্ভাবনী কাজ এবং আলফ্রেড নোবেলের জীবন ও ইতিহাসকে তুলে ধরে ধরা হয়েছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি নোবেল পুরস্কারের শতবর্ষ উদ্যাপনের অংশ এবং এটি ‘আইডিয়া বা ধারণাই পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে’—এই থিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। এখানে ২৫০টির বেশি নোবেল বিজয়ীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং তাঁদের কাজের নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলফ্রেড নোবেলের আসল পেটেন্ট ডকুমেন্ট, অস্কারের জন্য নোবেলের উইল, পেনিসিলিন আবিষ্কারের ছাঁচ এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের ব্যবহৃত গোলাপি ওড়না, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ত্রাণ বিতরণের বস্তাসহ নানা নিদর্শন রয়েছে।
লিংকোপিং ইউনিভার্সিটি-নরকোপিং ক্যাম্পাসএখানে নোবেলজয়ীদের ব্যক্তিগত গল্প, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার (যেমন লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, রেডিয়ো তরঙ্গ), সাহিত্য এবং অর্থনীতির জগতের অসাধারণ কৃতিত্বের ইতিহাস রয়েছে। জাদুঘরে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিজয়ীদের সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে এখানে। মিউজিয়াম ঢুকতে হাতের ডান পাশে রয়েছে আলফ্রেড নোবেলে প্রতিকৃতি, যেটি মূলত দর্শনার্থীদের ছবি তোলার জন্য রাখা হয়েছে, ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখা হয়েছে বিশাল কালো পর্দা। তার পাশেই রয়েছে বেশ কিছু নোবল পুরস্কার, যা দেখে আমাদের বেশ উৎফুল্ল মনে হয়েছে। রয়েছে দুই প্রদর্শনী রুম যেখানে বড় ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করা হচ্ছিল নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস বৃত্তান্ত।
আরও রয়েছে নোবেল পুরস্কারের অনুষ্ঠানে পরিধানের পোশাক একটি ছোট রেস্তোরাঁ ও লাইব্রেরি যেখানে বিভিন্ন ধরনের রেপলিকা কেনা যায়। এই মিউজিয়ামটি নোবেলজয়ীদের সাহস, সৃজনশীলতা এবং অধ্যবসায়ের গল্প তুলে ধরার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। বেশ তৃপ্তিসহকারে মিউজিয়ামটি আমরা পরিদর্শন করলাম। আর এইটি পরিদর্শন শেষ আমরা সোজা এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা হলাম। আর এভাবেই আমাদের সুইডেন ভ্রমণের গল্প শেষ হলো আর অর্জিত হলো নানা অভিজ্ঞতা।