নদী, চর আর সবুজ মাঠে বিকেলের অবসর
· Prothom Alo
একদিকে যমুনার বিস্তীর্ণ জলরাশি, অন্যদিকে সবুজ ফসলের মাঠ আর গ্রামীণ জনপদ। মাঝখান দিয়ে কংক্রিটের ব্লক বসানো হাঁটার পথ। বিকেল নামলেই নদীর খোলা হাওয়া উপভোগ করতে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের পেঁচাকোলা নৌঘাট এলাকায় যমুনা নদীর বাঁধানো পাড় এখন ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
Visit biznow.biz for more information.
যমুনা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় পেঁচাকোলা নৌঘাটসংলগ্ন কয়েক কিলোমিটার এলাকা বাঁধানো হয়েছে। এর মধ্যে ঘাটের আশপাশের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ বিশেষভাবে মনোরম। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে এই এলাকার সৌন্দর্য আরও বাড়ে। ফলে এটি বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থানে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে সময় কাটান, কেউ হাঁটাহাঁটি করেন, কেউ ছবি তোলেন। অনেকে আবার শিশুদের নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুটা সময় উপভোগ করেন।
পেঁচাকোলা ঘাটের ঠিক ওপারেই আছে সবুজে ঘেরা একটি চর। খেয়ানৌকায় জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই সেখানে পৌঁছানো যায়। তাই অনেক দর্শনার্থী বাঁধানো পাড়ে সময় কাটানোর পাশাপাশি নৌকায় চড়ে চরেও ঘুরে আসেন। নদী, চর ও ফসলের মাঠ মিলিয়ে পুরো এলাকাটি যেন প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।
দর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে ২০ থেকে ২৫টি খাবারের দোকান। চটপটি, ফুচকা, ছোলা, বাদাম, ঝালমুড়ি, চা ও বিভিন্ন পানীয় বিক্রি হয় এসব দোকানে। এতে স্থানীয় ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পেঁচাকোলা নৌঘাট এলাকায় চায়ের দোকান দিয়েছেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার বিকেলে ভিড় বাড়ে। এতে আমাদের দোকানের বেচাকেনাও ভালো হয়।’ চটপটির দোকানদার হাসান আলী বলেন, ‘এই বাঁধানো পাড়ে এখন নিয়মিত মানুষ ঘুরতে আসেন। নদীর পরিবেশ উপভোগ করতে অনেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকেন। এতে আমাদের আয়ও হচ্ছে।’
বেড়া পৌর এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ওমর সরকার বলেন, ‘এই জায়গাটা খুব সুন্দর। নদীর পাড়ে বসলে মনটা ভালো হয়ে যায়। শহরের ভিড়ভাট্টা থেকে বের হয়ে এখানে কিছু সময় কাটাতে ভালো লাগে।’ সাঁথিয়া উপজেলা থেকে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনার পাড়, নদীর বাতাস আর ওপারের চর, সব মিলিয়ে জায়গাটা খুব ভালো লাগে। কাছেই এমন সুন্দর জায়গা থাকাটা আমাদের জন্য আনন্দের।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সেল্টু মিয়া বলেন, ‘যমুনার বাঁধানো পাড়, পাশের চর আর ফসলের মাঠ মিলিয়ে এই জায়গাটি এখন এলাকার মানুষের কাছে বিনোদনের সুন্দর একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ পরিবার নিয়ে এখানে বেড়াতে আসছেন, নদীর খোলা হাওয়ায় সময় কাটাচ্ছেন। নিজের এলাকায় এমন একটি মনোরম জায়গা থাকায় আমরা গর্বিত। স্থানটি আরও পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে সাজানো হলে এটি মানুষের আরও আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।’