বাগেরহাটে কৃষক দল নেতা হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতের ৩ কার্যালয় ভাঙচুর

· Prothom Alo

বাগেরহাটের কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল খুনের পর জামায়াতে ইসলামীর তিনটি স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আজ বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বারুইপাড়া বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বারুইপাড়া জামায়াতে ইসলামী কার্যালয় ও শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

Visit tr-sport.bond for more information.

এ ছাড়া ভোরে আড়পাড়া গ্রামে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় ভাঙচুর করেন একদল লোক।

জামায়াতে ইসলামী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা ওই হামলার সঙ্গে জড়িত। তাঁরা জামায়াতের নেতা–কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফকিরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক ও আধিপত্যে’র জের বলে আখ্যা দিয়ে জামায়াতকে দায়ী করেছেন বিএনপির নেতারা।

বারুইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বারুইপাড়া বাজারে আমাদের দুটি অফিসে। একটি শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের অফিস, আরেকটি জামায়াতের। আজ বেলা দেড়টা–দুইটার দিকে বিএনপির একদল নেতা–কর্মী এসে ওই দুটি অফিসই ভেঙে তছনছ করে। হামলার আগে আমাদের অফিসের বিপরীতে থাকা একটি এজেন্ট ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে তারা। আর গত রাতে বাদল ভাইকে হত্যার পর একদল লোক আড়পাড়ার জামায়াতের কার্যালয়টি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে দেয়।’

শেখ মো. মহিউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমাদের উভয় দলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আছে। কিন্তু এমন কোনো বিরোধ নেই। ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। একটা মানুষ মারা যাওয়ার পর তো আর কিছুই থাকে না। আমরা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চাই। এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে এখন তারা আমাদের নেতা–কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।’

এদিকে আজ দুপুরে বারুইপাড়া বাজারে হত্যার প্রতিবাদ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ সময় ‘জামায়াত–শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘খুনিদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, ‘গতকাল রাতে সামান্য কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে আজ কোথাও কোনো ভাঙচুর বা সহিংসতা হয়নি। আমরা নেতা–কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি, কেউ কোনো প্রকার আইনবিরোধী কাজ করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনবে।’

জানতে চাইলে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি শামসুল আরেফিন বলেন, ‘ভাঙচুরের কথা আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানাজা শেষে সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

কৃষক দল নেতার দাফন সম্পন্ন
আজ বিকেলে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত কৃষক দল নেতা বাদলের দাফন করা হয়েছে। জানাজায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান (আলম), যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম (গোরা), জেলা কৃষক দলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েল প্রমুখ অংশ নেন।

দৃষ্টান্তমূলক বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে এই বর্বরোচিত ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধের সঙ্গে জড়িত সব সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে।’

Read full story at source