‘টিচ ইউ আ লেসন’ নিয়ে বিতর্ক কেন, সিরিজটিতে কী আছে
· Prothom Alo

মুক্তির আগেই ব্যাপক আলোচনায় ছিল নেটফ্লিক্স কোরিয়ার সিরিজ ‘টিচ ইউ আ লেসন’। অবশেষে আজ শুক্রবার সিরিজটি পর্দায় এসেছে।
সিরিজটিতে দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে গড়ে ওঠে একটি বিশেষ সংস্থা। অ্যাকশন ও সামাজিক বার্তার মিশেলে সিরিজটি নির্মিত হয়েছে।
Visit chinesewhispers.club for more information.
সিরিজটি নিয়ে বিতর্ক কেন? বিতর্কের মূলে রয়েছে ওয়েবটুন ‘গেট স্কুলড’, ওয়েবটুনটি অবলম্বনে সিরিজটি নির্মিত হয়েছে।
২০২০ সালে শুরু হওয়া এই ওয়েবটুন শুরু থেকেই বিতর্কে জড়ায়। এতে এক কৃষ্ণাঙ্গ মিশ্র–জাতির শিক্ষার্থীকে সহিংস চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়, ওয়েবটুনের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তোলেন সমালোচকেরা।
পাশাপাশি বিভিন্ন গল্পে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া ও প্রকাশ্যে অপমান করার দৃশ্য থাকায় এটিকে সহিংসতা ও শারীরিক শাস্তিকে উৎসাহিত করার অভিযোগও করা হয়।
‘টিচ ইউ আ লেসন’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স২০২৩ সালে তীব্র সমালোচনার মুখে ওয়েবটুনটি নেভারের উত্তর আমেরিকান প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় এটি তখনো চালু ছিল।
এই বিতর্কিত উপাদান থাকা সত্ত্বেও ওয়েবটুনটি সিরিজ নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে পরিচালক হং জং–চ্যান বলেন, তিনি মূল কাজটির বিতর্ক সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।
সিউলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক বলেন, ‘আমরা গল্পটিকে আরও পরিশীলিতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি এবং অর্থবহ কিছু তৈরি করতে চেয়েছি।’
পরিচালকের মতে, ওয়েবটুনের বিতর্কিত দিক নয়; বরং এর মূল ধারণাই তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর একটি কল্পিত ব্যবস্থা, এ ভাবনাটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচালক আরও বলেন, ‘আমি নিজে স্কুলজীবনের অভিজ্ঞতা পেয়েছি, এখন আমার সন্তানদেরও সেই পথ পাড়ি দিতে দেখি। শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা আমরা প্রায়ই খবরের মাধ্যমে দেখি। এই সিরিজ মানুষকে ভাবতে বাধ্য করবে, আমরা ব্যক্তিগতভাবে কী করতে পারি।’
সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র না হোয়া–জিনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কিম মু–ইয়ল। তিনি একজন সাবেক বিশেষ বাহিনীর সদস্য। তিনি পরে শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের সমস্যা তদন্তে যুক্ত হন এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন।
কিম মু–ইয়ল বলেন, না হোয়া–জিন এমন একজন মানুষ, যিনি শুধু অন্যের কষ্ট বোঝেন না; বরং ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও রাখেন। তাঁর ভাষায়, ‘এই চরিত্র দায়িত্ব নেয় এবং নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে। দর্শক এমন একজন নায়ককেই দেখতে চায়, যাকে সমর্থন করা যায়।’
কিম মু–ইয়ল আরও বলেন, গল্প যত এগোবে, চরিত্রটির আরও মানবিক ও জটিল দিক ধীরে ধীরে প্রকাশ পাবে।
কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে
‘টিচ ইউ আ লেসন’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স